বছরে সাপের কামড়ে আক্রান্ত ৭ লাখ, মৃত্যু ৬ হাজার

অনলাইন ডেস্ক;
  • প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২:০৩ অপরাহ্ণ | আপডেট: ১ মাস আগে
ছবি সংগৃহীত

দেশে প্রতি বছর ৭ লাখ মানুষ সাপের কামড়ের আক্রান্ত হোন। এতে মারা যান ৬ হাজার মানুষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাপের কামড়ে আক্রান্ত হওয়ার পর অনেকেই ঝাড়ফুঁক ও ওঝার কাছে নিয়ে সময় নষ্ট করেন। এতে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয় না। এজন্য সাপে কাটা রোগীদের দ্রুততম সময়ে হাসপাতালে আনার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সঙ্গে সাপে কাটা রোগীদের অপচিকিৎসা রোধে প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রণয়ন করার কথাও বলেছেন তারা।

রোববার চতুর্থ আন্তর্জাতিক সর্পদংশন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে এক ভার্চুয়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভাটি আয়োজন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ (নন-কমিউনিকেবল ডিজিজেস বা এনসিডি) শাখা।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, মূলত বর্ষাকালে গ্রামের মানুষকেই সাপ কামড়ে থাকে বেশি। বর্তমানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সাপে কাটা রোগীদের চিকিৎসার জন্য অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন ও প্রশিক্ষিত জনবল রয়েছে। তাই সাপে কাটা রোগীকে বিলম্ব না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।

তিনি বলেন, সাপের কামড়ে যেন প্রাণহানি না হয়, সে জন্য উপজেলা পর্যায়সহ সবখানে এন্টিভেনম ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু অ্যান্টিভেনম নিশ্চিত করলেই হবে না, পাশাপাশি প্রশিক্ষিত জনবল থাকতে হবে। মাঝে মাঝে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করতে হবে।

এসময় সাপে কামড়ানো রোগীকে ঝাড়ফুঁক বা ওঝার কাছে নিয়ে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসার জন্য দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসারও পরামর্শ দেন জাহিদ মালেক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার খুরশীদ আলমের সভাপতিত্বে সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেলালউদ্দিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. সেব্রিনা ফ্লোরাসহ বিভিন্ন জেলার সিভিল সার্জন এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।

সভায় দিবসটির গুরুত্ব তুলে ধরে দেশে সাপে কামড়ানো রোগীদের চিকিৎসা, সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা, অপচিকিৎসা ও মানুষের মধ্যে অসচেতনতার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন।

এম এ ফয়েজ বলেন, সাপে কাটা রোগীদের অপচিকিৎসারোধে প্রয়োজনে কঠোর আইন প্রণয়ন করতে হবে। সাপে কাটা রোগীদের দ্রুততম সময়ে চিকিৎসা শুরু করা অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ বিষয়। অনেক সময় ঝাড়ফুঁক ও ওঝার কাছে নিয়ে সময় নষ্ট করে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন অনেক বিলম্ব হয়ে যায়। রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, একটা সময় ছিল যখন সরকারি হাসপাতালে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সাপে কাটা রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুব্যবস্থা ছিল না। কিন্তু বর্তমানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন সরবরাহ করা হচ্ছে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...