সোমবার, ২৮ মে, ২০১৮ ১০:৪২:২৪ পূর্বাহ্ণ
0
118
bd

মাদকবিরোধী অভিযান

সারাদেশে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১২

জার্নাল ডেস্ক

সারাদেশে চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ৯ জেলায় ১২ জন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে কুমিল্লা ২, নাটোর ১, ঝিনাইদহ ১, ঢাকা ১, মুন্সিগঞ্জ ১, চাঁদপুর ১, পিরোজপুর ২, পাবনা ১ ও সাতক্ষীরাতে ২ এ সব ঘটনা ঘটে। এসব ‘বন্দুকযুদ্ধে’ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। রোববার দিবাগত রাত ১২ থেকে সোমবার ভোর পর্যন্ত দেশের বিভিন্নস্থানে চলা এসব অভিযানে নিহতরা মাদক ব্যবসায়ী বলে দাবি করেছে র‍্যাব ও পুলিশ।

যুগের কন্ঠ প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

 

ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরে রূপনগর থানাধীন ট-ব্লক এলাকায় ডিবি পুলিশের (পশ্চিম) সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এক অজ্ঞাত ব্যক্তি (৪০) নিহত হয়েছেন।

কুমিল্লা: কুমিল্লায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। রোববার দিবাগত রাত ১টা ৫০ মিনিটে সদর দক্ষিণ উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নুরু (৫৫) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। উপজেলার গলিয়ারা-লক্ষ্মীপুর গ্রামের মাঝখানে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নুরু জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে যারমধ্যে একটি অস্ত্র ও ১০টি মাদক মামলা। সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের টিম গলিয়ারা-লক্ষ্মীপুর গ্রামের সীমান্তে যায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে মাদক ব্যবসায়ীরা। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি করলে নুরু গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন।

এদিকে দেবিদ্বার উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এনামুল হক দোলন (৪০) নামের এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এসময় এসআই যুবরাজ বিশ্বাস ও দুই কন্সটেবল আহত হন। রোববার দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে উপজেলার পশ্চিম জিংলাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত এনামুল হক দোলন জেলার দেবিদ্বার উপজেলার জিংলাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে ১৩ টি মামলা রয়েছে যারমধ্যে ১২টি মাদক মামলা। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের টিম পশ্চিম জিংলাবাড়ি এলাকায় গেলে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশের ওপর হামলা করে মাদক ব্যবসায়ীরা। পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি করলে এনামুল হক দোলন গুলিবিদ্ধ হয়। এসময় একজন এসআইসহ ৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। আহত অবস্থায় দোলনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে মাদকের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় ফরিদ(২০) নামের একজন মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। রোববার গভীর রাতে সদর উপজেলার জাড়গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ জানায়, রাত ১টার দিকে জাড়গ্রামে গোলাগুলির শব্দ শুনে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে।  সেখানে একজনের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখে। তার পাশ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ২ রাউন্ড গুলি, কেজি খানেক গাঁজা, ২০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।

নাটোর: নাটোরের সিংড়ায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত ব্যক্তি মাদক ব্যবসায়ী বলে জানিয়েছে র‍্যাব। র‍্যাব ৫ থেকে জানা যায়, রোববার দিবাগত রাত দেড়টায় জেলার সিংড়া উপজেলার ভাগনাগরকান্দি এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে গুলি বিনিময় চলাকালে এক মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়। গুলিবিদ্ধ মাদক ব্যবসায়ীকে সিংড়া থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করে। নিহত ব্যক্তির নাম ও পরিচিয় জানা যায়নি।

রূপনগর থানা উপ-পরিদর্শক মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রূপনগর ট-ব্লক এলাকায় সরকারী কর্মচারীদের জন্য নির্মাণাধীন ভবনে মাদকব্যবসায়ীর অবস্থান করছে, এমন খবর পেয়ে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল রাত তিনটার দিকে সেখানে যায়। অবস্থা বেগতিক বুঝে মাদকব্যবসায়ীরা গুলি ছোঁড়ে পুলিশদের উদ্দেশ্য করে। গোয়েন্দা পুলিশের দলটিও পাল্টা গুলি ছুঁড়লে একজন নিহত হন। নিহত ব্যক্তির নাম জানা যায়নি। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই ব্যক্তিকে জরুরি বিভাগে আনা হয়। ভোর চারটার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মুন্সিগঞ্জ: মুন্সিগঞ্জের মিরকাদিম পৌরসভায় দুই মাদকব্যবসায়ী গ্রুপের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে সুমন বিশ্বাস ওরফে কানা সুমন(৩২) নামে এক মাদকব্যবসায়ী নিহত হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে পৌর এলাকার কাছলা ব্রিজ থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুমন নৈদিঘীর পাথর গ্রামের বাবুল বিশ্বাসের ছেলে।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) গাজী সালাউদ্দিন জানান, দুই মাদক গ্রুপের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় সুমন। স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় ২৫টি মাদক মামলা রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে এছাড়া বিপুল পরিমান ইয়াবা ও দুইটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে যে দুই গ্রুপের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ হয় তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।

