যে সব কারণে রোজা ভঙ্গ হয়

বুধবার, ২৩ মে, ২০১৮ ১০:৫২:৩৯ পূর্বাহ্ণ
0
121

অনলাইন ডেস্ক

মাহে রমজানের আজ ৬ষ্ঠ রোজা। ইতোমধ্যে রহমতের দশ দিনের ৫ম দিন দেখতে দেখতে চলে গেল। দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য্যরে সঙ্গে রোজা আদায় করছেন। কিন্তু  রোজার পবিত্রতা, কী কারণে রোজা  ভঙ্গ হয় তা আমাদের অনেকেরই কাছে অজানা।

তাই আজকে রহমতের এই দিনে রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো যাতে, ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সঠিকভাবে আমল করতে পারেন এবং রোজা রেখে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারেন।

রোজা ভঙ্গের কারণসমূহ:

রোজা রাখা অবস্থায় কেউ ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে,  স্ত্রী সহবাস করলে, কুলি করার সময় হলকের নিচে পানি চলে গেলে (অবশ্য রোজার কথা স্মরণ না থাকলে রোজা ভাঙ্গবে না),  ইচ্ছাকৃত মুখ ভরে বমি করলে, নস্য গ্রহণ করা, জবরদস্তি করে কেহ রোজা ভাঙ্গালে, কংকর পাথর বা ফলের বিচি গিলে ফেললে, সূর্যাস্ত হয়েছে মনে করে ইফতার করার পর দেখা গেল সূর্যাস্ত হয়নি, দাঁত হতে ছোলা পরিমাণ খাদ্য- দ্রব্য গিলে ফেললে, ধূমপান কিংবা ইচ্ছাকৃত লোবান বা আগরবাতি জ্বালায়ে ধোয়া গ্রহণ করলে, মুখ ভর্তি বমি গিলে ফেললে, রাত্রি আছে মনে করে সোবহে সাদিকের পর পানাহার করলে।

রোজা রাখাবস্থায় বমি হলে রোজা ভেঙ্গে গেলো কিনা মুসল্লিরা চিন্তিত হয়ে পড়েন। রোজা পালনকালে অনিচ্ছাসত্ত্বেও বমি হয়ে গেলে রোজা ভাঙ্গবে না।

এ প্রসঙ্গে সাহাবি সৈয়্যদুনা হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এরশাদ করেছেন, যার মাহে রমজানে আপনা আপনি বমি এসে যায়, তার রোজা ভাঙ্গে না। আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় বমি করে তার রোজা ভেঙ্গে যাবে। (কানযুল উম্মাল, ৮ম খণ্ড, ২৩০ পৃষ্ঠা)

প্রসিদ্ধ হাদিসগ্রস্থ তিরমিযী শরীফের ২য় খণ্ডের ১৭৩ পৃষ্ঠায় এ প্রসঙ্গে আরেকটি হাদিস রয়েছে, এতে রাসুল (সা.) বলেছেন, যার আপনা আপনি বমি এসেছে তার উপর কাযা নেই। আর যে জেনে বুঝে বমি করেছে, সে কাযা করবে।

রোজা ভঙ্গের কারণ উল্লেখ করে ইসলামী শরীয়তের প্রসিদ্ধগ্রন্থ’ রুদ্দুল মুহতারের ৩য় খণ্ডের ৩৫৬ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, পানাহার ও স্ত্রী সহবাস করলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে, যদি রোজাদার হবার কথা স্মরণ থাকে।

বাহারে শরীয়তের ৫ম খণ্ডের ১১৭ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, হুক্কা, সিগারেট, চুরুট ইত্যাদি পান করলে রোজা ভেঙ্গে যায়, যদিও নিজের ধারণা কণ্ঠনালী পর্যন্ত ধোঁয়া পৌঁছেনি।

