জম্মু-কাশ্মীরে মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ: রাজ্যপালের শাসন জারি

বুধবার, ২০ জুন, ২০১৮ ৮:২৮:৩৫ পূর্বাহ্ণ
0
69

অনলাইন ডেস্ক:

জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি মঙ্গলবার পদত্যাগ করার পর সেখানে রাজ্যপালের শাসন জারি করা হয়েছে। শরিক দল বিজেপির সঙ্গে মুফতির নেতৃত্বাধীন পিডিপি’র (পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি) মতের অমিল থেকেই ভেঙ্গে গেছে সরকার। আর এ কারণেই সংবাদ সম্মেলনে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে বিজেপির সমালোচনা করলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মেহবুবা মুফতি বলেন, আমরা কাশ্মীরকে শত্রু রাষ্ট্র হিসেবে দেখতে রাজি ছিলাম না। সেখানে বলপ্রয়োগ করে শান্তি আনার চেষ্টা তো অনেকদিন ধরেই করা হয়েছে। কিন্তু তাতে বিশেষ কোনও লাভ হয়নি। এভাবে শক্তি প্রয়োগ করে কোথাও শান্তি আনা সম্ভব হবে না। এজন্য সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধুমাত্র ক্ষমতা দখলের জন্য তিনি বিজেপির সঙ্গে মিলে জোট সরকার করেননি, তার উদ্দেশ্য ছিল কাশ্মীরে শান্তি ফিরিয়ে আনা।
কিন্তু তার সরকারের সেই চেষ্টা যে সফল হয়নি সেটি তার পদত্যাগের ঘটনাতেই স্পষ্ট। গত সাড়ে তিন বছর জম্মু-কাশ্মীরে জোট সরকার চালিয়েছে পিডিপি-বিজেপি জোট। এই সাড়ে তিন বছরের শাসনাবস্থায় মুফতির জোট সরকারে পক্ষে উপত্যকায় শান্তি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। নানা ইস্যুতে প্রায়ই ফুঁসে উঠেছে কাশ্মীরের সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি তাদের স্বাধীনতার আন্দোলন যাকে ভারত বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন বলে থাকে, সেটিও সমান তালে চলছিল। বিচ্ছিন্নতাবাদীদের পুরোপুরি দমন করা কেন্দ্র কিংবা রাজ্য সরকার কারো পক্ষেই সম্ভব হয়নি।
বিজেপি বরাবরই মনে করে, সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে বল প্রয়োগই ওই রাজ্যে শান্তি ফেরানোর একমাত্র পথ। কিন্তু পিডিপি বলপ্রয়োগের বিরোধী, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে। এই মতানৈক্য থেকেই বিবাদ বাড়ছিল সরকারের অভ্যন্তরে। অবশেষে এ অন্তর্দ্বন্দ্বেই ভেঙে গেল সরকার।
জম্মু-কাশ্মীরের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার দায়িত্ব শুধুমাত্র সে রাজ্যের সরকারের উপর ন্যস্ত নেই, এতে বরাবরই দখল দেয় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। মেহবুবা মুফতির সরকারকেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশনা মেনেই চলতে হয়েছে। কিন্তু মেহবুবা মুফতির নেতৃত্বাধীন সরকার মোদি সরকারের দ্বারা নির্দিষ্ট নীতি মেনে চলতে আর রাজি হচ্ছিল না। অতএব মুখ্যমন্ত্রীর পতন এবং জম্মু-কাশ্মীরে রাজ্যপালের শাসন জারি।
এবার জম্মু-কাশ্মীরের প্রশাসন কেন্দ্রের নির্দিষ্ট করে দেওয়া নীতি অনুসারেই যে সন্ত্রাস ও বিক্ষোভের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবে তা স্পষ্ট। সামনে এই বলপ্রয়োগ আরও বাড়বে বলেই ইঙ্গিত দিচ্ছে ঘটনাক্রম। একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীর বিধানসভার দুই বৃহত্তম দলের মতপার্থক্য অত্যন্ত প্রকটভাবে সামনে চলে আসছে। ফলে ওই রাজ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: এনডিটিভি/ আনন্দবাজার