বিক্রি শুরু হতে না হতেই শেষ টিকিট

মঙ্গলবার, ৫ জুন, ২০১৮ ১:৩৬:৩৩ অপরাহ্ণ
0
105
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিক্রি শুরু হতে না হতেই শেষ হয়ে গেল ট্রেনের এসি টিকিট। যাত্রীদের অভিযোগ, অনলাইন ও কোটার কারণে এমনটা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ জুন) দেয়া হচ্ছে ১৪ জুনের টিকিট। সকাল ৮টা থেকে মোট ২৬টি কাউন্টারে টিকিট দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে নারীদের জন্য সংরক্ষিত কাউন্টার আছে দুইটি। এ ছাড়া ৬ জুন দেয়া হবে ১৫ জুনের ট্রেনের অগ্রিম টিকিট।

রাজশাহীগামী আসিফ আহমেদ জানান, ১৪ জুনের ট্রেনের এসি টিকিটের জন্য গত রাতেই লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। মঙ্গলবার সকাল ৮টায় কাউন্টার থেকে টিকিট দেয়া শুরু হয়, তখন সিরিয়ালে মাত্র ২০/২৫ জনের পরেই তার অবস্থান। সামনে যারা দাঁড়িয়েছিলেন এক এক করে টিকিট নিয়ে চলে গেলে আসিফের সামনে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। এবার তিনি টিকিট পাবেন। কাউন্টারের ভেতরে থাকা ব্যক্তির কাছে এসি টিকিট চাইলেন। কাউন্টার থেকে বলা হলো, ‘টিকিট শেষ।’

সেই সময়ই কাউন্টারে কর্তব্যরতদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন আসিফ আহমেদ। তিনি বলেন, ‘গত রাতে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি, এ ছাড়া ২০/২৫ জনের পরেই আমার সিরিয়াল.. তবুও কাউন্টার থেকে জানানো হলো টিকিট শেষ। বিক্রি শুরু হতেই কি এসির টিকিট শেষ হয়ে যাবে? এটা কিভাবে সম্ভব?’

টিকিটের লাইনে প্রথম দিকে থেকেও এসির টিকিট পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে আরও অনেকের। তারা বলছেন, আমরা টিকিটের লাইনে প্রথমের দিকে থেকেও যদি এসি টিকিট না পাই তাহলে আসলে টিকিট পেলটা কারা? নিমিষেই কিভাবে শেষ হয়ে গেল টিকিট?

এ বিষয়ে কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত একটি টিকিট থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত যাত্রীরা টিকিট পাবেন। ঈদের সময় সবার চাহিদা থাকে এসি টিকিটের। কিন্তু আমাদের তো সম্পদ সীমিত, এর মধ্যে সবাইকে খুশি করা সম্ভব না।

লাইনের প্রথম ২০ জনের মধ্যে সিরিয়াল থেকেও কেন একজন এসি টিকিট পেল না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কাউন্টারে টিকিট বিক্রির শুরু সঙ্গে সঙ্গে ২৫ শতাংশ অনলাইনে, ৫ শতাংশ ভিআইপি,৫ শতাংশ স্টাফ কোটায় চলে গেছে। এ ছাড়া নির্দিষ্ট রুটের নির্দিষ্ট কাউন্টার ছাড়া মহিলা ও বিশেষ কাউন্টারসহ মোট তিনটি কাউন্টারে একই সঙ্গে বিক্রি শুরু হয়েছে। আর একজন ৪টি করে টিকিট নিতে পারছেন। তাহলে আর অবশিষ্ট কয়টি টিকিট থাকে? এমনিতেই তো এসি টিকিটের সংখ্যা কম।

একজন যাত্রী সিরিয়ালে প্রথম দিকে থেকেও রাজশাহীর এসি টিকিট পাননি- এটার কারণ হিসেবে স্টেশন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসির সব টিকিট তো আর রাজশাহীর জন্য বরাদ্দ নয়। রাজশাহী ছাড়াও টাঙ্গাইল, ক্যাপ্টেন মনসুর আলী স্টেশন, চাটমোহর, উল্লাপাড়া, বাইপাস, আব্দুলপুর স্টেশনের জন্য বরাদ্দ থাকে। এসব কারণে কেউ টিকিট বিক্রি শুরুর আধাঘণ্টার মধ্যেও এসি টিকিট নাও পেতে পারে।

উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনের টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছেন মনিরুল ইসলাম। তখনও তার অপেক্ষা কাঙ্ক্ষিত টিকিট পাওয়ার। যদিও হাজারো মানুষ টিকিট কাউন্টারগুলোর সামনে সিরিয়ালে দাঁড়ানো। অপেক্ষমান মনিরুল ইসলাম বলেন, মানুষ গত কাল থেকে কাউন্টারগুলোর সামনে অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত, অধৈর্য হয়ে আছে। কিন্তু এর চেয়েও বিরক্তের কারণ, কাউন্টারগুলো থেকে খুব ধীর গতিতে টিকিট দেয়া হচ্ছে। তারা দ্রুত হাত চালাতে পারছেন না। এতে মানুষ আরও বিরক্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বরতের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, সকাল ৮ টাকা থেকে বিরতিহীনভাবে আমরা টিকিট বিক্রি করছি। অনেক সময় সার্ভার স্লো থাকলে প্রতি টিকিট বিক্রির প্রক্রিয়া শেষ হতে মাঝেমাঝে কিছু বেশি সময় নেয়।

মোট ২৭ হাজার ৪৬১টি টিকিট বিক্রির কথা ছিল। আজ ৫ম দিনের মতো টিকিট বিক্রি হয়েছে। টিকিট কাউন্টারের সামনে থেকে শুরু করে মানুষে লাইন গিয়ে ঠেকে প্রধান সড়কের কাছাকাছি। গত ১ জুন থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট প্রত্যাশী মানুষের যে ভিড় ছিল কমলাপুরে তা মঙ্গলবার বেড়ে কয়েক গুণ বেশি দাঁড়িয়েছে। রাত থেকেই টিকিট নেয়ার প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে মানুষ। বেলা বাড়ার সাথে সাথে জনসমুদ্রে পরিণত হয় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন।