সিরিজ হার এড়ানোই লক্ষ্য সাকিবদের

সোমবার, ৪ জুন, ২০১৮ ২:১৫:৩৭ অপরাহ্ণ
0
108

খেলা ডেস্ক:

টি-টোয়েন্টি সংস্করণে নিঃসন্দেহে সমীহ জাগানিয়া দল আফগানিস্তান। আইসিসির টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়েও বাংলাদেশের চেয়ে দুই ধাপ এগিয়ে নবী-রশিদরা। আফগানদের এগিয়ে থাকার প্রমাণ মিলেছে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে। সাকিব আল হাসানের দলকে ৪৫ রানে হারিয়েছে যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি। এই হারে স্বাভাবিক ভাবেই চাপে পড়েছে টাইগাররা।

এই চাপ কাটিয়ে উঠতে দরকার জয়। আর সেই জয়ের জন্যই মঙ্গলবার (৫ জুন) ভারতের দেরাদুনে রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আবারও আফগানিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এই মুহূর্তে সিরিজ হার এড়ানোই একমাত্র লক্ষ্য সাকিবের দলের। যে কোনও মূল্যে জয় পেতে মরিয়া টাইগাররা।

শক্তি ও র‌্যাংকিংয়ের বিচারে এগিয়ে থেকেই বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করে আফগানিস্তান। এগিয়ে থাকাটা যে, শুধুমাত্র কাগজে কলমে নয় সেটির প্রমাণ প্রথম ম্যাচেই দিয়ে দেয় আফগানরা। ব্যাটসম্যানদের বুদ্ধিদীপ্ত ব্যাটিং-এর পর বোলারাদের দুর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে বাংলাদেশকে হারের লজ্জা দেয় আফগানিস্তান। ৪৫ রানের হারের স্বাদ পেতে হয় টাইগারদের।

ম্যাচ হারের জন্য নিজেদের বোলিংয়ের শেষের চার ওভারকে দুষছেন সাকিব, ‘শেষ দিকের ওভারগুলো বাদে আমরা ভালো বল করেছিলাম। শেষদিকে ৪ ওভারে ৬৪ রান দিয়েই আমরা ম্যাচ হেরেছি। এখনো অনেক কিছু করার আছে, আমাদের এক সাথে বসতে হবে এবং দেখতে হবে কোন জায়গাতে আরও উন্নতি করা যায়। অবশ্যই তারা ভালো দল, প্রত্যকটি বিভাগেই তারা ভালো খেলেছে। মাহমুদুল্লাহকে বল না দেয়ার সিদ্বান্তটি কঠিনই ছিলো। যদি আমি তাকে আরও এক ওভার বোলিং করতে দিতাম এবং সে কিছু ছক্কা খেতো তবে তোমরা আমাকে জিজ্ঞাসা করতে নিয়মিত বোলার না হবারও পর কেন আমি তাকে বল দিলাম। যখন ১৭০-এর কাছাকাছি রান চেজ করতে হয় তখন ভালো ব্যাটিং করা প্রয়োজন। টপ-অর্ডারের ব্যাটসম্যানদের ভালো করা দরকার ছিলো কিন্তু আমরা উইকেট বিলিয়ে দিয়েছি। তাদেরকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। তাদের মানসম্মত স্পিনার আছে এবং তারা ভালো করেছে।’

আফগানিস্তানের অধিনায়ক আসগর স্টানিকজাই বলেন, ‘প্রত্যকটি সিরিজ, প্রত্যক টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষভাবে আজ ব্যাটসম্যানরা খুবই ভালো করেছে। মিডল-অর্ডারে কিছু উইকেট হারানোর পর শফিক ও সামিউল্লাহ লড়াই করার সাহস দিয়েছে। আমার বোলারদের সম্পর্কে আমি জানি, কিভাবে তাদের ব্যবহার করতে হয়। এই কন্ডিশন আমাদের জন্য ভালো ছিলো। আমরা উইকেট ও কন্ডিশন সম্পর্কে ভালোভাবেই জানি। গ্যালারিতে আফগানিস্তান দর্শকদের উপস্থিতির কারণে তাদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাতে চাই, আমার মনে হয়েছে আমরা আফগানিস্তানের আছি।’

বাংলাদেশ দল: সাকিব আল হাসান (অধিনায়ক), মাহমুদুুল্লাহ রিয়াদ (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাস, মুশফিকুর রহিম, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আরিফুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল ইসলাম অপু, আবুল হাসান রাজু, আবু হায়দার রনি, রুবেল হোসেন ও আবু জায়েদ চৌধুরী রাহী।

আফগানিস্তান দল: আসগর স্টানিকজাই (অধিনায়ক), নজিব তারাকাই, উসমান গনি, মোহাম্মদ শাহজাদ, মুজিব উর রহমান, নাজিবুল্লাহ জাদরান, সামিউল্লাহ শেনওয়ারি, শাফিকুল্লাহ, দারউইশ রসুলি, মোহাম্মদ নবী, রশিদ খান, গুলবাদিন নাইব, করিম জানাত, শারাফুদ্দিন আশরাফ, শাপুর জাদরান ও আফতাব আলম।