এ কেমন চোটে তাসকিন!

বুধবার, ২৩ মে, ২০১৮ ৩:২৬:২৩ অপরাহ্ণ
0
149
খেলঅ ডেস্ক:

জটিল এক চোটে আক্রান্ত হয়েছেন জাতীয় দলের ‌‘গতি তারকা’ তাসকিন আহমেদ। নিদাহাস ট্রফির পর তার পুনর্বাসন প্রক্রিয়া ভালোভাবেই চলছিল। দলের সঙ্গে নিয়মিত বোলিং ও ফিল্ডিং করেছেন। কিন্তু সুস্থ হতে পারেননি পুরোপুরি। যে কারণে জায়গা হয়নি আফগানিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে।

তাসকিনের ফিটনেসের যে অবস্থা, অনিশ্চয়তা আছে তার ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর নিয়েও। তিনি এমনই এক চোটে পড়েছেন, যেটির সমাধান খুঁজতে গলদঘর্ম অবস্থা বিসিবি চিকিৎসকের। চোট নিয়ে তাসকিন মঙ্গলবার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসও দিয়েছেন, ‘পিঠে এতটা ব্যথা যে বিছানা থেকেও নামতে পারছি না।’

হঠাৎ কি হলো যে তাসকিন বিছানা থেকে উঠতে পারছেন না? বিসিবির চিকিৎসক দেবাশীষ চৌধুরী বলেছেন, ‘তাসকিনের পিঠের চোটটা ডিস্ক সম্পর্কিত। বড় সমস্যা হচ্ছে এটা নিয়ে কিছু অনুমান করা যায় না। আজ ভালো তো কাল বা পরশু কী হবে আমরা অনুমান করতে পারি না। দেখা যাচ্ছে দু-তিন দিন ভালো অনুশীলন করেছে, তৃতীয়-চতুর্থ দিনে ব্যথা বেড়ে গেছে। ওর যেটা হয়েছে, দু-তিন দিন খুব ভালো অনুশীলন করেছে, বোলিং করেছে। বাসায় গিয়ে আবার ব্যথা বেড়ে গেছে। ডিস্কের সমস্যা এমনই। ভালো-খারাপের মধ্য দিয়ে যায়। এ ধরনের চোটে পড়া খেলোয়াড়কে নিয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য পরিকল্পনা করতে অসুবিধা হয়ে যায়। সব ভালো, রিহ্যাব করছে। হঠাৎ দেখা গেল ম্যাচের আগে ওর ব্যথা বেড়ে গেছে। সব চেষ্টাই বৃথা! তাকে নিয়ে কোচের দীর্ঘ মেয়াদে পরিকল্পনা করা কঠিন।’

এই মুহূর্তে টিম ম্যানেজম্যান্টের তাসকিনকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করা কঠিন। তার চোট সারিয়ে তোলাটা তো জরুরি। এ নিয়ে দেবাশিষ বলছেন, ‘ওর এমআরআই করে দেখেছি কোমরের সমস্যাটা এত বেশি নয় যে অস্ত্রোপচারে যেতে হবে। ওই পর্যায়ে এটা যায়নি। কিন্তু কনজারভেটিভ ম্যানেজমেন্টেও হচ্ছে না। শুধু ফিজিওথেরাপি বা রিহ্যাবেও এটা ভালো হচ্ছে না। আমাদের এ দুটির মাঝামাঝি কিছু করতে হবে। সেটা হতে পারে ইনজেকশন। দু-এক দিনের মধ্যে একটি ইনজেকশন দেব। এটা মেরুদণ্ডের মধ্যে দিতে হবে। এটা আন্দাজে দেওয়া যায় না। দিতে হলে আলাদা ব্যবস্থা থাকতে হবে।’

আগামী দু-এক দিনের মধ্যে ঢাকা পেইন ম্যানেজম্যান্ট সেন্টারে তাসকিনের ইনজেকশন দেওয়ার কথা ভাবছে বিসিবি। এতে সমাধান হবে কি না নিশ্চিত নন বিসিবির চিকিৎসক, ‘এটা সাময়িক ব্যথামুক্ত করলেও দীর্ঘ সময়ের জন্য হয়তো নয়। সাময়িক ব্যথামুক্ত হলে সে অবশ্য খেলতে পারবে। এটার স্থায়ী সমাধান অস্ত্রোপচার। আগেই বলেছি, তাসকিনের চোটটা অস্ত্রোপচারের পর্যায়ে যায়নি। মাঝামাঝি অবস্থায় ঝুলছি আমরা। অনেক পেস বোলারের এই চোট থাকে। ব্যথা কমে, আবার বাড়ে। খুবই কম খেলোয়াড়ের অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচার করেও যে শতভাগ সমাধান হয়, সেটির নিশ্চয়তাও নেই। যেমন রাজুর (আবুল হাসান) অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল। ইনজেকশনেও ব্যথা কমেনি। তাসকিনের ক্ষেত্রে সরাসরি অস্ত্রোপচারে যেতে পারব না। আগে ইনজেকশন দিতে হবে। এভাবে এগোবে। মাঠে ফিরলেও আপাতত তাকে টি-টোয়েন্টি বা ওয়ানডের মধ্যে রাখতে হবে। বড় পরিসরের ক্রিকেটে তাকে খেলানো যাবে না, এতে ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে।’