মির্জাপুরে পুলিশের মাদক বিরোধী অভিযান

সোমবার, ২৮ মে, ২০১৮ ১০:২৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ
0
127

মির্জাপুর  প্রতিনিধি

মির্জাপুরে দুই ছিনতাইকারীসহ ৭ মাদকসেবীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে পৌর এলাকার পুষ্টকামুরী সওদাগর পাড়া থেকে তাদের আটক করা হয়।আটক ৭জন হচ্ছেন, ছিনতাইকারী সোহেল (২৫) ও আলামিন (২৫)। মাদকসেবী শিপন (৩৫), বিজয় (৩০), শুভ মিয়া (২০), রানা (২৩), কাশেম (২০)। তাদের সবার বাড়ি পুষ্টকামুরী সওদাগরপাড়া বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজান বলেন, এরা সওদাগড় পাড়ায় চিহ্নিত ছিনতাইকারী ও মাদকসেবী। আটকের পর রবিবার আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
অপর দিকে উপজেলায় তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী, চিহিৃত অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে মাঠে নেমেছেন পুলিশ। এসব অপরাধীদের নামে মাদক ব্যবসা, চুরি, ডাকাতি, হত্যা ও ছিনতাই মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে মির্জাপুর থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও র‌্যাব অভিযান চালাচ্ছেন বলে পুলিশ সুত্র জানিয়েছেন।

গত ১০ দিনে বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত ও তালিকাভুক্ত অনন্তত ২৫ জন অপরাধীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের খবর পেয়ে অনেক অপরাধীই এখন এলাকা থেকে আত্তোগোপনে চলে গেছেন। অনেকে গোপনেই তাদের অবৈধকার চালিয়ে যাচ্ছে বলে ভিযোগ রয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশের সঙ্গে ক্রস ফায়ারে মাদক ব্যবসায়ী ও এলাকার চিহিৃত ছিনতাইকারী ইমন নিহত হয়েছে। একটি প্রভাবশালী মহল ও মাদক ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে মাদক ব্যবসা করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে মির্জাপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘোষনা দিয়েছেন, মাদক ও জুয়ার সঙ্গে যারা জড়িত কোন অবস্থায় তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। যত বড় প্রভাবশালিই হোক না কেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

পুলিশ সুত্র জানায়, মাদক নির্মুল করার জন্য পুলিশ জিরো টলারেন্স ঘোষনা করে চিরুনি অভিযানে নেমেছে। বিভিন্ন সময়ে তালিকা ভুক্ত মাদক ব্যবসায়ীর নাম রয়েছে পুলিশের হাতে। গ্রেফতারের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ হয়নি। তাদের গ্রেফতারে এখন পুলিশ মরিয়া হয়ে কাজ করছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু মাদক ব্যবসাযী, জুয়াড়ি ও এলাকার চিহিৃত সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মির্জাপুরে দীর্ঘ দিন ধরে মাদকের বিস্তার লাভ করে।

 

বঙ্গবন্ধু সেতু চালু হওয়ার পর ভারত ও উত্তরাঞ্চল থেকে ট্রেন ও বাস যোগে ফেনসিডিল, ইয়াবা, গাঁজা ও বিভিন্ন নেশা জাতীয় মাদক আসছে মির্জাপুরে। পৌরসভার পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে গ্রামে ছড়ি পরে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা ও চোলাই মদ। উঠতি বয়সের যুবক-যুবতীরা নেশায় আসক্ত হয়ে বিভিন্ন অপরাধ ও অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পরেছে। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, মহেড়া, জামুর্কি, ফতেপুর, বানাইল, আনাইতারা, ওয়ার্শি, ভাদগ্রাম, বহুরিয়া, গোড়াই, লতিফপুর, আজগানা, তরফপুর ও বাঁশতৈল ইউনিয়নের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় মাদকের ভয়াবহ চিত্র বলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগন অভিযোগ করেছেন। ইউনিয়নের চেয়ে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাদকের বিস্তার আরও ভয়াবহ।

 

অপর দিকে অপরাধীদের ধরতে পুলিশের এমন সাঁড়াশি অভিযানকে সমর্থন ও সাধুবাদ জানিয়েছেন সকল পেশার লোকজন। সমাজ ও দেশের স্বার্থে যে কোন উপায়ে তারা অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য জোরদাবী জানিয়েছেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত সাদমীন ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) মো. আজগর হোসেন জানিয়েছেন, মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন অসামাজিক কাজে যারা জড়িত তাদের ধরতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুলিশকে সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।

 

এ ব্যাপারে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক মিজান বলেন, পৌরসভা ও মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে মাদক ও জুয়াকে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও মাদক নির্মুল কমিটির সহায়তায় জুয়াড়ি ও মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে সাঁড়াশি অভিযান শুরু হয়েছে। মাদক মুক্ত সমাজ গঠনে এলাকার জনপ্রতিনিধি, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সুধীজনদের নিয়ে আইনশৃংখলার উন্নয়নের জন্য সভা সমাবেশ করা হচ্ছে এবং আটক কৃতদের আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।