দেশে অসাম্প্রদায়িকতার শিক্ষা দেয়া হয় না: ডিএমপি কমিশনার

নিজস্ব প্রতিবেদক;
  • প্রকাশিত: ১৩ নভেম্বর ২০২১, ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ | আপডেট: ৩ সপ্তাহ আগে

ছবি সংগৃহীত

ডিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেছেন, `আমাদের দেশের সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া অসাম্প্রদায়িকতার শিক্ষা দেয়া হয় না। তাই আমরা যথাযথভাবে দেশপ্রেমিক নাগরিক গড়ে তুলতে পারছি না।

শনিবার রাজধানীর এফডিসিতে একটি ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতায় তিনি এসব কথা বলেন। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে গণজাগরণ নিয়ে এ ছায়া সংসদ অনুষ্ঠিত হয়।

তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি গণজাগরণই পারে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধ করতে, ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির ছায়া সংসদের মাধ্যমে তরুণ সমাজে একটি অসাম্প্রদায়িক মনোভাব তৈরি হবে।’

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা গড়ার যে স্বপ্ন সেটা তরুণরাই বাস্তবায়ন করবে এ বিশ্বাস জানিয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতার বিষবাক্যে আর একটি প্রাণও না ঝরুক’।

কুমিল্লার ঘটনার বিষয় সর্ম্পকে তিনি বলেন, এঘটনায় কোন রাজনৈতিক ইন্ধন আছে কিনা তা নিয়ে তদন্ত চলছে। পুলিশের কোনও কর্মকর্তার অবহেলা রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয় রয়েছে তবে আপাতত দেশে কোথাও সাম্প্রদায়িক সংঘাতের ঝুঁকি নেই।

উভয় দলের যু্ক্তি-তর্কের উপর আলোকপাত করে কমিশনার বলেন, ‘এখানে সরকারি দল গণজাগরণের পক্ষে এবং বিরোধী দল আইন প্রণয়নের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু আমরা দেখেছি সড়ক দুর্ঘটনায় ছাত্র নিহত হওয়ার পর গণজাগরণের মাধ্যমে সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়ন করা হলেও আজও আমরা পিতা-মাতার সাথে স্কুল ছাত্রের ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের চিত্র দেখতে পাই। কিন্তু না, আমাদের ভিতর থেকে পরিবর্তন আনতে হবে। আমাদের সন্তানকে ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটবে কি ঘটবে না এটা বলা যেমন অসম্ভব, তেমনি ধারণা করাও খুব কঠিন। সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে আইজিপি কর্তৃক ইতোমধ্যে সকল ওসি, এসপিদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।’

সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কোন উস্কানিমূলক বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনে এমন পোস্ট দেখলে লাইক বা শেয়ার না করে সাথে সাথে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করেন ডিএমপি কমিশনার।

প্রতিযোগিতায় সরকারি দল হিসেবে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটি সাম্প্রদায়িক সহিংসতা প্রতিরোধে গণজাগরণের পক্ষে ও বিরোধী দল কুমিল্লা ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা সময়পোযোগী আইন প্রণয়নের পক্ষে যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেন। প্রতিযোগিতায় বিরোধী দল কুমিল্লা ইউনিভার্সিটির বিতার্কিকরা চ্যাম্পিয়ন হয়।

শেয়ার করুন

এই সম্পর্কিত আরও খবর...