রমজান যেন ব্যবসায়ীদের স্বর্গবাস!

সোমবার, ২১ মে, ২০১৮ ৯:৪৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ
0
179

যুগেরকন্ঠ ডেস্ক :

দুঃখ ও দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষ। জনগণ যেন খেলার পুতুল! জনগণের কথা আর কোথাও কাজে লাগে না। পবিত্র রমজান মাসে আজ নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের অবস্থা একেবারেই শোচনীয়। সেহরি, ইফতারে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের পেটভরে খাওয়ারও সুযোগ নেই। দ্রব্যমূল্য আকাশছোয়ার বছরব্যাপী অবশ্যম্ভাবী নিয়তি ও অভিন্ন দুর্ভোগের মাত্রা রমজানে অসহনীয় হয় খেটে খাওয়া মানুষের জন্য। সবার সামর্থ্য সমান নয়, অনেকে রোজা রেখে ইফতারসামগ্রী জোগাড় করতে হিমশিম খায়। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হয় স্বল্প ও নিম্ন আয়ের মানুষ। অবস্থা এমন যে, গরিব ও সাধারণ মানুষ না খেয়ে মরে যাবে, বড়লোকেরা সব কিনে নিয়ে যাবে! এটা তো কোনো সভ্যসমাজের কাজ হতে পারে না। মুসলিম হিসেবে আসলেই আমাদের লজ্জিত হওয়া উচিত।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সংযমের মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য হ্রাস করে জনগণের সেবা করা হয়। আমাদের দেশে বিষয়টি সম্পূর্ণ বিপরীত। রমজান এলেই দ্রব্যমূল্য আকাশছোঁয়া! যা যুগ যুগ ধরে চলমান। অথচ রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমিয়ে রাখার বক্তব্য, আলাপ ও নির্দেশ শোনা যায়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। বাজারে খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুদ ও সরবরাহ থাকার পরও কেন পণ্যের দাম বারে, তা অনুসন্ধান ও প্রতিকার করা কি কোন সরকারের সাধ্য, সামর্থ্য ও শক্তির বাইরে?

দেশের বেশির ভাগ ব্যবসায়ীর অন্তরকে রমজানের পবিত্রতা বা প্রকৃত শিক্ষা ছুঁতে পারে না। তারা পার্থিব আকাক্সক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে রমজান মাসকে শুধুই লাভজনক ব্যাবসায়িক মাস হিসেবে বিবেচনা করে। কতিপয় বাঙালির স্বভাব রয়েছেÑ ‘ঝোপ বুঝে কোপ মারো’। এই নীতিতেই দ্রব্যমূল্য বাড়ানোর জন্য রোজার মাসকে বিশেষভাবে টার্গেট করে কতিপয় অসৎ, দুষ্ট ও দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবসায়ীরা। তাই রমজান মাসে পণ্যমূল্য বেড়ে যাওয়া রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রমজান এসেছে, আর তখনই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর জন্য নড়েচড়ে বসেছে ব্যবসায়ীরা। যে রমজান আমাদের জন্য নিয়ে আসে রহমত, নাজাত ও মাগফিরাত; সেই রমজান আসার আগেই শুরু হয়ে যায় অনৈতিক কার্যকলাপ। যেভাবে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, তাতে মনে হয় রমজান মাস সওয়াবের নয়, ব্যবসার নামে হরিলুটের মাস।