বিপর্যয় পিছু ছাড়ছে না পাহাড়িদের

মঙ্গলবার, ১২ জুন, ২০১৮ ১:১৮:৪২ অপরাহ্ণ
0
71
রাঙামাটি প্রতিনিধি

বিপর্যয় যেন পিছু ছাড়ছে না পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের। একের পর এক পাহাড় ধসে প্রাণ যাচ্ছে তাদের। গত বছরের ১৩ জুন রাঙামাটিতে মারা যায় শতাধিক মানুষ। এর রেশ কাটতে না কাটতেই এ বছরও পাহাড় ধসে নিহত হলেন ১১ জন।

সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার ভোরে রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় পাহাড়ধস হয়। এতে উপজেলার সাবেক্ষং ইউনিয়নের বড়পুলপাড়ায় চারজন, বুড়িঘাট ইউনিয়নের ধর্মচরণ পাড়ায় চারজন ও ঘিলাছড়ি ইউনিয়নের হাতি মারা গ্রামে তিনজনের মৃত্যু হয়।

গত রোববার সকাল থেকে ভারী বর্ষণ আর ঝড়ো হাওয়ায় রাঙামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও গাছ ভেঙে পড়ে। প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তা সরিয়ে নেয়। তবে সকাল থেকে ভারী বর্ষণ না থাকলেও লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি।

জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, পৌর এলাকায় ৬০৯টি পরিবার এবং জেলায় ৩ হাজার ৩৭টি পরিবার পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে বসবাস করছে।

ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী মোফাজ্জেল হোসেন মায়া বলেন, বৃষ্টিতে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি রোধে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের জোর করে হলেও সরিয়ে নিতে হবে। এ জন্য সব বাহিনীর কর্মীরা সজাগ আছে। প্রত্যেক বাহিনীকে আমরা মাঠে নামিয়ে দিয়েছি। সবাইকে বুঝিয়ে সরিয়ে নিতে হবে। কেউ না বুঝতে চাইলে তাকে জোর করে সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, প্রবল মৌসুমি বায়ুর কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘমালা সৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।  এছাড়া চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও আরও ভূমিধস হতে পারে।