৮৩ দিন ধরে সভাপতি নেই ইবির অর্থনীতি বিভাগে

সোমবার, ৪ জুন, ২০১৮ ১২:২৫:০৫ অপরাহ্ণ
0
108
ইবি প্রতিনিধি

দীর্ঘ ৮৩ দিন ধরে সভাপতি ছাড়াই চলছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগ। গত ১৩ই মার্চ অধ্যাপক আব্দুল মুঈদ সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করার পর থেকে পদটি ফাঁকা রয়েছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার পদত্যাগ পত্রটি গ্রহণ না করা হলেও তিনি দায়িত্ব পালন করছেন না বলে জানা গেছে। এতে বিভাগের ক্লাস ও অফিস কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ না থাকায় সভাপতির অনুমোদন সাপেক্ষ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম একেবারেই বন্ধ রয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বোর্ডের সদস্যরা পাঁচজন প্রার্থীকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ প্রদানের সুপারিশ করে সিন্ডিকেটে পাঠায়। নিয়োগ বোর্ডের সুপারিশক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৩৮ তম সিন্ডিকেটে অনুমোদন দেয়। পরে চারজন প্রার্থী শিক্ষক হিসেবে যোগদানপত্র প্রদান করলে তারা যোগদান করে। কিন্তু আরিফ নামের এক প্রার্থীকে কর্তৃপক্ষ যোগদানের অনুমতি পত্র না দেয়ায় যোগদান করতে পারেনি।

এ ঘটনার জেরে গত ১৩ই মার্চ পদত্যাগ করেন অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মুঈদ। রেজিষ্ট্রারের মাধ্যমে উপাচার্য বরাবর পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পদত্যাগের কারণ হিসেবে পদত্যাগ পত্রে উল্লেখ করেন, নিয়োগ বোর্ড কর্তৃক অনুমোদিত এবং নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথমস্থান অধিকারী এক প্রার্থীকে যোগদান পত্র প্রদান করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে তারা সিন্ডিকেটের প্রতি সম্মানও প্রদান করা হয়নি।
পদত্যাগ পত্র জমা দেয়ার ৮৩ দিন পার হলেও কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে সভাপতি ছাড়া বিভাগের ক্লাস ও অফিস কার্যক্রমে চরম স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ না থাকায় সভাপতির অনুমোদন সাপেক্ষ একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম একেবারেই বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী তৌফিক এলাহী জানান, ‘অনার্স(সম্মান) এর কাগজপত্র উত্তোলন করার জন্য অনেকদিন যাবৎ অপেক্ষা করতেছি। কিন্তু সভাপতির স্বাক্ষর ছাড়া কোন ভাবে সম্ভব হচ্ছে না। অনেক চাকরি আবেদনের সময় শেষ হচ্ছে যাচ্ছে। আমার বন্ধুরাও একই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে।’

বিভাগের শাখা কর্মকর্তা মো: মারফত আলী জানান, ‘সভাপতি ছাড়া বিভাগের কার্যক্রম পরিচালনায় জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। কোন প্রকার চিঠি পত্রের জবাব ও অর্থের আদান প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। বিভিন্ন ব্যাচের ক্লাস কোর্সগুলো বণ্টন হচ্ছে না।’

অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল মুঈদ বলেন,‘আমার পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করছে না কর্তৃপক্ষ। তবে পদত্যাগ পত্র জমা দেয়ার পর থেকে সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি না।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার (ভারপ্রাপ্ত) এস.এম আব্দুল লতিফ বলেন,‘অধ্যাপক আব্দুল মুরদ পদত্যাগ পত্র জমা দিয়ে ছিলেন তবে পদত্যাগ পত্র গ্রহণ করেনি কর্তৃপক্ষ। তাকে বিভাগের সভাপতি পদে পুনরায় ফিরে যাওয়া জন্য বোঝানো হচ্ছে।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, ‘অর্থনীতি বিভাগের কোন সমস্যা আছে বলে জানা নেই। সমস্যা হলে বিষয়টি কেউ না কেউ আমাকে অবগত করত। রমজানের ছুটির পর বিষয়টির সমাধান করা হবে।’