দেশব্যাপী মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযানে আত্মগোপনে খুলনার মাদক বিক্রেতারা

শুক্রবার, ২৫ মে, ২০১৮ ২:৪৮:৫১ অপরাহ্ণ
0
154

খুলনা প্রতিনিধিঃ সাড়া দেশব্যাপী মাদকের বিরুদ্ধে সাড়াশি অভিযানে একের পর এক মাদক ব্যাবসায়ী ক্রসফারে নিহত হওয়ায় খুলনার চিহৃিত মাদক বিক্রেতারা আত্মগোপনে । র‌্যাব,পুলিশ,গোয়েন্দা পুলিশ, মাদকদ্রব্য’র নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সাঁড়াশি অভিযানের ফলে আত্মগোপনে চলে গেছে খুলনার মাদক বিক্রেতারা। খুচরা বিক্রেতারা অনেকে নিজ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন কিন্তু মাদকের পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতারা রয়েছেন এখনো বহাল তবিয়তে।
সূত্র মতে, স্থানীয় প্রশাসনের এক শ্রেণির পুলিশ এবং এক শ্রেণির রাজনৈতিক নেতাদের সরাসরি সম্পৃক্ততায় খুলনায় অবাধে ইয়াবা ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন মাদক দ্রব‌্য ঢুকছে। খুলনা মহানগীর বিভিন্ন থানায় মাদকসহ আটক ও মাদক দ্রব‌্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতারা বিভিন্ন সময় মাদকসহ আটক হয়ে কারাবরন করছে তাদের নাম উঠে এসেছে । উঠে এসেছে এ সকল মাদক ব্যাবসায়ীদের সাথে সখ্যতা ও পৃষ্ঠপোষকদের নাম ।সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে পাঠানো তালিকায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় ও হলসমূহে ইয়াবা সরবরাহের জন্য শহরতলীর মোহাম্মদনগর এলাকার মোঃ কালুর স্ত্রী তানিয়া, হরিণটানা ইসলামনগর এলাকার আলমগীর হোসেনের স্ত্রী পারভীন, রুস্তুম আলীর ছেলে কবির, মোহাম্মদনগর এলাকার রাবি, সাগর, মজিদ শেখের ছেলে হাসান শেখ, কালু, হরিণটানা হামিদনগর এলাকার চায়ের দোকানদার লাল মিয়ার ছেলে রবিউল ইসলাম, একই এলাকার মৃত আকাম শেখের পুত্র মনির ওরফে ফাটু মনির , একই এলাকার জয়নালের ছেলে চায়ের দোকানদার সাইদুর রহমান, হরিণটানা থানার এএসআই মোঃ রিপন মোল্যা, মোঃ হাসানুজ্জামান। লবনচরা এলাকার মোঃ জাহিদুল ইসলাম ,খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েটে) মাদক বিক্রেতা ও সরবরাহকারীদের মধ্যে গিলাতলার দক্ষিণপাড়ার আবু হানিফের স্ত্রী মোছাঃ শাবানা বেগম, একই এলাকার আজমত আলীর ছেলে নূরে আলম খান, গিলাতলা মীরপাড়া এলাকার মৃত রজব আলীর খাঁ’র ছেলে মোঃ জামাত খাঁ, ফুলবাড়িগেট এলাকার বাদশা মিয়ার স্ত্রী বিলকিস, রেলিগেটের মায়া,রেখা, মিন্টু,মোঃ ইসলাম শিকদার, মৃত ময়েন কাজীর পুত্র আনিস কাজী,সূর্য বেগম,রঙমিল গেট এলাকার ইউসুফ হায়দারের স্ত্রী রেখা, গাবতলা এলাকার সৈয়দ মোশারেফের ছেলে সৈয়দ আশরাফুল, একই এলাকার বাবুল মীরের ছেলে টুকু মীর, মীরেরডাঙ্গা এলাকার মৃত শেখ আব্দুল জলিলের ছেলে শেখ মোহাম্মদ এমদাদুল হক, ফুলতলা উপজেলার মশিয়ালী পূর্বপাড়া গ্রামের মোঃ ইসলাম