বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস বৃহস্পতিবার

বুধবার, ৩০ মে, ২০১৮ ২:৩৮:৩৯ অপরাহ্ণ
0
180
নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস বৃহস্পতিবার (৩১ মে)। এবারে দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয়- ‘তামাক করে হৃদপিণ্ড ক্ষয়/স্বাস্থ্যকে ভালোবাসি, তামাককে নয়।’

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে বুধবার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক এ তথ্য জনান।

তিনি বলেন, ‘হৃদরোগের সঙ্গে তামাক সেবনের সম্পর্ক বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ বছর প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘তামাক হচ্ছে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর প্রধান কারণ। তামাকের নেশার ছোবলে পৃথিবীতে প্রতি ৬ সেকেন্ডেরও কম সময়ে একজন ও বছরে ৭০ লাখের বেশি মানুষ মারা যায়। এরমধ্যে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ৯ লাখ মানুষ মারা যায়। তামাকজনিত মৃত্যুর ৮০ ভাগই হয় বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে। তামাকজনিত কারণে মৃত্যুর সংখ্যা ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, এইডসের সম্মিলিত মৃত্যুর চেয়েও বেশি। এজন্য বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা তামাককে মহামারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।’

‘বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে হৃদরোগজনিত মৃত্যুর প্রায় ১২ শতাংশের জন্য দায়ী তামাক ব্যবহার এবং পরোক্ষ ধূমপান। হৃদরোগের কারণ হিসেবে উচ্চ রক্তচাপের পরই তামাক ব্যবহারের স্থান।’

জাহিদ মালেক বলেন, ‘২০০৯ সালের গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে অনুযায়ী, বাংলাদেশে ১৫ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের ৪৩ দশমিক ৩ শতাংশ বা ৪ কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ তামাক সেবন করে। ৪৫ শতাংশ বা প্রায় সাড়ে ৪ কোটি প্রাপ্তবয়স্ক অধূমপায়ী মানুষ জনসমাগমস্থলে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন।’

আরেকটি জরিপের তথ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার তামাক থেকে যত রাজস্ব পায়, এর দ্বিগুণের বেশি তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় ব্যয় হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাংরি ফর টোব্যাকো শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, তামাক সেবনকারীরা যদি তাদের তামাকের ব্যয়ের ৬৯ শতাংশ অর্থ দিয়ে খাদ্য কেনে তবে অপুষ্টিজনিত মৃত্যু অর্ধেকে নামিয়ে আনা সম্ভব।’

দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে তামাকজাত দ্রব্যের উপর ১ শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ আরোপসহ সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা হবে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম।’

এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও দিবস পালনে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচি নেয়া হবে বলেও জানান জাহিদ মালেক।

এ সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।