মামলার গ্যাঁড়াকলে স্থবির ৩০১ কলেজের জাতীয়করণ

বুধবার, ২৩ মে, ২০১৮ ১১:২৮:৩৮ পূর্বাহ্ণ
0
111

নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি কলেজ নেই এমন উপজেলায় একটি করে বেসরকারি কলেজকে সরকারিকরণের ঘোষণা দিয়ে ৩০১টির তালিকা করা হয়েছিল। গত দু’বছর ধরে ‘মামলা’ ও ‘বিধি’র গ্যাঁড়াকলে পড়ে স্থবির হয়ে আছে সরকারের এই ভালো উদ্যোগটি।

এ পরিস্থিতিতে গত ২৩ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের সচিবকে চিঠি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায় অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে তার একান্ত সচিব-১ কর্তৃক স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়নি।’ উক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কয়েকটির ক্ষেত্রে জাতীয়করণের চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে এবং বাকিগুলোর ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপন জারির দীর্ঘসূত্রতার কারণ উল্লেখ করে মতামত দেওয়ার জন্য সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ চিঠি পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদফতরের আইন শাখার কাছে সর্বশেষ অবস্থা জানতে চেয়েছে মন্ত্রণালয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দু’বছরে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে তার একান্ত সচিব-১ সরকারি কলেজ নেই এমন উপজেলায় একটি করে কলেজ সরকারিকরণের তালিকা ঘোষণা করেন। এরপর এসব কলেজ বছরখানেক আগে ‘ডিড অব গিফট’ সম্পন্ন করে সম্পত্তি সরকারের নামে নিবন্ধন করে দেয়। মাউশিও এসব কলেজ পরিদর্শন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে রিপোর্ট জমা দেয়। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে এই কলেজগুলোয় দু’বছর ধরে সব ধরনের নিয়োগ বন্ধ আছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এক বছর আগেই এর জন্য টাকা ছাড় করে রাখে। এর মধ্যে কিছু কলেজ সরকারিকরণের তালিকায় স্থান না পেয়ে মামলা ঠুকে দেয়। আদালত কিছু কিছু উপজেলায় একাধিক কলেজকে সরকারিকরণের নির্দেশ দেন। সরকার এই নির্দেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে। সব মিলিয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে পড়েছে পুরো প্রক্রিয়াটি।

জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন বলেন, সরকারিকরণ প্রক্রিয়াটি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বাস্তবায়ন করা হবে। বর্তমানে এটি কোন পর্যায়ে আছে- এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, সংশ্লিষ্ট কলেজগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীদের মর্যাদা কী হবে সেটি নিয়ে এখন কাজ চলছে। এরই মধ্যে সচিব কমিটি পেরিয়ে পিএসসির কাজ শেষ হয়েছে। এখন আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে। তবে বিষয়টি নিয়ে মামলার শুনানিও চলছে। কাজেই আদালতের দিকেও আমাদের খেয়াল রাখতে হচ্ছে।

মাউশি থেকে গত ৩ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারিকরণের জন্য ঘোষিত ৩০১টি কলেজের মধ্যে ৫৯টি মামলা করেছে। মামলায় প্রায় সব কলেজ বলেছে, জাতীয়করণের জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলায় যে কলেজের নাম ঘোষণা করা হয়েছে সেটি যোগ্য নয়।

কলেজগুলোর মামলা-সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, কক্সবাজারের মহেশখালী কলেজ মামলা করেছে একই এলাকার বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজের বিরুদ্ধে। আদালত স্থিতাবস্থা দিয়েছেন। সিলেটের জৈন্তাপুরের ইমরান আহমেদ মহিলা কলেজের বিরুদ্ধে মামলা করেছে জৈন্তাপুর ডিগ্রি কলেজ। আদালত উভয় কলেজকে সরকারিকরণ করতে বলেছেন। সরকার আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সিলেটের গোয়ালাবাজার আদর্শ মহিলা কলেজের বিরুদ্ধে মামলা করেছে তাজপুর কলেজ। আদালত উভয় কলেজকে সরকারিকরণ করতে বলেছেন।  রাজশাহীর দুর্গাপুরের দাওকান্দি ডিগ্রি কলেজের বিরুদ্ধে রিট করেছে দুর্গাপুর ডিগ্রি কলেজ। আদালত স্থিতাবস্থা জারি করেন। রাজশাহীর চারঘাটের সারদা কলেজের বিরুদ্ধে মামলা করেছে চারঘাট আলহাজ এ এ হাদী কলেজ।  নাটোরের বড়াইগ্রাম অনার্স কলেজের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বনপাড়া ডিগ্রি কলেজ।  সিরাজগঞ্জের চৌহালী ডিগ্রি কলেজের বিরুদ্ধে মামলা করেছে চৌহালী এস বি এম কলেজ। জজ আদালত স্থিতাবস্থা দিয়েছেন।