বিশ্বকাপ উন্মাদনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

মঙ্গলবার, ৫ জুন, ২০১৮ ১:২৩:১৫ অপরাহ্ণ
0
99
খেলা ডেস্ক

নিজ দলের পক্ষ নিয়ে বাকযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন একান্ত ঘনিষ্ঠরাও। যাদের সাথে গলায় গলায় ভাব, তারাও যেন রীতিমতো বাকযুদ্ধে নেমে পড়েন নিজ নিজ দলের পক্ষে- এমন নজির নেহাত কম নয়।

ইউয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ম্যাচে রামোস কর্তৃক লিভারপুল তারকা সালাহকে ইনজুরিতে ফেলা নিয়ে দু’ বন্ধুর তুমুল বিতর্কে একজন আরেকজনকে তুলোধুনো করেন এমনটাও দেখা যায় ঢাবি, চায়ের দোকানে ও বিভিন্ন আড্ডাতে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থীই এভাবে এখন বিশ্বকাপ উন্মাদনায় মেতে উঠেছে। বাংলাদেশ দল বিশ্বকাপে অংশ না নিলেও ফুটবল পাগল বাঙালির অধিকাংশই আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের সমর্থক। ‘আক্রমণাত্মক’ ফুটবল উপহার দেওয়া জার্মানিদেরও কম সমর্থক নেই।

ইতিমধ্যেই পছন্দের দলকে সমর্থন জানিয়ে শিক্ষার্থীরা হলের সর্বত্র পতাকা দিয়ে সাজিয়ে ফেলেছেন। আগামী ১৪ জুন রাত ৯টায় রাশিয়া-সৌদি আরবের খেলার মধ্য দিয়ে ফুটবলের এ সর্বোচ্চ আসরের পর্দা ওঠবে।

সরেজমিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে দেখা গেল সবচেয়ে বেশি পতাকা। পূর্ব পাশের গেট দিয়ে প্রবেশ করে প্রাধ্যক্ষের কার্যালয়ের সামন দিয়ে শুরু আর্জেন্টিনার পতাকা। এর একটু সামনে যেতেই জ্যোতির্ময় গুহঠাকুরতা ভবনে লাগানো হয়েছে আর্জেন্টিনার তারকা খেলোয়াড় লিওনেল মেসির বিশাল ছবি। এর পাশেই সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য ভবনের দিকে যেতেই ব্রাজিলের পতাকা দেখা গেল।

পুকুর পাড়ের চারদিকে বাশের খুঁটিতে সারি সারি করে রাখা ব্রাজিলের পতাকা। অন্যদিকে, হলের ভবনে ছাদ থেকে নিচতলা পর্যন্ত টানানো হয়েছে আর্জেন্টিনা, জামার্নি ও ব্রাজিলের বিশাল আকারের পতাকা। ক্যান্টিনের পাশে দেয়ালে চারুকলার শিক্ষার্থীরা এঁকেছে মেসি, নেইমারদের ছবিও।

সেখানে কথা হয় বাংলা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অপূর্ব রায়ের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমি সব দলের খেলা দেখি। তবে জার্মানির অ্যাটাকিং খেলা আমার সবচেয়ে পছন্দ। ব্যক্তিগতভাবে মেসি, নেইমারের খেলাও পছন্দ। তাদের জন্যও শুভকামনা থাকল। কিন্তু জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হোক এটিই আমি প্রত্যাশা করি।

হলে আর্জেন্টিনা আর জার্মানির পতাকা সুন্দরভাবে থাকলেও বৃষ্টির কারণে ব্রাজিলের পতাকাটা একটু এলোমেলোই ছিল। ছবি উঠানো হচ্ছে দেখে হলের কর্মচারী জহরলাল দ্রুত পতাকা ঠিক করলেন।

জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ছোটকাল থেকেই ব্রাজিলের সমর্থক। ব্রাজিল তার শৈল্পিক খেলা উপহার দিয়ে পাঁচবার বিশ্বকাপ জিতেছে। আমার বিশ্বাস এবারও কাপ নেবে ব্রাজিল।

তাছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্য সেন হলের দেয়ালে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের পতাকা আঁকা হয়েছে সর্বত্র। টিভি কক্ষ, অতিথি কক্ষ কোনো কিছুই বাদ যায়নি। প্রতিযোগিতা করে আঁকা হয়েছে এসব পতাকা। কমিটিও গঠন করা হয়েছে সমর্থক গোষ্ঠী নামে। নিজেরা টাকা সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীরা বিশ্বকাপ উন্মাদনায় মেতেছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহ্ম্মদ মুহসীন হল, বিজয় একাত্তর হল, মুক্তিযোদ্ধা জিয়াউর রহমান হল, অমর একুশে হলেও রয়েছে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার বিশাল বিশাল পতাকা। কবি জসীম উদ্দীন হলের সীমানা প্রাচীর দখল করেছেন ব্রাজিল সমর্থকরা। পুরো দেয়াল জুড়েই ব্রাজিলের পতাকা দিয়ে ঢাকা হয়েছে।

অন্যদিকে, আর্জেন্টিনার সমর্থকরা হলের অভ্যন্তরে কক্ষের দরজা থেকে সবখানে আর্জেন্টিনা আর মেসি নাম লেখা। তবে হলের সৌন্দর্য রক্ষায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে পতাকা আঁকতে নিষেধ করেছে কর্তৃপক্ষ।

আর্জেন্টিনার সমর্থক বিজয় একাত্তর হলের শিক্ষার্থী নাজমুল হুদা বলেন, ফুটবল বিশ্বকাপ আসলেই বাংলাদেশে সবার মধ্যে এক রকম উত্তেজনা কাজ করে। এ নিয়ে অনেকেই নিজ দলের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি অন্য দলকে নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড় দেন না। যা থেকে অনেক সময় অপ্রীতিকর অবস্থাও তৈরি হয়।

তিনি বলেন, আমি মনে করি, বিশ্বকাপ ক্রিকেটকে ঘিরে নিজ দলের প্রতি সমর্থন থাকবে তবে এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করা উচিত হবে না। আমি আশা করছি ফুটবল জাদুকর মেসির হাতেই বিশ্বকাপ উঠবে।