মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় ‘বাঙ্গালি রুটি’

বৃহস্পতিবার, ৩১ মে, ২০১৮ ২:১০:৪৫ অপরাহ্ণ
0
110
অনলাইন ডেস্ক:

বাঙ্গালি রুটি। ১৯২৮ সাল থেকে মালয়েশিয়ার জনপ্রিয় পাউরুটি। কফি, কারি (ঝোল তরকারি), মাটন সুপ, আধাসিদ্ধ ডিম ও অন্যান্য অনেক কিছুর সঙ্গে মিলিয়ে একটি উপাদেয় খাবার তৈরি করা যায় এই রুটি দিয়ে। তুলতুলে নরম এই রুটি তরলে ভিজিয়ে খাওয়ার চল মালয়েশিয়ার অনেক পুরনো ঐতিহ্য।

এসএম মোহাম্মদ ইসমাইল নামের ভারতের মাদ্রাজ (বর্তমান চেন্নাই) থেকে আসা এক মুসলিম ১৯২৮ সালে জর্জটাউনে বেকারির ব্যবসা শুরু করেন। বন্ধুর সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত সে বেকারিতে ‘পাঙ্গালি’ নামে একটি রুটি তৈরি করেন তারা। এ পাঙ্গালি রুটিই পরবর্তীতে ‘বাঙ্গালি’ রুটি নামে জনপ্রিয় হয়।

মজার কথা হলো রুটিটির নাম ‘বাঙ্গালি’ রুটি হলেও এটি কিন্তু বাংলা থেকে আসেনি। বাংলার সঙ্গে এর কোন সম্পর্কও নেই। এটি মূলত তামিল শব্দ ‘পাঙ্গালি’ এর একটি অপভ্রংশ, যার অর্থ অংশীদার অথবা আত্মীয়। মালয়েশিয়ার স্বাধীনতা উত্তর সময়ে পেনাং এলাকায় এই রুটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। এখানকার মানুষের দৈনিককার মেনুতে যুক্ত হয় পাঙ্গালি। তবে উচ্চারণের সুবিধার জন্য স্থানীয়দের মুখে মুখে এটি এক সময় ‘পাঙ্গালি’ থেকে ‘বাঙ্গালি’ হয়ে যায়।

বাঙ্গালি রুটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি উজ্জ্বল ইতিহাস। মালয়েশিয়ার স্বাধীনতাকামী রাজনৈতিক দল উমনোর স্বাধীনতা আন্দোলনের সমাবেশে বাঙ্গালি রুটি খেতে দেয়া হতো। রাজনৈতিক দল উমনোর প্রতিষ্ঠাতা এসএম জয়নুল আবেদিনের ছোট বোন এস এম শাহারম মোহাম্মদ ইসমাইলের স্ত্রী। তিনি ১৯৫৫ সালে প্রথম মালয় সংসদ নির্বাচনে দক্ষিণ-পশ্চিম পেনাংয়ের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী টুংকু তাকে শিক্ষামন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দিলে পেনাং ছেড়ে যেতে হবে বলে তা তিনি ফিরিয়ে দেন।
পেনাং এ জনপ্রিয় বেকারির মালিকের শ্যালক হিসেবে তিনি অনেক সুবিধা পেতেন। কিন্তু এখন সে যোগাযোগ আর নেই।

ঔপনিবেশিক কালের ট্রান্সফার রোডের অনেক দোকানে এখনো বিক্রি হয় বাঙ্গালি রুটি। এ রুটির রেসিপি এখনো আগের মতোই আছে শুধু মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে শেষ হয়ে গেছে এর সম্পর্ক। ব্রিটিশ মালয় বেকারি নামে যাত্রা শুরু করা বেকারিটি কয়েক ধাপে মালিকানা পরিবর্তনের পর দশ বছর বন্ধ ছিল। পরবর্তীতে ২০০৭ সালে নতুন বেকারি প্রতিষ্ঠান মালিয়া বেকারি এ রুটি তৈরি শুরু করে।

মালিয়া প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম কুমারেসন মারিদাস জানান, এক দশক আগে এ প্রতিষ্ঠানটি হস্তান্তর করা হয়। নতুন ব্যবস্থাপকেরা অনেক ধরনের বাঙ্গালি রুটি তৈরি করে কিন্তু এখনো আদি বাঙ্গালি রুটির চাহিদা বেশি।

জানা যায়, ২০১২-২০১৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি হোলমিল, চকোলেট ও চারকোল বাঙ্গালি রুটি বাজারে আনলেও গ্রাহকদের কাছে এখনো মূল রুটির চাহিদা বেশি।

প্রতিষ্ঠানটি পেনাংয়ের বাইরেও কুয়ালালামপুর, সেলেনগোর ও নেজেরি সেমবিলানেও বাঙ্গালি রুটি বাজারজাত করে। অতীতে বাইসাইকেল ও ট্রলিতে করে বাঙ্গালি রুটি বিক্রি করা হলেও বর্তমানে ২০টি খাবারের ট্রাকের বহর ও অসংখ্য বিক্রেতা মোটর সাইকেলে করে মালয়শিয়ায় বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে দেয় এ রুটি।

মোহাম্মদ ইসমাইল যে স্বপ্ন নিয়ে যে বাঙ্গালি রুটি তৈরি শুরু করেছিলেন সে স্বপ্ন সত্যি হয়েছে। আজ এত বছর পরও বাঙ্গালি রুটি জনপ্রিয়।