প্রচ্ছদ

প্রিলি থেকেই কোটা চান মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা

০৯ জুন ২০১৮, ১৪:৪৬

যুগের কন্ঠ ২৪ ডট কম
অনলাইন ডেস্ক

বিসিএসসহ সরকারি সব ধরণের চাকরির নিয়োগে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় বরাদ্দ অংশের শতভাগ বাস্তবায়নসহ ৯ দফা দাবি জানিয়েছে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’। সংগঠনের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চলমান সব ধরণের নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখাসহ সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কোটার শূন্য পদ সংরক্ষণ করে বিশেষ নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করার দাবি জানানো হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু মিলনায়তনে আয়োজিত শুক্রবার রাতে এক আলোচনা সভায় সংগঠনের নেতারা এই দাবি জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখার আহবান জানিয়ে ‘আমরা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ আয়োজিত ‘বৈষম্য দূরীকরণে কোটা ব্যবস্থা’শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে নেতৃারা মুক্তিযোদ্ধা কোটা সঠিক বাস্তবায়নে একটি কমিশন গঠনসহ ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন।

সংগঠনের সভাপতি মো. সাজ্জাদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও দপ্তর সম্পাদক আহমাদ রাসেলের পরিচালনায় ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান শাহীনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. আনোয়ারা বেগম।

নেতারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাভিত্তিক প্রশাসন গড়ার স্বার্থে যতদিন বাংলাদেশ থাকবে ততদিন মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রাখতে হবে, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান ও দেশের অতীত গৌরব ধারণে এর অন্য কোনো বিকল্প নেই।

তারা বলেন, কোটা বাতিলের সময় এখনও আসে নাই, এখনও মুক্তিযোদ্ধাদের হাজার হাজার সন্তান চাকরি পাননি, অনেক বেকার রয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাব, কোটা বাতিলের সিদ্ধান্ত পুর্নবিবেচনা করবেন।

সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক আনোয়ারা বেগম বলেন, পশ্চাতপদ জনগোষ্ঠীকে সমাজের মূল স্রোতে সম্পৃক্ত করতে জাতির পিতা কোটা ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন। কোটা কখনো বৈষম্য সৃষ্টি করে না, বরং বৈষম্য দূরীকরণে কোটা ব্যবস্থা বহাল রাখতে হবে। আর মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের নিয়োগ দিলে দেশ মেধাহীন হবে না। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদেও চাকুরি দিলে মেধাবী প্রশাসন গড়ে তোলার পাশাপাশি একটি দেশ প্রেমিক প্রশাসনও গড়া সম্ভব।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রাশেদুজ্জামান শাহীন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের ৯ দফা দাবি তুলে ধরেন, দাবিগুলো হলো- ১) জাতির পিতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটুক্তিকারীদের শাস্তি দিতে হবে। ২) বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা সুরক্ষা আইন করতে হবে। ৩) ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল রেখে তা বাস্তবায়নে কমিশন গঠন তরে প্রিলিমিনারী থেকে কোটা শতভাগ বাস্তবায়ন করতে হবে। ৪) মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চলমান সকল নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখাসহ সকল মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কোটার শূন্য পদ সংরক্ষণ করে বিশেষ নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করতে হবে। ৫) ১৯৭২ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় শূন্য পদগুলোতে চলতি বছরেই নিয়োগ দিতে হবে। ৬) বীর মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন প্রবাসী সরকারের প্রথম সেনাবাহিনী এ কারণে তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে পেনশন, বোনাস, রেশনসহ ওই মন্ত্রণালয়ের সকল সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ৭) রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে স্বাধীনতাবিরোধীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করাসহ স্বাধীনতাবিরোধীদের উত্তরসূরীদের সকল চাকুরিতে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে এবং স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে হবে। ৮) ঢাবি ভিসির বাসভবনে হামলাসহ দেশব্যাপী নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী স্বঘোষিত রাজাকারদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে এবং সকলের জন্য চাকুরিতে প্রবেশের বয়সসীমা তুলে দিতে হবে।

পূর্বের সংবাদ পড়তে

June 2018
M T W T F S S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  
Shares