প্রচ্ছদ

প্রথম পর্ব ইরানের রোজা ও ইফতারের রীতি

০২ জুন ২০১৮, ১১:১৮

যুগের কন্ঠ ২৪ ডট কম

যুগেরকন্ঠ ডেস্ক:

পবিত্র মাহে রমজান শুরু হয়েছে। সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা এই এক মাস ইবাদত-বন্দেগি ও রোজা রাখেন। রোজাদার মুসলমানদের কাছে সাহরি ও ইফতার খুব আনন্দের একটি বিষয়।

বিশেষ করে ইফতারিতে নানা রকম খাবার রাখেন প্রায় সব দেশেই মানুষ। তবে এই ইফতার কিন্তু এক রকম নয় সব দেশে। ইতিহাস ও ঐতিহ্য ভিন্ন হওয়ায় ইফতারে খাবার গুলো একেবারেই ভিন্ন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের রোজা সংস্কৃতি, ইফতার ও সাহরি নিয়ে পুরো এক মাস থাকবে আয়োজন। এবারের দেশ ইরান।

ইরানে ধর্মপ্রাণ মানুষ রোজা রাখে, নামাজ পড়ে। তবে রাষ্ট্রীয়ভাবে এ নিয়ে তেমন কোনো কড়াকড়ি নেই। ধর্মপালন একেবারেই ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে। এমন কি রাষ্ট্রীয় কোন হস্তক্ষেপ নেই এ ব্যাপারে।

অশ বা স্যুপ

রোজা শুরুর আগে ইরানের নাগরিকদের মধ্যেও এক ধরনের সাড়া পড়ে যায়। তবে আমাদের দেশে যেমন দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাবার ভয়ে আগেই কেনাকাটা করেন অনেকে, ইরানে তেমনটা দেখা যায় না।

ইরানে রমজানে বাজারে পণ্য সরবরাহ অন্য মাসের মতোই স্বাভাবিক থাকে। খেজুর বা মাংসের দাম যদিও বা সামান্য কিছু বাড়ে তখন সরকারি ভাবে দেয়া হয় নানা সুবিধা। তবে আর যাই হোক সরকারি বাজারগুলোতে রমজান উপলক্ষে দাম ও পণ্যের  মানের দিকটি বিশেষভাবে খেয়াল রাখা হয়।

রোজার সময় সাধারণ মানুষের ওপর যাতে বাড়তি চাপ না পড়ে সে দিকটি বিবেচনা করে সরকারের পক্ষ থেকে সরকারি বাজারে কখনো কখনো পণ্যমূল্যে কিছুটা ভর্তুকি দেয়া হয়। সরকারি বাজার ও পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন রকমের দুধ, দই ও দুগ্ধজাত পণ্যের প্রচুর সরবরাহ থাকে।

জুলবিয়া

ইরানের লোকজন সাধারণত ইফতারিতে ‘অশ’ বা স্যুপ, খেজুর, কলা, দুধ, পনির, রুটি, মধু, আপেল, চেরি, তরমুজ, তলেবি বা এক ধরনের বাঙ্গি ও আঙ্গুর খেয়ে থাকেন। গরমের এই সময়ে নানা ধরনের পিচ ফল পাওয়া যায়। ইফতারিতে যে খাবারটি অবশ্যই পাওয়া যাবে তা হলো টমেটো, শসা, লেটুসপাতার সালাদ এবং পুঁদিনা ও ধনিয়া পাতাসহ নানা রকমের সুগন্ধযুক্ত পাতা।

আর থাকে এক রকমের জিলাপি, তবে তার স্বাদ ঠিক বাংলাদেশি জিলাপির মতো নয়। ইরানিরা জিলাপিকে বলে জুলবিয়া। এতে প্যাঁচের সংখ্যা অসংখ্য এবং আকৃতি তুলনামূলকভাবে অনেক চিকন।

শোলে জার্দ

এমন কি হালিম নামে একটি খাবার ইফতারিতে খাওয়া হয়। তবে এই হালিমের স্বাদ বাংলাদেশের হালিমের মতো নয়। ছোলাভাজা, পিঁয়াজু, মুড়ি, চপ, বোম্বাই জিলাপি, বিরিয়ানি এসব এখানে নেই।

ছোট চাল, চিনি আর জাফরান দিয়ে রান্না হয় এক ধরনের ক্ষির বা পায়েশ যার ইরানি নাম শোলে জার্দ। এটিও ইফতারির একটি নামিদামি উপাদান।

Shares