চাঁদপুর: চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার গুপ্টি পূর্ব ইউনিয়নে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মাদক ব্যবসায়ী আবু সাঈদ বাদশা ওরফে লাল বাদশা (৪৫) নিহত হয়েছেন। রোববার দিবাগত রাত ২টায় ওই ইউনিয়নের বৈচাতলী এলকায় এই ঘটনা ঘটে। বাদশা একই উপজেলার ১০নং গোবিন্দপুর দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব গোবিন্দপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। তার বিরুদ্ধে ফরিদগঞ্জ থানায় ১০টি মাদক মামলা রয়েছে।

ফরিদগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, পুলিশের একটি দল অভিযানে বের হয়ে উপজেলার গুপ্টি ব্রিজ এলাকায় গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর হামলা ও গুলি চালায়। এসময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে আবু সাঈদ বাদশা গুলিবিদ্ধ হন। আহত অবস্থায় তাকে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। এসময় পুলিশের ৬ সদস্য আহত হয়েছেন। বাদশার মরদেহ দুপুরে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।

পিরোজপুর: পিরোজপুরে পুলিশের সঙ্গে আলাদা বন্দুকযুদ্ধে মো. ওহিদুজ্জামান (৩৭) ও মিজানুর রহমান সরদার (৩৫) নামের দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। রোববার দিবাগত রাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে তারা মারা যান। নিহত ওহিদুজ্জামান নেছারাবাদ উপজেলার কৌড়িখাড়া গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে। আর নিহত মিজানুর রহমান সরদার মঠবাড়িয়া উপজেলার খায়ের ঘটিচোরা গ্রামের লাল মিয়া সরদারের ছেলে। বন্দুকযুদ্ধে মঠবাড়িয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল আমিন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আহত হয়েছেন সাত পুলিশ সদস্য।

পিরোজপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক এ কে এম মিজানুল হকের ভাষ্যমতে, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে গোয়েন্দা পুলিশ পিরোজপুর পৌরসভার কৃষ্ণপুর এলাকা থেকে ওহিদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর ওহিদুজ্জামান পুলিশকে জানান, তার কাছে অস্ত্র ও মাদক রয়েছে। এরপর রাতে পুলিশ ওহিদুজ্জামানকে নিয়ে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে বের হয়। রাত পৌনে একটার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার টোনা বেইলি সেতু এলাকায় ওহিদুজ্জামানের সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে এবং ওহিদুজ্জামানকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এ সময় দুই পক্ষের গোলাগুলিতে ওহিদুজ্জামান গুলিবিদ্ধ হন। তখন পিরোজপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এবি আল আমিন ও কনস্টেবল মোস্তাফিজুর রহমান গুলিবিদ্ধ হন। পিরোজপুর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ওহিদুজ্জামানকে মৃত ঘোষণা করেন।

আরেকটি বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন মিজানুর রহমান। মঠবাড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম ছরোয়ার জানান, রবিবার দিবাগত রাতে মঠবাড়িয়া উপজেলার বড়মাছুয়া গ্রামের হাওলাদার বাড়ি এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতির খবর পেয়ে থানা-পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। রাত পৌনে দুইটার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার পর ডাকাতেরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। দুই পক্ষের গোলাগুলিতে মিজানুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন। এ সময় মঠবাড়িয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাজহারুল আমিন, উপপরিদর্শক নজরুল ইসলাম, তসলিমুর রহমান ও নূর আমিন, সহকারী উপপরিদর্শক ইয়ার আলী ও আবুল হাসান আহত হন। মাজহারুল আমিনের বাঁ হাতে গুলি লাগে। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।

সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটারগান ও ১০৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার সকালে সাতক্ষীরা পৌরসভার বাকাল আগুনপুর গ্রামের একটি মৎস্য ঘের সংলগ্ন কাঁচারাস্তা থেকে মরদেহ দু’টি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, মাদক ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে মাদক বিক্রেতাদের দু’পক্ষের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে এ হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারে।

পাবনা: পাবনার বেড়া উপজেলার তেঘরি গ্রামে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ ইজ্জত আলী (২৮) নামে এক ডাকাত ও মাদক বিক্রেতা নিহত হয়েছেন। রোববার (২৭ মে) দিবাগত রাত দুইটার দিকে পাবনার বেড়া উপজেলার তেঘড়ি গ্রামে এ ‘বন্দুকযুদ্ধে’র ঘটনা ঘটে। পুলিশের দাবি, ইজ্জত আলী তালিকাভুক্ত মাদক বিক্রেতা ও ডাকাত। তিনি একই উপজেলার হাটুরিয়া গ্রামের মৃত আজাহার আলী প্রামাণিকের ছেলে।