মংলা বন্দর জেটি থেকে দু’কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো লাপাত্তা

বুধবার, ৬ জুন, ২০১৮ ৫:৩৮:০৫ অপরাহ্ণ
0
157

খুলনা প্রতিনিধিঃ ভুয়া কাগজপত্রে মংলা বন্দর জেটি থেকে লাপাত্তা হয়েছে দুই কোটি টাকা মূল্যের ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো নামের বিলাস বহুল একটি গাড়ি। আর এতে কাস্টমস হারিয়েছে প্রায় এক কোটি টাকার রাজস্ব। গত সোমবার বিকেলে বন্দর জেটির ৫নং ইয়ার্ড থেকে গাড়িটি পাচার হয়। কিন্তু গাড়িটির খোঁজ পড়ে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরের আগে। এ নিয়ে বন্দর জুড়ে চলছে ব্যাপক তোলপাড়। কাস্টমস আর বন্দরের নিরাপত্তা বেষ্টনী টপকে কিভাবে এ গাড়িটি বেরিয়ে গেল তা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে বন্দর চেয়ারম্যানের দপ্তরে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত কয়েক দফায় বৈঠক হয়েছে। ঘটনাটি অবহিত করা হয়েছে কাস্টমস, পুলিশ ও র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে। বিকেলে বন্দরের সহকারী ট্রাফিক ম্যানেজার মিজানুর রহমান বাদী হয়ে মংলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। ইতিমধ্যে বন্দর থেকে গাড়ি নিখোঁজের মূল রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নেমেছে পুলিশ। এছাড়া ঘটনা তদন্তে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ ও বন্দর কর্তৃপক্ষের একাধিক সূত্র জানায়, গত সোমবার বিকেলে অফিস ছুটির পর বন্দরের সিএ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স খাজা শিপিং এর পরিচয় দিয়ে বন্দরের মূল গেটের দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মীদের কাছে গাড়ি ছাড়ের কাগজপত্র দাখিল করেন জনৈক ড্রাইভার। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের বখশিষ ও ম্যানেজ করে ওই ব্যক্তি জেটির ৫নং গাড়ি ইয়ার্ড থেকে মুক্তা রংয়ের ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো ১৮ মডেলের একটি গাড়ি নিয়ে গেট থেকে সটকে পড়েন। আর গাড়ি ইয়ার্ড থেকে বাইরে চলে যাওয়া বিলাস বহুল ওই গাড়িটির খোঁজ পড়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে অফিস চলাকালীন সময়। ঘটনাটি দ্রুত বন্দর চেয়ারম্যানকে জানান ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা। এ নিয়ে জরুরী বৈঠকও বসে চেয়ারম্যানের কক্ষে। বৈঠক শেষে বন্দর থেকে গাড়ি নিখোঁজের বিষয়টি মৌখিকভাবে কাস্টমসের মংলা শুল্ক বিভাগকে অবহিত করা হয়। একই সঙ্গে মংলা থানা পুলিশকেও জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
এ বিষয় মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লেঃ কমান্ডার আলিম জানান, জাল জালিয়াতির মাধ্যমে বিলাসবহুল ওই গাড়িটি বন্দর থেকে বের করে নেয় সংঘবদ্ধ চক্র। গাড়ি ছাড় করতে যে সকল কাগজপত্র প্রয়োজন তা ছিল ভুয়া। আর এ ভুয়া কাগজ পত্রে দামি এ গাড়িটি পাচার হতে বন্দরের কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ঘটনা তদন্তে বন্দরের প্রধান প্রকৌশলী (যান্ত্রিক ও তড়িত) লেঃ কর্নেল মিজানুর রহমানকে আহবায়ক করে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লেঃ কমান্ডার আলিম, উর্ধ্বতন হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা মাহাতাব গোলদার ও সিনিয়র ডিএম আবুল কালাম আজাদ।
সহকারী ট্রাফিক ম্যানেজার সোহাগ মাহমুদ জানান, গাড়ি নিখোঁজের ঘটনায় অপর সহকারী ট্রাফিক ম্যানেজার মিজানুর রহমান বাদী হয়ে বিকেলে মংলা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল বাহার চৌধুরী জানান, বন্দর থেকে গাড়ি নিখোঁজের ঘটনা জানার পর পুলিশ পুরো ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেও রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টাসহ গাড়িটি উদ্ধারের প্রচেষ্টা চলছে।
মংলা কাস্টমস (জেটি) হাউজের রাজস্ব কর্মকর্তা মোঃ আনোয়ার হোসেন সকলের চোখ ফাঁকি দিয়ে বন্দর ইয়ার্ড থেকে দামি গাড়ি পাচারের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, গাড়ি বের হওয়ার বিষয়টি কাস্টমসকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জানানো হয়েছে। দায়িত্বে থাকা কাস্টমস কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর নকল করেই এ কাজ করা হয়েছে। তিনি বন্দরের নিরাপত্তা বিভাগ ও ইয়ার্ডের ট্রাফিক বিভাগের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তবে কাস্টমসের ভূমিকা ও কর্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন, দামী ওই গাড়িটি যেদিন বন্দর জেটি থেকে বের হয় সেই একই দিন বিভিন্ন সিএ্যান্ডএফ এজেন্ট আরও প্রায় ৮০/৯০টি গাড়ি ছাড় করিয়ে নেয়। এর কোন এক ফাঁকে ওই গাড়িটিও জেটির মূল গেট থেকে বাইরে চলে আসে।
এ প্রসঙ্গে মংলা কাস্টমস হাউজের যুগ্ম-কমিশনার প্রণয় চাকমা জানান, বন্দর থেকে পাচার হয়ে যাওয়া ল্যান্ড ক্রুজার প্রাডো নামের বিলাসবহুল গাড়িটির কাস্টমস ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা। জালিয়াতির মাধ্যমে এ গাড়িটি পাচার হয়ে যাওয়ায় কাস্টমস প্রায় ১ কোটি টাকার রাজস্ব হারিয়েছে।