শেষ বাজেটে শিক্ষা খাতে সুসংবাদ

বৃহস্পতিবার, ৭ জুন, ২০১৮ ১১:২৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ
0
234
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা উন্নয়ন খাতে ৫৩ হাজার ৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা এ যাবতকালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। গত বছর শিক্ষা খাতের বাজেট ছিল ৫০ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা। এ বছর বরাদ্দ বেড়েছে ২ হাজার ৬১৫ কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে উত্থাপিত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের বাজেটে এ প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এবার মোট ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভার বৈঠকে।

বাজেট বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী জানান, শিক্ষার মোট ৫৩ হাজার ৫৪ কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষার খাতে ২২ হাজার ৪৬৬ কোটি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে ২৪ হাজার ৮৮৮ এবং কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগে ৫ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

এসব অর্থে ১০০ প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন, উপবৃত্তি, পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম ইত্যাদির পরিধি বাড়াবো। পাশাপাশি, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নত শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক ওয়াশব্লকসহ ৬৫ হাজার শ্রেণিকক্ষ, ১০ হাজার ৫০০ শিক্ষক কক্ষ, ৫ হাজার বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীর নির্মাণ ও ৩০ হাজার খেলার সামগ্রী বিতরণ করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ খাতে সারাদেশে ১০০টি উপজেলায় ১টি করে টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ নির্মাণ করা হবে। ২০১৮-১৮ অর্থ বাজেটে দেশের ৩৮৯টি উপজেলায় কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া, ৪টি বিভাগীয় শহরে ৪টি মহিলা পলিটেকনিক, প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে গার্লস টেকনিক্যাল স্কুল, ২৩টি জেলায় পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং সব বিভাগে একটি করে ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে ৩৫টি মডেল মাদরাসা স্থাপন ও ৫২টি মাদরাসায় অনার্স কোর্স চালু করেছি এবং দেশের ৬৫৩টি মাদরাসায় মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বাজেট উত্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিবছর বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তকসহ বিভিন্ন শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, প্রাথমিক স্তর থেকে শুরু করে স্নাতক ও সমপর্যায়ের ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি প্রদান, দারিদ্রপীড়িত এলাকায় স্কুল-ফিডিং কার্যক্রম পরিচালনা, শিক্ষা অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানীয় জলের ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সহায়ক পরিবেশে নিশ্চিত করা, বিভিন্ন ভাষায় প্রাথমিক শিক্ষার পুস্তক মুদ্রণ, প্রাক-প্রথমিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, সৃজনশীল মেধার মূল্যায়ন ও প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট গঠন, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, শিক্ষার্থী-শিক্ষকের অনুপাত কমিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ প্রদান, তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা কার্যক্রম উদ্ভাবন ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রয়োগ ইত্যাদি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সবার জন্য মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি।

আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, প্রথমিক পর্যায়ে সার্বজনীন শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি মাধ্যমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ে আমরা গুরুত্ব দিয়েছি সৃজনশীল-কর্মমুখী-বিজ্ঞানভিত্তিক-উৎপাদন সহায়ক শিক্ষার প্রসারের ওপর। ই-বুক প্রচলন করা হয়েছে, ১২৫টি উপজেলায় ‘উপজেলা আইসিটি ট্রেনিং এ্যান্ড রিসোর্স সেন্টার’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে এবং আরো ১৬০টি উপজেলায় প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলমান আছে, ৩১৫টি উপজেলায় ১টি করে বেসরকারি বিদ্যালয়কে মডেল বিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়েছে, ২৬ হাজার ৬৫৫টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপন করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ৯০ হাজার শিক্ষক এবং ১ হাজার ৫০০ মাস্টার ট্রেনারকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। টিচার্স পোর্টালে ৬২ হাজার কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে, যা ব্যবহার করে শিক্ষকগণ নিজেরাই কনটেন্টের মানোন্নয়ন করতে পারছেন। মোট ৮ লক্ষ শিক্ষককে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ‘জাতীয় শিক্ষক শিক্ষা কাউন্সিল’ গঠন করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দক্ষতার ঘাটতির কারণে প্রবাসে বাংলাদেশি কর্মীরা যথাযথ মজুরি পায়না। অভিবাসী শ্রমিকদের সংখ্যানুপাতে বাংলাদেশে প্রবাসী আয় প্রবাহ তুলনামূলকভাবে কম। বাস্তব, আধুনিক ও বস্তনিষ্ঠ মাদরাসা শিক্ষাও দীর্ঘমেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যসহ আরবদেশে মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ লাভের ক্ষেত্রে অনুঘটক হিসেবে কাজ করতে পারে।

এসব দিকে লক্ষ্য রেখে কর্মসংস্থানবান্ধব কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, এ ধরনের শিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি করা এবং মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।