ভারতীয় চলচ্চিত্র থেকেই এসব ফ্যাশন আসে

শনিবার, ৯ জুন, ২০১৮ ১০:৫৮:২১ পূর্বাহ্ণ
0
132

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর যে কোনো শপিং মল বা মার্কেটে গেলেই বোঝা যায় ঈদ আসছে। বৃষ্টি, যানজট কোনো কিছুই ক্রেতাকে শপিং বিমুখ করতে পারছে না। ভিড় বাড়ছে তো বাড়ছেই। যেমন ক্রেতার ভিড় তেমনি  রকমারী পোশাকের সম্ভার। বরাবরের মতো এবারও ক্রেতার আগ্রহ মাথায় রেখেই বাজারে নতুন ডিজাইন ও ফ্যাশনের ঢল নেমেছে। ফি বছরই বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ নতুন ডিজাইনের পোশাক ছাড়ে। এবার তরুণীদের প্রধান আকর্ষণ কামিজের সঙ্গে কটি বা জ্যাকেট। তা হতে পারে শর্ট, মাঝারি বা লং। রয়েছে লেয়ারের প্রাধান্য। সঙ্গে সিগারেট সালোয়ার। এ ছাড়া চলছে অনেক ঘের দেয়া পালাজ্জো।

এ ঈদে দেশি বিদেশি সব পোশাকেই সুতির প্রাধান্য বেশি। এ ছাড়া রয়েছে পরিবারের সবার জন্য একই ধরনের কাপড়ের কামিজ বা পাঞ্জাবি। একই ধরনের বা জোড়া পোশাকের সম্ভার বেশি সাদাকালো ও বিশ্ব রং এ। সাদাকালোয় এক জোড়া পোশাকের দাম ৩ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা। এখানকার বিক্রয়কর্মী হালিমা আক্তার বলেন, এবার ট্রাইবাল মোটিফ ক্রেতারা বেশি পচ্ছন্দ করছেন। মসলিন ও সুতি কাপড়ের এসব পোশাক বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।

বিশ্ব রং মা ও মেয়ের জন্য ম্যাচিং সালোয়ার কামিজ এনেছে। দাম সাড়ে ৪ হাজার টাকা। গাউন সাড়ে ৫ হাজার টাকা। এ ফ্যাশন হাউজের ব্যবস্থাপক মানিক ইসলাম বলেন, জোড়া ম্যাচিং চলছে ভালো। মা-মেয়ে আসছে একটা করে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এখানকার লন ও সুতি কাপড়ের সালোয়ার কামিজের দাম ২ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা।

আড়ংয়ে লম্বা কটি বা  জ্যাকেটে সুতোর কাজ ক্রেতাদের মন ভরিয়েছে বলা যায়। সেই সঙ্গে কামিজে সুতার কাজও চোখ জুড়াচ্ছে। আড়ং এবার নতুন ঢং এ পোশাকের নামকরণ করেছে। স্বাভাবিক সালোয়ার কামিজের নাম এসকোড, সালোয়ার প্যান্ট পিকেডি আর চুড়িদার সিকেডি। এছাড়া ৫ থেকে ১৪ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে সুতোর কাজের কামিজ, লং গাউন। এছাড়া বুকে কাজ ও হাতা চেরা কামিজও ভালো চলছে।

ওয়ারী থেকে সায়েন্স ল্যাবের আড়ংয়ে এসেছেন কুমকুম ও তার স্বামী রনি। কুমকুম জানালেন, প্রতিবারই আড়ং থেকে একটা ড্রেস কেনেন। এর কারণ আড়ংয়ের পোশাকের ডিজাইনের নতুনত্ব। এ পোশাকে একটু ভিন্নতা রয়েছে।

ভারত থেকে আসা লেহেঙ্গা ও গাউনের সমন্বয়ে বানানো পদ্মাবতী পোশাকটিও তরুণীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। দাম সাড়ে ৮ হাজার, ৯ হাজার ও ১০ হাজার টাকা। বসুন্ধরার অনিমা সিটির বিক্রয় প্রতিনিধি আবুল ফজল বলেন, এসব পোশাক চলে নামের ওপরেই।  তরুণী ও কিশোরীরা এ ধরনের নামের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে। বসুন্ধরার তানহা সিটিতে কামিজের সঙ্গে লম্বা গাউন ও লেহেঙ্গাও চলছে।

ফি বছর ফ্যাশন বদল হয় এ কথা বললেন মোহাম্মদপুরের শান্তা কাউচের বিক্রয়কর্মী। তিনি জানালেন, এবার কামিজ ও ওড়না এক রং কিন্তু পাজামা অন্য রং চলছে ভালো। ভারতীয় চলচ্চিত্র থেকেই এসব ফ্যাশন আসে। এবার টপ ও এর সঙ্গে জিন্সের প্যান্ট বিক্রি হচ্ছে। জায়গা করে নিয়েছে সিগারেট সালোয়ার। ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের কথা হাতের মুঠোয় বিশ্ব, তাই পোশাকেও অন্যদেশ জায়গা করে নিচ্ছে। অঞ্জনস এবার দেশীয় কাপড়ের পোশাক বেশি ছেড়েছে। রঙ বাংলাদেশ ইসলামি, নকশা, জ্যামিতিক নকশার ওপর প্রাধান্য দিয়েছে। কে ক্রাফটের কামিজে ময়ূরের পালক সবার নজর কেড়েছে।