আমার সব বাজেটই নির্বাচনি বাজেট: অর্থমন্ত্রী

শনিবার, ৯ জুন, ২০১৮ ১০:৫২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
0
101

নিজস্ব প্রতিবেদক

শুধু এবারের বাজেটই নয়, নিজের উপস্থাপন করা প্রতিটি বাজেটকে নির্বাচনি বাজেট বলেই মনে করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে জনগণকে খুশি করতেই নির্বাচনি বাজেট দিতে হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় অনলাইন কেনাকাটায় ভ্যাট আরোপের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, কেনা-বেচার ওপরই তো চার্জ বসানো হয়। অনলাইন কেনা-বেচা এখন অনেক বেড়েছে। তাই চার্জ বসানো যেতেই পারে।

এর আগে বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আগামী (২০১৮-১৯) অর্থবছরের জন্য ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব তুলে ধরেন। প্রথা মতে, প্রস্তাবিত বাজেটের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পরদিন বাজেট-পরবর্তী এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মসিউর রহমান, জ্বালানি উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী, পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির, অর্থ সচিব মুসলিম চৌধুরী, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমার প্রত্যেক বাজেটই নির্বাচনি বাজেট। আর তা তো হবেই। আমি একটি রাজনৈতিক দলের সদস্য। শুধু সদস্য নই, গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। দলের নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখি। তাই আমার প্রতিটি বাজেটই রাজনৈতিক বাজেট হবে- এটাই স্বাভাবিক। রাজনৈতিক দলের একজন সদস্য হিসেবে আমাকে জনগণকে খুশি করতে হয়। সব বিষয় মাথায় রেখেই বাজেট দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, অনেকেই এ বাজেটকে নির্বাচনি বাজেট বলছেন। সাধারণত প্রতি বছর নির্বাচনের হাওয়া এপ্রিলেই লেগে যায়। এবার এ হাওয়া লাগতে একটু দেরিই হয়েছে। দেশের জন্য ভালো। কারণ হাওয়া কম হলে কাজ বেশি হবে। যেহেতু এখনও নির্বাচনের হাওয়া শুরু হয়নি, নির্বাচনের বছরের বাজেট বাস্তবায়ন ততটা খারাপ হবে না বলে মনে হচ্ছে। এটা দেশের জন্য সুখবর।

এ বাজেট কতটা গরিববান্ধব- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে দরিদ্র মানুষ বাড়ছে না। একসময় দেশে দরিদ্র মানুষের হার ছিল ৭০ শতাংশ। সাত বছর আগেও যা ছিল ৩০ শতাংশ। এখন এ হার ২২ দশমিক ৪ শতাংশ হয়েছে। সুতরাং তেলা মাথায় তেল দেওয়ার বাজেট নয়, এ বাজেট গরিব মারার বাজেট নয়, বরং গরিববান্ধব।

এ সময় অনলাইন কেনাকাটায় ভ্যাট আরোপের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, কেনা-বেচার ওপরই তো চার্জ বসানো হয়। অনলাইন কেনা-বেচা এখন অনেক বেড়েছে। তাই চার্জ বসানো যেতেই পারে। তবে পরে এক্ষেত্রে ভ্যাট বসানো হয়নি উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, অনলাইন পণ্য বা সেবা কেনা-বেচায় ৫ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপের যে প্রস্তাব নতুন অর্থবছরের বাজেটে করা হয়েছ, তা ভুলক্রমে ছাপা হয়েছে। সরকার ভার্চুয়াল বিজনেস যেমন ইউটিউব, ফেইসবুক এগুলোর ওপর ট্যাক্স ধার্য করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। কিন্তু অনলাইন বিজনেস আলাদা করা হয়েছে, এটার ওপর ভ্যাট বসানো হয়নি। করপোরেট কর হার কমানোর প্রস্তাবের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী মুহিত বলেন, ৪০ শতাংশের উপর করপোরেট কর খুব কম দেশেই আছে। তাই সেটা কমানো হয়েছে।

বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘ভুয়া’ অভিহিত করা হয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, বাজেট কীভাবে ভুয়া হতে পারে? কিছু নির্বোধ ছাড়া এটা আর কেউ বলতে পারে না। যারা এ বাজেটকে ভুয়া বলছেন, তাদের দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন আছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সমস্যা হবে না দাবি করে মুহিত বলেন, লক্ষ্যমাত্রা হলো একটা এস্টিমেট। অনেকগুলো বিষয়ের ওপর নির্ভর করে এ লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়। বাজেট করতে গিয়ে অনেক ধরনের ঘাটতি থাকে, সমস্যা থাকে। সেগুলোকেও বিবেচনায় নিয়ে বাজেট তৈরি এবং বাস্তবায়ন করা হয়। এবারের বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, সেটা ঠিকই আছে এবং কোনো সমস্যা হবে না। বাজেট ঘাটতি ৫ শতাংশের মধ্যে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যেই রাখার চেষ্টা করা হবে।

এ সময় সরকারি কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে তিনি বলেন, সরকারি কর্মচারীরা এখন যেসব সুবিধা ভোগ করছেন, তারা জীবনে কখনও এমন সুযোগ-সুবিধা পাননি। তাদের বেতন ৪০ হাজার টাকা থেকে একলাফে ৮২ হাজার টাকা হয়েছে। তাদের পেনশনে বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বাজেটের পর জুলাই মাসে সঞ্চয়পত্রের বিদ্যমান সুদের হার পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তবে সঞ্চয়পত্র নিয়ে বাজেটে কোনো বক্তব্য ছিল না। এর ব্যাখ্যায় অর্থমন্ত্রী বলেন, সঞ্চয়পত্রে যে মুনাফা পাওয়া যায়, সেটা নিয়ে সভা করার কথা ছিল, সভা হয়নি। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১০ মে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের সুদহার গড়ে ২ শতাংশ কমানো হয়েছিল। কিন্তু তাতে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমেনি। সঞ্চয়পত্রের সুদহার দুই-তিন বছর পরপর পর্যালোচনা হয়। এবার একটু দেরি হয়েছে, পরের মাসে রিভিউ হবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটেও সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। কিন্তু পরে বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রী এবং সংসদ সদস্যরা অর্থমন্ত্রী ওই ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করায় শেষ পর্যন্ত আর সুদহার কমানো হয়নি।