প্রচ্ছদ

চুয়াডাঙ্গায় ৩ ডাক্তারের বিরুদ্ধে ফের মামলা

৩০ মে ২০১৮, ১০:৩৩

যুগের কন্ঠ ২৪ ডট কম
চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:

চুয়াডাঙ্গা শহরের ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল হাসপাতালের তিন চিকিৎসকের নামে আরো একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হকপাড়ার জাহানারা বেগম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন।

আদালতের বিচারক মামলাটি তদন্ত করার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার আসামিরা হলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. মো. শাহীন, মেডিকেল অফিসার ডা. পারভীন ইয়াসমিন ও কনসালটেন্ট সনোলজিস্ট ডা. সাইফুল কবির।

মামলার বিবরণে জানা গেছে, মামলায় বাদীর ভাই মো. ইউনুস আলী ২০১৭ সালের ৩১ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা ইম্প্যাক্ট মাসুদুল হক মেমোরিয়াল হাসপাতালে আসেন। ইউনুস আলীর চোখ দেখে হাসপাতালের চিকিসক ডা. পারভীন ইয়াসমিন ও ডা. সাইফুল কবির ব্যবস্থাপত্রসহ রোগীকে হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. মো. শাহীনের কাছে পাঠান। ওইদিনই ডা. শাহীন রোগীর বাম চোখের ছানি অপারেশন করেন। ছানি অপারেশনের পর রোগির চোখ ভাল হওয়ার পরিবর্তে আরো খারাপ হতে থাকে। বাম চোখের অপারেশনের প্রভাব পড়ে ডান চোখেও। দুচোখেই যন্ত্রণা শুরু হয়। ইউনুস আলী দুচোখেই ঝাপসা দেখতে থাকেন। বিষয়টি ইম্প্যাক্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জনানো হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো সদুপদেশ দিতে পারেনি।

পরে গত সোমবার ইউনুস আলীকে নিয়ে যাওয়া হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. আমিনুর রশিদ বাচ্চুর কাছে। তিনি রোগীকে পরীক্ষা করে জানান, অপারেশনের সময় তার বাম চোখের শিরা কেটে গেছে। এ কারণে চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে আসছে। একই কারণে ডান চোখেও তার প্রভাব পড়েছে।

ইউনুস আলীর বোন মামলার বাদী জাহানারা বেগম মামলার আরজিতে উল্লেখ করেছেন, ইম্প্যাক্ট হাসপাতালের চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসা এবং ভেজাল ওষুধের কারণে ইউনুস আলীর চোখ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভুল চিকিৎসার কারণে ইউনুস আলীর চোখের যে ক্ষতি হয়েছে তাতে ৫০ লাখ টাকার সমপরিমান ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আদালতের বিচারক চুয়াডাঙ্গা আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল হালিম বাদীর বক্তব্য লিপিবদ্ধ করে মামলাটি তদন্ত করার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জকে নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, গত ৫ মার্চ এই হাসপাতালে চোখের অপারেশন করে ২০ রোগীর একটি করে চোখ নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হলে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত হয়। এসব ঘটনা নিয়ে হাসপাতালের চিকিৎকদের নামে ইতিপূর্বে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে।

Shares