হাওরের কৃষকদের মুখে নেই ঈদের খুশি

বৃহস্পতিবার, ১৪ জুন, ২০১৮ ১০:১৩:৩৪ পূর্বাহ্ণ
0
226
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওরের কৃষকরা উৎসবের আমেজে কষ্টের সোনার ফসল নির্বিবাদে ঘরে তোলার পরও নজিরবিহীন দরপতনের কারণে এবারের ঈদুল ফিতরের উৎসবের আনন্দের ছটা নেই তাদের ঘরে। ঘোষণার প্রায় দেড় মাস পরও সরকারি ধান ক্রয় সংগ্রহ অভিযান শুরু না হওয়ায় ঈদের কেনাকাটার চাহিদা মেটাতে অনেকেই পানির দরে বেপারীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন গোলার ধান, কেউ বিক্রি করছেন গরু-ছাগল, আর কেউবা স্বরণাপন্ন হচ্ছেন দাদন ব্যবসায়ীদের।

জন প্রতিনিধিরা বলছেন, অভিলম্বে বরাদ্দ প্রদান করে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু না করা গেলে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়ে বোরো চাষে উৎসাহ হারাবে কৃষক।

গত বছর বৈরী আবহাওয়া ও অকাল বন্যায় ব্যাপক ফসলহানির ঘটনার পর এবার অনুকুল প্রকৃতিতে বাম্পার ফলন হওয়ায় উৎসব-উৎসব আমেজে কষ্টের সোনার ফসল ঘরে তুলে সুন্দর আগামীর স্বপ্ন দেখছিল কৃষকগণ। আর তাদের এ স্বপ্ন পুরণে সরকার ধানের ২৬ টাকা কেজি ও ১০৪০ টাকা মন ক্রয় মূল্য নির্ধারণ করে ২ মে থেকে ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত সংগ্রহ অভিযান চলার ঘোষণাও দেয়। কিন্তু; এ ঘোষনার ১ মাস ১০ দিন পরও কিশোরগঞ্জের সরকারি খাদ্য গুদামে শুরু হয়নি ধান সংগ্রহ অভিযান। এমনকি এ সংগ্রহ অভিযানে মাত্র ৪টি উপজেলায় নামমাত্র ধান ক্রয় বরাদ্দ আসলেও অন্য ৯টি উপজেলা ধান ক্রয়ের কোন বরাদ্দই পায়নি। আর এ পরিস্থিতিতে ধানের বাজার চলে যায় মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়া ব্যবসায়ী ও সুযোগ সন্ধানী মহাজনদের নিয়ন্ত্রণে। এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের ইশারাতেই ইচ্ছামতো নির্ধারিত হচ্ছে ধানের বাজার দর। কৃষকদের সুখ-স্বপ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে মধ্যস্বত্বভোগীদের পাতা ফাঁদ আর অদৃষ্টের চাকায়।

কিশোরগঞ্জ জেলা খাদ্য নিযন্ত্রকের কার্যালয় জানায়, সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ২ মে থেকে ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত সরকারি ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান চলার কথা রয়েছে। তবে এবার জেলার ১৩টি উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও নিকলী উপজেলায় ধান ক্রয়ের বরাদ্দ পাওয়া গেলেও এখন পর্যন্ত ধান সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়নি। এ ব্যাপারে খাদ্য অধিদপ্তরের এক অফিস নির্দেশের অযুহাতে মিডিয়ার সামনে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করে।

এ ব্যাপারে কথা হলে কিশোরগঞ্জের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ জর্নালকে জানান, এবার খাদ্যে উদ্বৃত্ত এ জেলায় ১ লাখ ৬৫ হাজার হেক্টরে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ থাকলেও এ লক্ষ্যমাত্র অতিক্রম করে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরোর আবাদ হয়। অপরদিকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৬৬ হাজার মেট্রিকটন নির্ধারণ করা হলেও বাম্পার ফলনের কারণে তা অতিক্রম করে ৭ লাখ মেট্রিকটনেরও বেশি উৎপাদন হয়েছে।