এতে আরো বলা হয়, পান কিংবা তামাক খেলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে। যদিও সেটার পিক বারবার ফেলে দিয়ে থাকেন। কারণ কণ্ঠনালীতে সেগুলোর হালকা অংশ অবশ্যই পৌঁছে থাকে। এছাড়া চিনি কিংবা এমন খাবার জিনিস যা মুখে রাখলে গলে যায়, তাহলেও রোজা ভঙ্গ হবে।

দুররে মুখতার গ্রন্থে ৩য় খণ্ডের ৩৯৪ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে, দাঁতের মাঝখানে অসাবধানতাবশত:  কোনো জিনিস ছোলা বুটের সমান কিংবা তার চেয়ে বেশি কিংবা কম ছিল, এসব জিনিস মুখ থেকে বের করে আবার যদি খেয়ে ফেললে তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।

এতে আরো বলা হয়, দাঁত থেকে রক্ত বের হয়ে তা কণ্ঠনালীর নিচে নেমে গেলে, আর ওই রক্ত থুথু অপেক্ষা কম-বেশি কিংবা সমান হলো কিন্তু এর স্বাদ কণ্ঠে অনুভূত হলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। আর যদি স্বাদ অনুভূত না হয় তাহলে রোজা ভাঙ্গবে না।

ফতোয়া আলমগীরীর ১ম খণ্ডের ২০৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে, রোজা রাখা অবস্থায় কেউ ইচ্ছা করে ঢুস নিলো কিংবা নাকের ছিদ্র দিয়ে ঔষধ প্রবেশ করালো তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।

আলজাওয়াতুন নাইয়ারাহ এর ১ম খণ্ডের ১৭৮ পৃষ্ঠায় বলা আছে, কুলি করার সময় অনিচ্ছায় পানি কণ্ঠনালী বেয়ে নিচে নেমে গেলে, কিংবা নাকে পানি দিল, কিন্তু তা যদি মগজে পৌঁছে যায় তাহলে রোজা ভাঙ্গবে না। তবে রোজাদারের দিকে কেউ এমন কোনো কিছু নিক্ষেপ করলো আর তা তার কণ্ঠে পৌঁছে গেলো, তাহলে তার রোজা ভেঙ্গে যাবে।

ওই গ্রন্থে আরো বলা হয়েছে, ঘুমন্ত অবস্থায় পানি পান করলে, কিছু খেয়ে ফেললে,কিংবা মুখ খোলা অবস্থায় পানির ফোটা বা বৃষ্টির পানি কণ্ঠে চলে গেলে রোজা ভেঙ্গে যাবে।

ফতোয়া আলমগীরীতে উল্লেখ করা হয়েছে, অন্য কারো থুথু গিলে ফেললে, কিংবা নিজেরই থুথু হাতে নেয়ার পর আবার তা মুখে দিয়ে গিলে ফেলা হলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। থুথু কিংবা কফ যতক্ষণ মুখের ভেতরে থাকে আর কেউ যদি তা গিলে ফেলে তাহলে রোজা ভঙ্গ হবে না। তাছাড়া রোজায় বারবার থুথু ফেলা জরুরি নয়। এতে আরো বলা হয়, মুখে রঙ্গিন সুতা ইত্যাদি রাখার কারণে থুথু রঙ্গিন হয়ে গেলে এবং ওই থুথু গিলে ফেললে রোজা ভেঙ্গে যাবে।

দু এক ফোটা চোখের পানি মুখের ভেতরে চলে গেলে আর সেটা গিলে ফেললে রোজা ভাঙ্গবে না, তবে ফোটার পরিমাণ বেশি হয় আর তাতে লবণাক্ততা অনুভূত হয় তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। ঘামেরও একই বিধান প্রযোজ্য হবে। (ফতোয়া আলমগীরী- ১ম খণ্ড ২০৩ পৃষ্ঠা)

আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে সিয়াম সাধনার তওফিক দিন- আমিন।