গুয়েতেমালায় ফুয়েগা অগ্ন্যুৎপাতে নিহত ৭৫, নিখোঁজ ১৯২

বুধবার, ৬ জুন, ২০১৮ ১১:২৯:১২ পূর্বাহ্ণ
0
99

গুয়েতেমালায় দু’ দফায় ফুয়েগা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৫। নিখোঁজ রয়েছেন ১৯২ জন। নিহতের এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দেশটির কর্মকর্তারা।

রোববারের এ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে উত্তপ্ত লাভা, ছাই ও কাঁদামাটি পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়লে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাই আকাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে রাজধানী গুয়েতেমালা সিটির বিমানবন্দরে বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকটি গ্রামের ভেতর দিয়ে লাভার নদী বয়ে যেতে দেখা যায়। ঢালু গ্রামের মধ্য দিয়ে লাভা প্রবাহিত হলে চাপা পড়ে অনেকে নিহত ও নিখোঁজ হন। অগ্ন্যুৎপাতে ঘরবাড়ি হারা হাজারো লোককে সরিয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ে রাখা হয়েছে।

নিখোঁজ লোকের সন্ধানে দমকলবাহিনীর পাশাপাশি কাজ করছে সেনাবাহিনী।

আগ্নেয়গিরিবিদরা জানিয়েছেন, অগ্ন্যুৎপাতের সময় গরম গ্যাস ও আগ্নেয়গিরি উপাদানের তরল লাভা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। লাভা এল রোডেও ও সান মিগুয়েল লস লোটেস লোকালয়ে ঢুকে পড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়।

অন্যদিকে, সোমবার রাতে অগ্ন্যুৎপাত বন্ধ হয়ে গেলেও মঙ্গলবার ফের আকস্মিকভাবে অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। আগ্নেয়গিরি দক্ষিণ দিক দিয়ে বের হয়ে আসতে থাকে গলিত পাথর ও উত্তপ্ত গ্যাস। এ সময় ৩৩ হাজার ফুট উঁচু পর্যন্ত আকাশে ছাই ছড়িয়ে পড়ে।

গুয়েতেমালার জাতীয় ভূকম্পবিদ্যা ইনস্টিটিউটের প্রধান এডি সানচেজ অবশ্য সোমবার বলেছিলেন, ‘নতুন করে অগ্ন্যুৎপাতের কোনো আশঙ্কা নেই।’ তবে তার ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যা প্রমাণিত করে মঙ্গলবার অগ্ন্যুৎপাত হয়।

আগ্নেয়গিরির আগ্ন্যুৎপাতে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১৭ লাখ মানুষ। প্রায় ৩ হাজার লোককে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।