আজ বীর মুক্তিযোদ্ধা সামছুল আলম তালুকদার এর ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকীর স্মরণ

বৃহস্পতিবার, ৩১ মে, ২০১৮ ১২:৫৯:৩৯ অপরাহ্ণ
0
225

মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসাঃ২০১৪ সালের ৩১ মে শনিবার ভোর রাতে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সামছুল আলম তালুকদার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর। তিনি স্ত্রী, ৫ ছেলে ও ৩ মেয়েসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা সামছুল আলম তালুকদার মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সুন্দরবন অঞ্চলের সাব-সেক্টরের কমান্ডার দায়িত্ব পালন করেন। তৎকালীন পুর্ব পাকিস্থান ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে শুরু হয় তার রাজনৈতিক জীবন।

তিনি বাগেরহাট সরকারি পিসি কলেজের জিএস, মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানীর স্নেহধন্য এই নেতা ভাসানী ন্যাপের বৃহত্তর খুলনা জেলার সাধারন সম্পাদক, বাগেরহাট বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সাধারন সম্পাদক ছিলেন। মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়ামের সদস্য ছিলেন।

বাগেরহাটের বিভিন্ন গনতান্ত্রিক ও সামাজিক আন্দোলনে অসাম্প্রদায়িক এ নেতা জেলার মোড়েলগঞ্জ ও শরনখোলায় অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন এই নেতা।

শামসুল আলম তালুকদার পিরোজপুরের ভা-ারিয়া উপজেলার ইকরি গ্রামের প্রয়াত মনুচেহের তালুকদারের ছেলে। ষাটের দশকে তিনি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম খোন্তাকাটা গ্রামে জমি কিনে পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন।

ছাত্রজীবনে রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত এই মুক্তিযোদ্ধা বাগেরহাট পিসি কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

১৯৬৪ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন খুলনা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হন এবং পরের বছর সাধারণ সম্পাদক হন। ১৯৬৭ সালে এই সাক্ষী ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন ও এক বছর পরে সহসভাপতি হন।

১৯৬৯ সালে তালুকদার মওলানা ভাসানীর নেতৃত্বে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টিতে (ন্যাপ) যোগ দেন এবং ১৯৭০ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে অংশ নেন।
১৯৭৮ সালে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০০৮ সালে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে অব্যাহতি নেন। মৃত্যুর কিছুদিন আগে তিনি কাজী জাফরের জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন এবং কাজী জাফর আহমেদের জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর পক্ষে সাফাই সাক্ষী দেয়া মুক্তিযোদ্ধা এবং সাব সেক্টরের সেকেন্ড ইন কমান্ড শামসুল আলম তালুকদার। সেই সময় ব্যাপক আলোচনায় আসেন। তিনি মুুক্তিযোদ্ধা সংসদেরও যুগ্ম মহাসচিবেরও দায়িত্ব পালন করেন। বীর মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলম তালুকদারের মেয়ে জাতীয়তাবাদী সংগ্রামী দলের সভাপতি ও বাগেরহাট জেলা বিএনপি’র সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ফারহানা জাহান নিপার উদ্যোগে আজ মোড়েলগঞ্জ, শরণখোলা ও রায়েন্দার বিভিন্ন মসজিদে মিলাদ ও দোয়া, ইফতারের আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়াও পরিবারের পক্ষ থেকে মরহুমের কবর জিয়ারত করা হয়। এসব অনুষ্ঠানে বিএনপি সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও ঢাকার হাইকোর্ট মাজার মসজিদে মরহুমের জন্য মিলাদ ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
লেখকঃ ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব
এনডিপি