রোজা কখন, কেন, কার উপর ফরজ

সোমবার, ২১ মে, ২০১৮ ৮:৫০:৩০ পূর্বাহ্ণ
0
124

অনলাইন ডেস্ক:

দেখতে দেখতে চলে গেলে রোজা। রোববার  রহমতের ৩য় দিন। সে হিসেবে আজ তৃতীয় রোজাও। আমরা মুসলমানগণ মাহে রমজানে রোজা রাখি। এবাদত বন্দেগির মাধ্যমে সিয়াম সাধনার সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। কিন্তু অনেকেই জানি না মাহে রমজানের এই রোজা কখন, কেন, কার উপর ফরজ করা হয়েছে। আজকে এ বিষয়ে যতদূর সম্ভব আমরা জানার চেষ্টা করবো।

রোজা ফরজ হবার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জানা গেছে, ইসলামের অনেক ফরজ ও ওয়াজিব কাজ কোনো না কোন আল্লাহর প্রিয় বান্দা তথা নবী-রাসূল কিংবা তাদের পরিবারের আলোচিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তাদের স্মরণার্থে উম্মতদের জন্য অপরিহার্য করা হয়েছে।

যেমন হজের সময় সাফা ও মারওয়ার মাঝখানে হাজিদের ‘সাঈ’ (দৌড়ানো) করার যে বিধান তা হযরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের সহধর্মীনি হযরত হাজেরা রাদিয়াল্লাহু আনহার স্মৃতির স্মরণার্থে। তিনি তার কলিজার টুকরো হযরত সৈয়্যদুনা ইসমাঈল জবীহুল্লাহ’র জন্য পানি খুঁজতে গিয়ে সাফা ও মারওয়ার মাঝখানে সাতবার দৌঁড়ায়েছেন। হযরত হাজেরা (রাদি.) এর এই কাজকে আল্লাহর কাছে বেশি পছন্দ হয়েছে। শেষ পর্যন্ত হযরত হাজেরা (রাদি.) এর সুন্নতকে স্থায়ী করে দেন মহান রাব্বুল আলামীন। তার এ কাজকে স্মরণীয় করে রাখতে সাফা ও মারওয়ার মাঝখানে হাজিদের সাতবার প্রদক্ষিণ করা ওয়াজিব করে দেয়া হয়েছে।

হযরত হাজেরা (রাদি.) এর মতোই আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর একটি স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখতে মাহে রমজানের রোজা মুসলমানদের উপর ফরজ করা হয়েছে। রমজানের এমন দিনে বেশ কিছুদিন রাহমাতুল্লিল আলামীন হযরত মোহাম্মদ (সা.) হেরা পর্বতের গুহায় অতিবাহিত করেছিলেন।

তখন হুজুর (সা.) দিনের বেলায় পানাহার করতেন না। আর রাতে আল্লাহ পাকের জিকীরে মশগুল থাকতেন। প্রিয় নবীর এই এবাদত বন্দেগী আল্লাহর কাছে এত পছন্দনীয় হয় যে দিনগুলি স্মরণীয় করে রাখতে এবং রাসূলের সুন্নতকে উম্মতে মোহাম্মদীর মাঝে স্থায়ী করতে রোজা ফরজ করে দেয়া হয়।

রোজা রাখা প্রিয়নবী (সা.) এর পছন্দের এবাদত ছিল। যখন রমজানের রোজা ফরজ হয়নি তখনও তিনি আশুরার দিন রোজা রাখতেন এবং সাহাবিদের (রাদি.) রোজা রাখার আদেশ করতেন। পরে যখন রমজানের রোজা ফরজ করে দেয়া হয় তখন তিনি ও তার সাহাবারা আশুরার রোজা রাখা ছেড়ে দেন।

এ প্রসঙ্গে সাহাবি হযরত ইবনে উমর (রাদি.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সৈয়্যদুনা মোহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সা.) আশুরার দিন রোজা পালন করেছেন এবং এ সিয়ামের জন্য আদেশও দিয়েছেন। পরে যখন রমজানের সিয়াম ফরজ হলো তখন তা ছেড়ে দেওয়া হয়। (বুখারী-তৃতীয় খণ্ড)

আরেক হাদিসে বর্ণনা রয়েছে, হযরত মা আয়েশা সিদ্দিকা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জাহিলী যুগে কুরাইশগণ আশুরার দিন রোজা রাখতো। রাসূলুল্লাহও (সা.) এই রোজা রাখার নির্দেশ দেন। অবশেষে রমজানের রোজা ফরজ করা হলে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন, যার ইচ্ছা আশুরার রোজা রাখবে এবং যার ইচ্ছা সে রোজা (আশুরার) রাখবে না। (বুখারী- ৩য় খণ্ড)

রমজানের রোজা মহানবী (সা.) এর পূর্ববর্তী নবী-রাসূল ও তাদের উম্মতদের জন্যও ফরজ ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের প্রিয় নবী (সা.) ও তার উম্মতদের জন্যও ফরজ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআন শরীফে মহান আল্লাহ বলেন,  হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে। যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর ফরজ ছিল। যাতে তোমরা পরহেজগারি (আল্লাহওয়ালা) হতে পারো। (সূরা বাকারা- আয়াত- ১৮৩)

মহানবী (সা.) এর আগে তার পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণও রোজা রাখতেন। তবে তাদের রোজার ধরণ আমাদের চেয়ে ভিন্ন ছিল। যেমন সৈয়্যদুনা হযরত আদম আলাইহিস সালাম প্রত্যেক মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখ রোজা রাখতেন। (কানযুল ওম্মাল ৮ম খণ্ড ২৫৮ পৃষ্ঠা, হাদিস- ২৪১৮৮।

একইভাবে সৈয়্যদুনা হযরত নূহ (আ.) দুই ঈদ ছাড়া সবসময় রোজা রাখতেন। (ইবনে মাজাহ, ২য় খণ্ড, ৩৩৩পৃষ্ঠা, হাদিস-১৭১৪)

সৈয়্যদুনা হযরত দাউদ (আ.) একদিন পরপর রোজা রাখতেন। (মুসলিম, ৫৮৪ পৃষ্ঠা,  হাদিস ১১৮৯)

সৈয়্যদুনা হযরত সোলায়মান (আ.) মাসের শুরুত তিন দিন, মাসের মধ্যভাগে তিন দিন, মাসের শেষ ভাগে তিন দিন (মাসে ৯দিন) রোজা রাখতেন। (কানযুল ওম্মাল, ৮ম খণ্ড, ৩০৪ পৃষ্ঠা, হাদিস ২৪৬২৪)

সৈয়্যদুনা হযরত ঈসা (আ.) সবসময় রোজা রাখতেন, কখনও রোজা ছাড়তেন না। (মুসলিম, ৫৮৪ পৃষ্ঠা, হাদিস ১১৮৯)

মাহে রমজানের রোজা কখন কার উপর ফরজ করা হয়েছে? এর উত্তরে বলা যায়, তাওহিদ ও রিসালাতকে বিশ্বাস করা এবং দ্বীনের সব জরুরি বিষয়ের উপর ঈমান আনার পর যেভাবে প্রত্যেক মুসলমানের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়েছে।