৩ গ্রামে অগ্নিসংযোগকারীদের শাস্তির দাবি, প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি

শনিবার, ২ জুন, ২০১৮ ৩:২০:৩৪ অপরাহ্ণ
0
98
রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটির লংগদুর ৩ পাহাড়ি গ্রামে পাহাড়িদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগকারীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি ও ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়িদের বাড়িঘর দ্রুত নির্মাণ করে দেয়ার দাবিতে লংগদুতে মানববন্ধন করেছে ক্ষতিগ্রস্ত তিন গ্রামের লোকজন। শনিবার সকাল ১০ টার দিকে লংগদু উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে তারা এ কর্মসূচি পালন করে। কর্মসূচি শেষে লংগদু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসাদ্দেক মেহদী ইমামের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

মানববন্ধনে আটারক ছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা বলেন, গত বছর ২ জুন লংগদুর তিন টিলা, বাট্ট্যা পাড়া ও মানিকজোর ছড়ায় তিন গ্রামের অগ্নিসংযোগ করে ২১৩ টি বাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয়। অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ১ বছর পার হয়েছে কিন্তু এ সময়ে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হয়নি। দ্রুত বাড়িঘর নির্মাণ করে দেয়া হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিলো। কিন্তু এক বছরেও তারা সেই ঘরে উঠতে পারেননি।

এদিকে গত ৩০ মে রাঙামাটি আওয়ামী লীগের সভাপতি দীপঙ্কর তালুকদার লংগদুতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়িঘর নির্মাণের জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প ২ এর আওতায় কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

মানববন্ধনে আসা ক্ষতিগ্রস্ত একজন আশংকা করে বলেন, নির্মাণ কাজ শেষ হতে আরো অনেক সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের দিন স্থানীয় ইটের সংকট ও দাম বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর ১ জুন খাগড়াছড়ি জেলায় ৪ কিলো এলাকায় লংগদু ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা নয়নের লাশ পাওয়া যায়। পরদিন ২ জুন এ লাশ নিয়ে বাঙালীরা লংগদু উপজেলা সদরে বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করে। এ মিছিল থেকে একদল দুর্বৃত্ত একের পর এক তিনটি গ্রামে পাহাড়িদের বাড়িতে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ১২১৩টি বাড়ি পুড়ে যায়।লংগদু ইউপি চেয়ারম্যান কুলীন মিত্র চাকমার বাড়ির ভিতরে আগুনে পুড়ে মারা যায় গুণমালা চাকমা নামে এক সত্তর বয়সী নারী। এই ঘটনায় লংগদু থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। কিন্তু এসব মামলার সব আসামি জামিনে আছে।