২০১৭ সাল ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর বছর

রবিবার, ২৭ মে, ২০১৮ ২:২৫:২৭ অপরাহ্ণ
0
142

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০১৭ সাল ছিল অগ্রণী ব্যাংকের ঘুরে দাঁড়ানোর বছর। এ সময় আমরা শুধু ঘুরেই দাঁড়াইনি, বরং ২০১৮ সালকে ‘অগ্রযাত্রার’ বছর ঘোষণা করতে পেরেছি। আগের বছরের তুলনায় অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা সাড়ে ৪৬ শতাংশ বেড়ে ২০১৭ সালে ৮১৩ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। এ সময় অগ্রণী ব্যাংকের নিট মুনাফা হয়েছে ৬৭৬ কোটি টাকা। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯৭ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের ১১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. শামস্-উল ইসলাম গতকাল এ কথা বলেন।

অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এজিএমে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অরিজিৎ চৌধুরী, অগ্রণী ব্যাংকের পরিচালক মাহমুদা বেগম, সংগীতা আহমেদ, শামীম আহসান, বেগম হাসিনা নেওয়াজ, ড. নিতাই চন্দ্র নাগ, মো. আশিকুল হক চৌধুরী, কাসেম হুমায়ুন, মো. আনছার আলী খান, ব্যাংকটির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) মো. ইউসুফ আলীসহ অন্যান্য ডিএমডি ও মহাব্যবস্থাপক (জিএম) উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত বলেন, বিদায়ী বছর অগ্রণী ব্যাংকের জন্য ভালো গেছে। এ ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও ধরে রাখতে হবে। ব্যাংকারদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। ঋণ বিতরণে ব্যাংকারদের আরো বেশি সতর্ক হতে হবে। খেলাপি ঋণ আদায়ের জন্য ব্যাংকারদের আরো বেশি মনোযোগ দিতে হবে।

২০১৭ সালে ব্যাংকের সাফল্য, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও বিভিন্ন আর্থিক সূচকের অবস্থা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন ব্যাংকের এমডি ও সিইও মো. শামস্-উল ইসলাম। তিনি বলেন, আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ বেড়ে ২০১৭ সালে ব্যাংকের মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ৬৭ হাজার ৩৯২ কোটি টাকায়। ৪৬ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেড়ে এ সময় ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৮১৩ কোটি টাকায়। নিট সুদ আয়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকটি এবার উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। ২০১৬ সালে যেখানে ব্যাংকের নিট সুদ আয়ের পরিমাণ ছিল মাত্র ৮৩ কোটি টাকা, সেখানে গত বছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৩৫ কোটি টাকায়। এক্ষেত্রে ব্যাংকের প্রবৃদ্ধি ৪২৪ শতাংশ।

তিনি আরো জানান, গত বছর ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ২০১৬ সালের তুলনায় ১৯৯ শতাংশ বেড়েছে। এ সময় প্রতি শেয়ারে ব্যাংকটির আয় হয়েছে ৩২ টাকা ৬২ পয়সা। ২০১৬ সালে ব্যাংকে জমা মোট আমানতের পরিমাণ ছিল ৪৯ হাজার ৪০৫ কোটি টাকা। ওই বছরের তুলনায় ৩ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা বেড়ে গত বছর এ আমানতের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪৩ হাজার ৩৫ কোটি টাকায়। এক্ষেত্রে ব্যাংকের আমানত প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

মো. শামস্-উল ইসলাম বলেন, গত বছর ব্যাংকের ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ ২০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৩১ হাজার ৯১২ কোটি টাকায়। এ সময় ঋণ-আমানত অনুপাত বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে শ্রেণীকৃত ঋণের হার ৮ দশমিক ১৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ৫ হাজার ৫৭০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। গত বছর অগ্রণী ব্যাংক শ্রেণীকৃত ঋণ থেকে আদায় করেছে ১ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা, যা ব্যাংকের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

তিনি আরো বলেন, বৈদেশিক রেমিট্যান্স আহরণের ক্ষেত্রে আগের বছরের মতো ২০১৭ সালেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানে ছিল অগ্রণী ব্যাংক। এ সময় ব্যাংকটি মোট রেমিট্যান্স আহরণ করেছে ১০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে একমাত্র অগ্রণী ব্যাংকেরই কোনো মূলধন ঘাটতি নেই।

সভায় উঠে আসে, শ্রেণীকৃত ঋণ হ্রাস ও নগদ আদায়ে সফলতার কারণে ২০১৭ সালে ব্যাংকের ঋণ পোর্টফোলিও আরো শক্তিশালী হয়েছে। ফলে একদিকে যেমন ঝুঁকিভিত্তিক সম্পদের বিপরীতে কোনো ধরনের মূলধন ঘাটতি নেই, তেমনি আরেক দিকে ঋণ ও অগ্রিমের বিপরীতে কোনো প্রভিশন ঘাটতিও নেই, যা ব্যাংকের জন্য একটি শুভ লক্ষণ।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অরিজিৎ চৌধুরী তার বক্তব্যে ২০১৭ সালে অগ্রণী ব্যাংকের সাফল্যের ক্ষেত্রগুলো নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সামনের দিনগুলোয় ব্যাংকটি সব ধরনের আর্থিক সূচকে বাড়তি প্রবৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে শীর্ষস্থানে উঠে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

২০১৭ সালের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণীর ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা করতে গিয়ে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত সব ব্যবসায়িক ও আর্থিক সূচকে ব্যাংকটির অগ্রগতি ও সাফল্য নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।