৫৯ জেলাই অতি উচ্চ ঝুঁকিতে

;
  • প্রকাশিত: ২৬ জুন ২০২১, ৩:৩৮ অপরাহ্ণ | আপডেট: ৩ মাস আগে
No Caption

::নিজস্ব প্রতিবেদক::

ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের দাপটে দেশে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। গত শুক্রবার একদিনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড গড়েছে। আজ শনিবার মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কমলেও সংক্রমণের হার বেড়েছে।

দেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণ বেশি থাকলেও এখন ছড়িয়ে পড়ছে সর্বত্র। ফলে প্রায় সবগুলো জেলাই হয়ে ওঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেন্টার ফর রিসার্চ, ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাকশন (সিআরআইডিএ) বলছে, দেশে মোট ৬৪ জেলার ৫৯টিই অতি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। আর বাকি জেলাগুলো রয়েছে উচ্চ ঝুঁকিতে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানও এমনটাই বলছে। রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্য অনুসারে শনাক্তের হার ১০ শতাংশ বা তার ওপরে হলে সেই জেলাকে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত ৩ জুন ৩৬টি জেলাকে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ বলে চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরে ১৬ জুন সংখ্যাটি বেড়ে ৫০-এ পৌঁছে। বিশেষ করে উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোর মধ্যে মৃত্যু ও শনাক্ত বিবেচনায় খুলনা ও রাজশাহী বিভাগের পরিস্থিতি ব্যাপক উদ্বেগজনক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘কছিুদিন আগে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণ বেশি ছিল। এটি এখন সর্বত্র ছড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্যবিধি না মেনে ঝুঁকিটা আমরাই বাড়িয়েছি। মানুষ যদি সচেতন না হয় তাহলে এটা বাড়তেই থাকবে। সংক্রমণটা কখনো বসে থাকে না।’

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজী বিভাগের অধ্যাপক ডা. সুলতানা শাহানা বানু বাংলাদেশ জার্নালকে বলেন, ‘করোনার সংক্রমণ হঠাৎ কমে যায়, আবার বাড়ে। আমরা কেন কমে যায় বলি? মানুষতো তখন ঢাকায় ছিলোই না। তারা ছিল গ্রামে-গঞ্জে। তারা ফিরতে পারছিলেন না। এখন তারা আসার পর আবার বাড়ছে। পরিসংখ্যানটা দেখলে তাই বুঝা যায়। সুতরাং যখন চলে যায় এটা কমবে।’

তিনি বলেন, ‘একটা জিনিস আমাদের মনে রাখতে হবে, মহামারি যখন চলে তখন সেটি নিয়ন্ত্রণ করার জন্য স্বাস্থ্যসচেতনাসহ যেসব পদ্ধতিগুলো অবলম্বন করা হয়, একই সময় তার থেকে বেশি পদ্ধতি অবলম্বন করতে হবে যেন পরবর্তীতে কোন ওয়েব না আসে।’

‘তবে, আমাদের টেনডেন্সি যদি আগের মতই থাকে। আমরা আগে দেখিছি কি সিচুয়েশান হতে পারে। আরো বেশি হতে পারে। কিন্তু স্বাস্থ্যবিধি যেভাবে ফলো করার কথা সেগুলো সেভাবে কেউ ফলো করে না। তবে কেউ বলতে পারে না, স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি কেউ জানে না। এখন মানুষ যদি সচেতন না হয় তাহলে এটা বেড়ে যাবে। মানুষ মুভমেন্ট করলেই বাড়বে। এখন আপনার সীমান্তে ছিল। বলে লকডাউন চলছে। কিন্তু সেটি ঠিকমত হচ্ছে না, স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই। মানুষ পরিবহনে করে চলে আসছে। এটা এখন শহরে চলে আসছে। এগুলো তো হবেই।’

সম্প্রতি (১৪ থেকে ২০ জুন) করোনার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেশের ৪০ জেলা অতি উচ্চ ঝুঁকির কথা জানায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংক্রমণের মাধ্যমে ঝুঁকিতে আছে আটটি জেলা। বান্দরবানে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা কম হওয়ায় সেটি বিবেচনায় আনা হয়নি।

তবে সিআরআইডিএ বলছে, ২০ জুনের পর সংক্রমণের মাত্রা আরো অনেক বেড়ে গেছে। ফলে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলার সংখ্যাও বেড়েছে। এ অনুযায়ী ৫৯টি জেলাই অতি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

সংগঠনটির তথ্য মতে, ২০ জুনের পর সংক্রমণের মাত্রা আরো অনেক বেড়ে গেছে। সর্বশেষ তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণ করে (১৮-২৪ জুন) দেখা যায়, দেশের ৫৯টি জেলা অতি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে (সাপ্তাহিক শনাক্তের হার ১০ শতাংশের বেশি)। এর মধ্যে ৩৯টি জেলায় সংক্রমণের হার ভয়াবহ পর্যায়ের (সাপ্তাহিক শনাক্তের হার ২০ শতাংশের বেশি)।

বিশ্লেষণ ও লেখচিত্র প্রস্তুত করেছেন- সেন্টার ফর রিসার্চ, ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যাকশনের এপিডেমিওলজি বিভাগের ডা. কেএম তৌহিদুর রহমান, ডা. আয়শা আকতার, ডা. শাহরিয়ার রোজেন, ডা. নওরিন আহমেদ, ডা. নাজিফ মাহবুব, ডা. মামুনুর রহমান।

শনিবার প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. শাহরিয়ার রোজেন বলেন, ‘স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মেথডোলজি ব্যবহার করে সাত দিনের গড় শনাক্তের হারকে সূচক হিসেবে ব্যবহার করে তথ্য চিত্রটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

সংক্রমণ বাড়ার কারণ জানিয়ে সিআরআইডিএ বলছে, ভারতের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের প্রভাবে বাংলাদেশে সংক্রমণ হঠাৎ করে বেড়ে গেছে। বিপজ্জনক ভ্যারিয়েন্টগুলোর মধ্যে ভারতের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টটিই সবচেয়ে বেশি সংক্রমক। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট অধিক সংক্রমণক্ষম যুক্তরাজ্যের ভ্যারিয়েন্ট থেকেও কমপক্ষে ৪০ শতাংশ বেশি সংক্রমক এবং হাসপাতালে ভর্তির ঝুঁকি দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়।

এদিকে, করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে আগামী ২৮ জুন সোমবার থেকে সাতদিন সারাদেশে কঠোর লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। শুক্রবার এক সরকারি তথ্য বিবরণীতে বলা হয়েছে, লকডাউনে জরুরি পরিষেবা ছাড়া সকল সরকারি-বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন ছাড়া সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। কেবল অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসা সংক্রান্ত কাজে যানবাহন চলাচল করতে পারবে। লকডাউনের মধ্যে জরুরি কারণ ছাড়া কেউ বাইরে বের হতে পারবে না। তবে, গণমাধ্যম এর আওতার বাইরে থাকবে।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...