প্রচ্ছদ

খুলনার সোনাডাঙ্গা টার্মিনালের মাদক সম্রাট বিপ্লব এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে

০৫ জুন ২০১৮, ১০:৩৭

যুগের কন্ঠ ২৪ ডট কম

খুলনা প্রতিনিধিঃ গত বছরের ২৫ জুলাই খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আনামুজ্জামান সেন্টুর অস্বাভাবিক মৃত্যুর মূল হোতা খুলনা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে স্বরাষ্ট মন্ত্রনালয়েরর প্রেরিত খুলনা সোনাডাঙ্গা এলাকার মাদকের পৃষ্ঠপোষক জাকির হোসেন বিপ্লব এখনো ধরা ছোয়ার বাইরে । দেশব্যাপী মাদকের বিরুদ্ধে সাড়াশী অভিযান চলমান থাকলেও খুলনা মটর শ্রমিক নেতা বিপ্লবের খুটির জোর কোথায় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে সোনাডাঙ্গা এলাকায় । খুলনা সোনাডাঙ্গার মাদক ব্যবসার গডফাদার জাকির হোসেন বিপ্লব এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় মাদক অভিযান নিয়ে সাধারন মানুষের সন্ধেহ প্রকাশ করছেন অনেকে । আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং রাজনৈতিক দলের সাথে সখ্যতা রেখে বিপ্লব ও তার সহযোগিরা দেদারছে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বহাল তবিয়তে। মাদক ব্যবসায় আধিপত্যের কারণে মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বিপ্লব এখন ‘বাবা সম্রাট বিপ্লব’ নামে খ্যাত হয়েছেন।মহানগরীর
সোনাডাঙ্গা মডেল থানার সামনে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে তার ব্যবসা। খুলনা টু চট্টগ্রাম এর এসপি লাইনযোগে এ ইয়াবা তিনি এবং তার লোকজন খুলনায় আনেন। এরপর সেই ইয়াবা ছড়িয়ে দেন নগরীর বিভিন্ন ডিলারের কাছে। সেখান থেকে ছোট ছোট ডিলার এবং বিক্রেতাদের হাতে পৌঁছে যায়। এ ব্যবসাকে টিকিয়ে রাখতে তিনি খুলনার একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার নামও ব্যবহার করতে কার্পণ্য করেন না। তার এ সিন্ডিকেটে কাজ করে তার ছেলে ঐশিসহ, শহিদুল, রফিকুল, মোহাম্মাদ আলী, মীর মোতালেব, বিল্লাল, আজিজ, আশরাফুল, দুলাল (ফানটু দুলাল) সহ আরও কয়েকজন। বিপ্লবের এ সব লোকজনদের নামে রয়েছে একাধিক চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এর মামলা।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো মাদক ব্যবসায়ী, চোরাকারবারীদের পৃষ্ঠপোষক, আশ্রয়দাতারা হিসেবে রয়েছে খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক জাকির হোসেন বিপ্লবের নাম। এই তালিকার ১০ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে তার নাম। তারপরও তিনিসহ তার লোকজন রয়েছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।
বাস টার্মিনাল এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, বিপ্লব এবং তার লোকজনেরা এখন বেপরোয়া। কাউকে মানতে চায় না। একটি মডেল থানার গেটের সামনে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা করলেও তাকে ধরছে না পুলিশ প্রশাসন। তিনি একজন হাইব্রিড শ্রমিক লীগ নেতা। ব্যবসার বিস্তার ঘটাতে তিনি নগর শ্রমিক লীগের সদস্য হয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাকির হোসেন বিপ্লব জানান, কেউ আমার বিরুদ্ধে শত্রুতা করে এ সব প্রচার করছে। আমি ছোটবেলা থেকে এ সবের সাথে ছিলাম না। আজও নেই। সরকারের গোয়েন্দা, পুলিশ কেউ আমার নাম বলতে পারছে না। আমি মাদকের সাথে থাকলে এতদিন অ্যারেস্ট হয়ে যেতাম। আমার কোন শত্রুপক্ষ এটি প্রচার করছে।

উল্লেখ,গত বছরের ২৪ জুলাই সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আনামুজ্জামান সেন্টুর বাসভবনে গভীর রাত পর্যন্ত সেন্টু ও বিপ্লবসহ ৪/৫ জন এক সাথে মদ পান করেছিলেন ।মদ্যপ অবস্থায় সেন্টুর মাথায় পরিকল্পিত ভাবে বিপ্লব ও তার সহযোগিরা আঘাত করে । তাদের আঘাতেই মদ্যপ অবস্থায় আনামুজ্জামান সেন্টুর মৃত্যু হয় । মৃত্যু হলেও বিষয়টি ধামা চাপা দেয়ার জন্য এরপর ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সেন্টুকে নিয়ে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে তাকে ফেরত দেয়া হলে ফরটিস এসকর্টস হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সেন্টুকে মৃত ঘোষণা করেছেন। সেন্টুর মৃত্যুর রহস্য খুঁজতে ওই সময় আসকের তদন্ত টিম গঠন করে । আসকের তদন্ত টিম বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপরে কাজ করে । তার মধ্যে সেন্টুর সাথে ঘটনার দিন রাতে মদের পার্টিতে থাকা ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, খুলনা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের এক শীর্ষ নেতা বিপ্লবের কাছে সেন্টুর কোটি টাকা পাওনার বিষয় ও পারিবারিক কলহের জেরের বিষটি তদন্তে উঠে আসে । ইউনিয়নের সভাপতিকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা ও সোনাডাঙ্গা এলাকায় মাদকের আধিপত্য বিস্তার একই সূত্র গাথা । অথচ বিপ্লব এখনো রয়েছে ধরা ছোয়ার বাইরে ।

পূর্বের সংবাদ পড়তে

June 2018
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  
Shares