লোকসানের মুখে জামালপুরের লিচু চাষীরা

সোমবার, ২১ মে, ২০১৮ ৮:২৯:৩২ পূর্বাহ্ণ
0
215

জামালপুর প্রতিনিধি:

জামালপুরে সদর উপজেলার ১৫টি গ্রামের চারপাশের বাগান, বাড়ির আঙিনা উঠানে ঝুলছে লাল টসটসে রসালো লিচু। গ্রামগুলো এখন লিচু গ্রাম নামে পরিচিত। অধিক লাভজনক হওয়ায় ধানের বদলে লিচু চাষে ঝুঁকছে এ অঞ্চলের চাষীরা। তবে এবার বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর ফলন বিপর্যয় এবং রমজানে বিক্রি না হওয়ার আশংকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে জামালপুরের লিচু চাষীরা।

এ বছর ফলন বিপর্যয়ে লোকসানের আশংকা করছেন লিচু বাগান মালিকরা। এখন ভোর থেকে লিচু পাড়া, বাছাই করা, গুণেগুণে আটি বাঁধা, বাজারজাতের জন্য খাঁচা বোঝাই করার মধ্য দিয়ে লিচু শ্রমিকরা ব্যস্ত সময় পার করছে।

শ্রীরামপুর, রঘুনাথপুর, গোদাশিমলা, বেড়াপাথালিয়া, শিতলকুর্ষা, ঢেংঘারঘর ও রনরামপুরসহ ১৫টি গ্রামে এবার ২৫ হেক্টর জমিতে  লিচু চাষ হয়েছে। এখানে মঙ্গলবাড়িয়া, বোম্বাই, মোজাফফরপুরী, চায়না থ্রি জাতের লিচু চাষ  হয়।

বাগানিরা জানিয়েছে, লিচু গাছে প্রচুর ফুল আসায় এবার বাম্পার ফলনের আশায় লিচু চাষীদের চোখে মুখে ফুটে উঠেছিল খুশির ঝিলিক। বাদ সাধে বৈরী আবহাওয়া। কুয়াশায় আক্রান্ত হয়ে ঝড়ে যায় গাছের ফুল। লিচু কিছুটা বড় হলে শিলা বৃষ্টিতে আক্রান্ত হয়। ফলে লিচুর ফলন এবার অর্ধেকে নেমে এসেছে।

বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় এক বাগানি জানান, ৫ বিঘা জমিতে ৭টি লিচুর বাগান করেছেন। গত বছর বাগান থেকে ৩ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করেছেন। এবার ফলন বিপর্যয়ের কারণে গতবারের অর্ধেক টাকা আয় করতে পারবে কিনা শঙ্কা প্রকাশ করেন এই লিচু বাগানি। আব্দুল জলিল, আব্দুল কাদির, সালাম, মোতালেবসহ অনেক লিচু চাষী একই কথা বললেন।

 

এদিকে এ অঞ্চলের লিচু চাষীদের অভিযোগ, কৃষি অফিসের শতভাগ সহযোগিতা না পেয়ে পুরনো পদ্ধতিতে লিচু চাষ করেছে তারা। কৃষি অফিসের সহযোগিতা পেলে আধুনিক পদ্ধতিতে লিচু চাষ করে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা ও লাভের মুখ দেখত বলে চাষীদের ধারণা।

ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম বলেন, রমজানের আগে বাজারে লিচু নামলে বেচা-বিক্রি বেশি হতো। রমজান মাস থাকায় তুলনামূলক লিচু কম বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি অফিস সূত্র জানায়, লিচু চাষের জন্য সদর উপজেলার মাটি খুবই উর্বর। বৈরী আবহাওয়ায় লিচুর ফলন গতবারের চেয়ে কম হয়েছে। কুয়াশার আক্রান্তের সময় পানি স্প্রে করলে ক্ষয়ক্ষতি তেমন হতোনা। আবহাওয়া ভাল থাকলে গাছে লিচু মাসখানেক টিকতে পারে। তাহলে লিচু চাষীরা লোকসান কিছুটা কাটিয়ে উঠতে পারবে।