কাঁচা ধানের গন্ধে ভরে উঠছে কৃষকের মন-প্রাণ

সোমবার, ২১ মে, ২০১৮ ৮:৩১:০৬ পূর্বাহ্ণ
0
186
মিরসরাই প্রতিনিধি:

যেদিকে তাকাই মাঠভরা সোনালী ধানে ভরপুর জমিগুলো। বাংলার চিরায়ত অপরূপ দৃশ্য যেন ছবির মত ফুটে উঠেছে। মাঠ জুড়ে ধানের দোল খেলানোর দৃশ্য দেখে খুশিতে আত্মহারা কৃষাণ-কৃষাণীরা। মিরসরাইয়ে বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি। ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে নতুন ধান কাটা।

এ বছর তুলনামূলক ধানের ফলন অনেক বেশি হওয়ায় গত বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার স্বপ্ন দেখছেন কৃষকরা। তবে সব ধান ঘরে তুলতে আরো কয়েকটা দিন অনুকূল আবহাওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার চাষিরা বলেন, আগাম বৃষ্টি না হওয়ায় ফসলের তেমন ক্ষতি হয়নি। পাশাপাশি ক্ষেতে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও কম ছিল। এছাড়া এবার ফসলের খেতে সময়মতো পানি ও সার দিতে পেরেছেন তারা। মূলত এসব কারণে বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে।

 

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানা যায়, উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নে ২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল হেক্টর প্রতি ১২ হাজার মেট্রিকটন ধানের উৎপাদন। সেক্ষেত্রে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছেড়ে হয়েছে হেক্টর প্রতি ২ হাজার মেট্রিকটন ধান।

গতবছর বৃষ্টি ও বন্যা ভাসিয়ে নিয়েছিল কৃষকের কষ্টে বোনা স্বপ্নের ধান। তখন ছিলো শুধু কৃষকের হাহাকার আর কান্না। তবে প্রকৃতি এবার দু’হাত ভরে দান করেছে কৃষকদের। বাতাসে দোল খাচ্ছে সোনারাঙা পাকা ধান। তা দেখে কষ্টের সেই দিনগুলোর কথা ভুলে, আবারও নতুন স্বপ্ন দেখছেন তারা। ধান কাটার উৎসবে মেতে উঠেছে জমির পর জমি। কাঁচা ধানের গন্ধে ভরে উঠছে কৃষকের মন-প্রাণ।

উপজেলার ধুম ইউনিয়নের কৃষক সাহাব উদ্দিনের চোখমুখে আনন্দের ছাপ। তিনি বলেন, ‘গতবার দেড় একর জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছিলাম। এবার চাষ করেছি ৩ একর জমিতে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, এক সপ্তাহের মধ্যে সব ধান ঘরে উঠবে। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমার মতো অনেক কৃষকই বেশি জমিতে ধান চাষ করেছেন এবার।’

মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘এবছর বোরা ধানের উৎপাদনে আমরা বেশ খুশি। কৃষকরা অনন্ত অন্যান্য বছরের কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে। আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চাইতে এবার বেশি ধান উৎপন্ন হয়েছে।