শেখের ছেলে মোঃ রাজিব শেখ, একই গ্রামের নূরু শেখের ছেলে রাজু শেখ। নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি ও নর্দান ইউনিভার্সিটি এলাকায় সরবরাহকারীরা হচ্ছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক লীগ খুলনা মহানগর শাখার সভাপতি নিখিল কুমার সাহা, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস হোসেন সোহেল, বয়রা ইসলামিয়া কলেজ রোড এলাকার মোঃ রমজান আলীর ছেলে আলমগীর কবির খোকন,জগলু কাদের ওরফে প্রফেসর কাদের,রায়েরমহল এলাকার মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন কালু,ইমরান,জাহাঙ্গীর,রিয়াদ,শামীম,রাব্বি মুন্সী,রায়ের মহল পশ্চিমপাড়ার দাউদের পুত্র শেখ ডালিম ,মৃত আইজে খুনোর পুত্র আলমগীর, বয়রা বৈকালী এলাকার নাজমুল,খলিল, মুজগুন্নী, আরাফাত মসজিদ এলাকায় মোঃ মিলন শেখ,মোঃ খাইরুল ইসলাম, সোনাডাঙ্গা সোনালীনগর হাতেম আলী বাইলেনের বাবুল হোসেন সরদারের মেয়ে হোসনে আরা, সোনাডাঙ্গা থানা রোড এলাকার আল কাফি মল্লিক জনির স্ত্রী এমিলি রহমান বুবলি ও সোনাডাঙ্গা সোনালীনগর এলাকার ফকরুদ্দীন বাহাদুরের মেয়ে জাহানারা বেগম। জোরাগেটের মোঃ কামাল ব্যাপারী,কুরছিয়া বেগম,বয়রা কলেজ বাউন্ডারী রোডের মোঃ শাহজাহানের পুত্র মোঃ সাকিল আহম্মেদ,মুজগুন্নী ভিক্টরিয়া ক্লাবের পাশে মোঃ মাসুদ রানা,মোঃ আরমান @ সাগর,শেখ হাসিবুর রহমান (লিমন), ৫ নং মাছ ঘাট মোঃ পিন্টু হাওলাদার,জোরাগেট মন্টুর কলোনীর মোঃ উজ্জল হোসেন জুয়েল , মোঃ শফিকুল ইসলাম,নেভী কলোনী আঃ লতিফের পুত্র মোঃ হাসান,নাদের আলীর পুত্র মোঃ ইখতিয়ার হোসেন সজল,শিমুল দাস মোসাঃ রওশন আরা বেগম, রেকসনা বেগম,আলমনগরের ইয়াবা সম্রাট বাবু @ কাগজ বাবু ,বাপ্পী,তাজনবী,হাদিউজ্জামান আরিফ,মহাসিন কলেজ এলাকায় মৃত আবু বক্কার সিদ্দিকের পুত্র মোঃ সাকিব রহমান টিটু , সাইদুর রহমানের পুত্র মোঃ তুষার আহম্মেদ, মোঃ তুহিন আহম্মেদ ,দৌলতপুর কলেজ রোডের ফেন্সিডিল সম্রাট সেরেকুল,মেহেদী ওরফে কানা মেহেদী,মোঃ রিপন শেখ, মোঃ আলী,দক্ষিন কাশিপুর মজিবর ও তার স্ত্রী সাফিয়া বেগম @ সাফি,উত্তর কাশিপুরের আঃ রহমান শেখ, কাশিপুর, বাইতিপাড়া রোডের রফিকের পুত্র সোহেল রানা, মোঃ রিয়াজ মুন্সি,ক্রিসেন্ট রেল লাইন, দেলোয়ারের স্ত্রী জাহানারা ওরফে জানু, হোসনে আরা ও লুৎফার নাহার লুতু এই তিন বোন মাদক ব্যবসায় জড়িত এছাড়াও  বারেক শেখের পুত্র মোঃ রাজু মোল্লা,আলামিন,সোহেল,মোস্ত,ডালিম,আজিজুল ইসলাম আজিজ,চিত্রালী সুপার মার্কেট এলাকায় মফিজুর রহমান ওরফে মাজু,সুমন,প্লাটিনাম শ্রমিক কলোনীর মোঃ মহসিন,পিপলস পাঁচতলা কলোনীর শামীম,মোঃ শিপন মিয়া,আরিফ, পিপলস কলোনীর মামুন ওরফে মেম্বার মামুন তার ভাই সুমন,মোঃ লুৎফর শেখের পুত্র মোঃ রহমত শেখ ওরফে রহমান, মোঃ ইশা খাঁর স্ত্রী শিল্পী বেগম,হাউজিং এলাকার নাদিমের স্ত্রী আমেনা বেগম, বাস্তহারার মাদক সম্রাট কামাল সরদার ও তার স্ত্রী শীল্পি,গাজী আব্দুল আলিম,মোঃ ইকরামুল খান,বঙ্গবাসী এলাকায় ছাত্তার,সাব্বিরের পুত্র মোঃ সুমন, মোঃ আব্দুল খালেক,পিয়ারু, মোঃ সোহেল ,বিপ্লব শিকদার,বেল্লাল হোসেন ও তার স্ত্রী রেক্সানা বেগম, ফেকু খাঁনের পুত্র মোঃ আশিক খান,নয়াবাটির মোঃ ইমন হাওলাদার ,দক্ষিন টুটপাড়া.