হাতিয়ায় দুটি বন্ধ সীট্রাকের নামে ভাড়া আদায় পল্টুনের নামে চাঁদাবাজী, নৌকায় ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার,

মঙ্গলবার, ২২ মে, ২০১৮ ১০:৪৭:০৯ পূর্বাহ্ণ
0
126

মোঃ তছলিম হোসেন: 

হাতিয়ায় দুটি বন্ধ সীট্রাকের নামে ভাড়া আদায়, পল্টুনের নামে চাঁদাবাজী ও নৌকায় করে যাত্রীদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পারাপার করার অভিযোগ উঠেছে। বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়ার সাথে নোয়াখালীর চেয়ারম্যান ঘাটের একমাত্র যোগাযোগ মাধ্যম দুটি সি-ট্রাক অচল হয়ে পড়েছে।

 

এতে হাতিয়ার সাথে চেয়ারম্যান ঘাটের তথা নোয়াখালী জেলা সদরের যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উত্তাল মেঘনা পারাপার হচ্ছেন। এতে নোয়াখালী থেকে হাতিয়া ও হাতিয়া থেকে নোয়াখালীসহ সারা দেশে যাতায়াতকারী হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। এসব ট্রলারে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলেও অতিরিক্ত যাত্রী ও মালামাল পরিবহন এবং বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও যাত্রীদের সেবার মান উন্নয়নের জন্য নলচিরা ঘাটে পল্টুন দেওয়ার কথা থাকলেও পল্টুন না দিয়ে টোল আদায় করছে বলে অভিযোগ তুলছে যাত্রী সাধারণ।

 

হাতিয়ার চরচেঙ্গা থেকে চেয়ারম্যান ঘটে চলাচলকারী এস.সি শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাদ নামে বিআইডবলিওটিসির একটি সি-ট্রাক গত এক বছর থেকে বিকল। মেরামতের জন্য সি-ট্রাকটি চট্টগ্রামে ডকইয়াডে নেয়ার পর থেকে সেখানে পড়ে আছে। এরপর নলচিরা-চেয়ারম্যান ঘাটের মধ্যে চলাচলকারী এস.সি শহীদ শেখ ফজলুল হক মনি নামে অপর একটি সি-ট্রাকে যাত্রী পারাপার চলছিল। কিন্তু গত ১৫ এপ্রিল থেকে সেটিও বন্ধ হয়ে চেয়ারম্যান ঘাটে পড়ে আছে। নিরুপায় হয়ে ইঞ্চিলচালিত নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রমত্তা মেঘনা পারাপার হচ্ছে দুই পাড়ের লোকজন।

 

ত্রটিপুর্ণ এসব নৌযানে ধারণ ক্ষমতার কয়েক গুণ বেশী যাত্রী ও মালামাল পরিবহণের পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। যার কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। লাইফ জ্যাকেটসহ কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় হঠাৎ ঝড়ের কবলে পড়লে অনেক লোকের প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা। বিকল সি-ট্রাক দুটি মেরামতের ব্যাপারে কোনো তৎপরতা না থাকলেও একটি চক্র ট্রলারের যাত্রীদের কাছ থেকে সি-ট্রাকের ভাড়াও হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক যাত্রী। এস.সি শহীদ শেখ ফজলুল হক মনির মাস্টার মো. আফজাল হোসেন জানান, ফিটনেস না থাকায় সি-ট্রাকটি চেয়ারম্যান ঘাটে নোঙ্গল করে রাখা হয়েছে।

 

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সি- ট্রাকটি মেরামতের জন্য চট্টগ্রাম পাঠানো হবে। বর্ষার আগেই সি-ট্রাক দুটি আবার সচল না হলে ট্রলারে যাত্রী পারাপারে যেকোনো সময় বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এব্যাপারে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক মো. মাহবুব আলম তালুকদার জানান, সি-ট্রাক দুটি যান্ত্রিক ক্রটির কারণে ডকইয়ার্ডে মেরামতের জন্য রয়েছে। মেরামত না হওয়া পর্যন্ত যেন যাত্রী হয়রানি না-হয় সে দিকে নজর রাখবেন বলে জানান তিনি।