রোহিঙ্গা সমস্যার সাথে চীন-রাশিয়া-ভারতের স্বার্থজড়িত

শনিবার, ৯ জুন, ২০১৮ ১:৪৬:১৬ অপরাহ্ণ
0
216

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

চলমান রোহিঙ্গা সমস্যার সাথে চীন-রাশিয়া ও ভারতের স্বার্থজড়িতবলেমন্তব্য করেছেনলেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট আবদুলগাফফার চৌধুরী। গতকাল গত শুক্রবার লন্ডনশিল্পকলাএকাডেমিতেবাংলাদেশীফটোসাংবাদিক ফোজিত শেখবাবুর“প্লিজ হেলপ ফর রোহিঙ্গা” স্লোগানে হু আর দ্যা নিউ‘ভোটপিপল?’শীর্ষকআলোকচিত্রপ্রদর্শনীপূর্বকআলোচনাসভায়তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রধান অতিথির বক্তেব্যে আবদুল গাফফার চৌধুরী বলেন, আসলেই এই রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে এখন আর মানুষ হার্ট হয় না! কারণ সেই ১৯৭৮ সাল থেকে একের পর এক রোহিঙ্গাদের ওপর চলে আসছে বর্বরনির্যাতন। মানুষ এটা দেখতে দেখতে অব্যস্ত হয়ে গেছে। আজকে ফোজিত শেখ বাবু তার ছবির মাধ্যমে এমন কিছু তুলে ধরে চেষ্টা করেছেন যা আসলেই মানুষকে হার্ট করবে। এই রোহিঙ্গা সমস্যা বিশে^র মোড়ল দেশ গুলো রাশিয়া, আমেরিকা, চীন ও ইন্ডিয়া চাইলেই সমাধাণ করতে পারে।

কিন্তু কেনো করছেনা জানেন? মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে সেখানে (আরাকানরাজ্যে) ব্যবসা করতে চাচ্ছে তারা। এটার সাথে তাদের স্বার্থ জড়িত রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বিশে^র নির্যাতিত সংখ্যা লঘুদের মধ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী অন্যতম। এর আগেও পৃথিবীর অনেক দেশে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন হয়েছে কিন্তু আবার সেগুলো সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার ও হয়েছে। কিন্তু অবাক করার বিষয় এই রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর একের পর এক নির্যাতন হলেও এর কোনো বিচার হয়নি! এমনকি বিচারের কোনো উদ্যোগও আমরা দেখতে পাাচ্ছিনা।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশটির নাম বাংলাদেশ।

 

রোহিঙ্গা নির্যাতন শুরু হলেই সমস্যার সৃষ্টি হয় বাংলাদেশে। মানবতার তাগিদে বারবার বাংলাদেশ এদের আশ্রয় দিলেও দীর্ঘ মেয়াদে এদের দায়িত্ব নেওয়া বাংলাদেশের মত দেশের জন্য অসম্ভব বললেই চলে। তাই আমার আহ্বান থাকবে বিশে^র শক্তিশালী দেশগুলো এগিয়ে আসুক রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধাণে। মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করুক। মুক্তি পাক রোহিঙ্গারা, মুক্তি পাক বাংলাদেশ। জয় হোক মানবতার।

প্রধান আলোচক তাসলিম শাকুর বলেন, আসলেই রোহিঙ্গারা এমন এক জাতি যাদের কোনো অভিভাবক নেই! যাদেও অভিভাবক নেই তাদের কোনোঠাঁইও নেই। তা না হলে আপনারা দেখুন বারবার রোহিঙ্গা সম্প্রদায়রে ওপর নির্যাতন হলেও এই সমস্যা সমাধাণে কেউই শক্ত ভাবে এগিয়ে আসছেনা। যখনই রোহিঙ্গা নির্যাতন শুরু হচ্ছে তখন জাতিসংঘ, ইউনিসেফ সহ বিভিন্ন সংস্থা ও দেশগুলো বিবৃতি এবং প্রতিবাদের মাধ্যমে তাদের দায় সারছে। কিন্তু এটির স্থায়ী সমাধাণের কথা মুখে বললেও কাজের বেলায় কেউ নেই।

 

এই জাতি গোষ্ঠী কে বাঁচাতে এখনই বিশ^বাসীর এগিয়ে আসতে হবে। জেতাতে হবে মানবতাকে। দমন করতে হবে মিয়ানমারকে।ডা. রহমান জিলানীর সভাপতিত্বে ও ডা. শম্পা দেওয়ান পরিচালনায় আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বঙ্গবন্ধু পরিষদ অল ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ডা. ফয়জুল ইসলামসহ স্থানীয় ব্রিটেনের নাগরিক ও প্রবাসীবাংলাদেশীরা।

আলোচনা সভা শেষে ৪ দিনব্যাপী প্রদর্শনীর ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন আবদুল গাফফার চৌধুরী সহ অতিথিরা। প্রদর্শনী শেষ হবে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত। পরে তারা প্রদর্শনীর ঘুরে দেখেন। পরিশেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সন্ধ্যায় ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়।

উল্লেখ্য, এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মূল উদ্দ্যেশ্য মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলে বর্বরোচিত নির্যাতন, ধর্ষণ, গণহত্যা ও উচ্ছেদ অভিযানে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করা। একই দাবিতে যুক্ত রাজ্যের এজ হিল ইউনিভার্সিটিতে ও চলছে ফোজিত শেখ বাবুর আলোকচিত্র প্রদর্শনী। যেটা চলবে আগামী ১৪ জুন পর্যন্ত।