রিজিয়া বেগম, মোঃ মুন্না মল্লিক ,কাশিপুর এলাকায় পারভীন,আলী আজিম,সোহেল ওরফে ডিম সোহেল,রিপন,মোঃ বাদল গাজী,পাবলা এলাকার রফিক ও তার তাসলিমা আক্তার আশা,পাবলা দত্ত বাড়ীর রাশিদা @ সাথী খালিশপুর সেন্ট্রাল ব্লকের মৃত এনাম গোলদারের পুত্র সাকিবুল হক তানিম গোলদার এ ছাড়াও নগরীর বয়রার ২৮শ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধারের আসামী ডুমুরিয়ার মো. সবুর,উত্তর কাশিপুর এলাকার ফারুক শেখ, রায়ের মহলের আরিফ ও যশোরের ঝিকরগাছার গদখালি গ্রামের পলাশ । ইতোমধ্যে তালিকাভুক্ত পাইকারি ও খুচরা মাদক বিক্রেতারা নিজেদেরকে আড়াল করে রেখেছেন। পৃষ্ঠপোষক ও আশ্রয়-প্রশয়দাতাদের তালিকায় রয়েছে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নব-নির্বাচিত দু’জন কাউন্সিলরের নাম রয়েছে।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এর উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, তাদের সাঁড়াশি অভিযানে তালিকাভুক্ত পাইকারি ও খুচরা মাদক বিক্রেতাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা কারণ তারা আত্মগোপনে রয়েছেন। বিভিন্ন জায়গায় অভিযানে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় মাদক বিক্রেতারা আটক হচ্ছে।
মাদকদ্রব্য’র গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক মোঃ পারভিন আক্তার বলেন, বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে গাঁজাসহ দুই মহিলা মাদক বিক্রেতাকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনকে জরিমানা অন্যজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। তিনি বলেন, অভিযান অব্যাহত থাকায় পাইকারি ও খুচরা মাদক বিক্রেতারা গা ঢাকা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় এর উপ-পরিচালক মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন, নিজেদের সাথে মাদক বিক্রেতাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা বা মাদক বিক্রির সাথে জড়িত নেই বলে মর্মে অনেকে কার্যালয় এসে লিখিতভাবে জানাচ্ছেন। আমরা এগুলো যাচাই-বাছাই করছি।
উল্লেখ্য, গত ২২ মে জেলা মাদকদ্রব্য’র নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় ১৫ দিনব্যাপী মাদক বিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেন। ওই দিন দিনব্যাপী অভিযান চালিয়ে তিন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেন। তাদের এ অভিযান আগামী ৪ জুন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।