মেসির অনুরোধেই ম্যাচ বাতিল

বুধবার, ৬ জুন, ২০১৮ ১:১৮:৩৫ অপরাহ্ণ
0
99
খেলা ডেস্ক

ইসরায়েলের সঙ্গে জেরুজালেমে পূর্বনির্ধারিত প্রীতি ম্যাচটি বাতিল করেছে আর্জেন্টিনার জাতীয় ফুটবল দল। বিশ্বব্যাপী তীব্র সমালোচনা ও ফিলিস্তিনি ফুটবল ফেডারেশনের আপত্তির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হল।

প্রথমে ইসরায়েলের হাইফাতে এই ম্যাচটি হওয়ার কথা থাকলেও পরে ভেন্যু বদলে তা জেরুজালেমের টেডি স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৪৮ সালে নিরাপরাধ ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ করে এই স্টেডিয়ামটি বানিয়েছিল ইসরায়েল। এছাড়া, এই স্টেডিয়ামটি ফিলিস্তিনিদের গুপ্তহত্যায় ব্যবহার করা হতো।

এ কারণে ফিলিস্তিনিরা এ শুরু থেকেই এ ম্যাচটির বিরোধিতা করে আসছিলেন। তারা মনে করেন, জেরুজালেমে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনার খেলতে আসার অর্থ ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি আগ্রাসনের পরোক্ষ স্বীকৃতি দেয়া। এ প্রেক্ষিতে ফিলিস্তিন ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান জিবরিল রাজুব আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) প্রধান ক্লদিও তাপিয়াকে লেখা এক চিঠিতে ম্যাচটি বাতিলের আহ্বান জানান।

তিনি অভিযোগ করেন, ইসরায়েল খেলাকেও রাজনীতির হাতিয়ার করছে। তারা এমন একটি মাঠে খেলা আয়োজন করেছে, যেটা ফিলিস্তিনিদের ভূমি দখল করে বানানো। ১৯৪৮ সালে ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনিদের গ্রাম ধ্বংস করে অধিবাসীদের উচ্ছেদ করে টেডি স্টেডিয়াম বানিয়েছিল।

ফিলিস্তিনি ফুটবল ফেডারেশনের অনুরোধ সত্ত্বেও আর্জেন্টিনা তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকায় জিবরিল আর্জেন্টিনার অধিনায়ক মেসির প্রতি আহ্বান জানান, ‘মেসি তুমি ইসরাইলে খেলতে এসো না। ইসরাইলিরা ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যে জাতি বিদ্বেষের আগুন জ্বালিয়েছে ইসরাইলে খেলতে এসে তার বৈধতা তুমি দিও না—এটা আমাদের অনুরোধ!’

জিবলি আরও বলেন, ‘মেসি আমাদের কথা না শুনলে মুসলিম বিশ্বের সব তরুণদের বলব, তার ছবি ও জার্সি পুড়িয়ে ফেলতে। মেসিকে বর্জন করতে।’

ফিলিস্তিনিদের এই দাবি মেনে নিয়ে মেসিও খেলতে অস্বীকার জানালেন আর্জেন্টাইন ফুটবলকে। মূলত মেসির নিরাপত্তার জন্যই ইসরায়েল সফর বাতিল করলো আর্জেন্টিনা।

ইসরায়েলের বিপক্ষে মাঠে নামলে প্রতি মিনিটের জন্য ৫০ হাজার ডলার করে পেতেন লিওনেল মেসি, এমনটাই জানিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল সাংবাদিক রয় নেমার।

এছাড়া জেরুজালেমে ম্যাচটি আয়োজন করতে আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে এরই মধ্যে ১ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে ইসরায়েল ফুটবল ফেডারেশন। চুক্তি ছিল ম্যাচের পর আর্জেন্টিনার হাতে আরও ৩ মিলিয়ন ডলার তুলে দেওয়ার। সফর বাতিল হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সেটি আর পাচ্ছে না। উল্টো ১ মিলিয়ন ডলার ফেরত দিয়ে দিতে হবে তাদের। তাই আর্থিক ক্ষতি মেনে নিয়েই ম্যাচ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আলবেলিস্তরা।

মূলত ফিলিস্তিনিদের অনুরোধ, হুঁশিয়ারি ও বিশ্বব্যাপী সমালোচনার মুখে অবৈধ ইসরাইলি রাষ্ট্রের ৭০ বছর পূর্তির অংশ হিসেবে বিশ্বকাপের আগে পূর্বনির্ধারিত প্রস্তুতি ম্যাচটি বাতিল করল আর্জেন্টিনা।