মোদির গুরুত্ব বাড়াতে মমতার সফর বাতিল

রবিবার, ২৪ জুন, ২০১৮ ১০:৩০:২৮ পূর্বাহ্ণ
0
213
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

নিছকই কাকতালীয়, নাকি অন্য কিছু? ভারতের রাজনৈতিক মহলে ঘুরে ফিরছে এই প্রশ্ন। কারণ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চীন সফর শেষ মুহূর্তে বাতিল হওয়ার পরে এ বার বাতিল হয়েছে তার শিকাগো সফরও।

যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে বিশ্ব ধর্ম সম্মেলনে স্বামী বিবেকানন্দের বক্তৃতার ১২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে মমতাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল রামকৃষ্ণ মিশন। যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ১১ জুন হঠাৎ তাঁকে চিঠি দিয়ে ২৬ অগস্টের ওই অনুষ্ঠান বাতিল করার কথা জানায় শিকাগোর বিবেকানন্দ বেদান্ত সোসাইটি। কারণ হিসেবে সোসাইটির অধ্যক্ষ স্বামী ঈশাত্মানন্দ চিঠিতে মমতাকে লিখেছেন, রামকৃষ্ণ মিশনের সহ-সাধারণ সম্পাদক স্বামী অভিরামানন্দের আকস্মিক মৃত্যু (বেলুড়ে গঙ্গা থেকে ৮ জুন তার মরদেহ পাওয়া যায়) এবং অন্য কিছু ‘অপ্রত্যাশিত অসুবিধার’ জন্য অনুষ্ঠানটি বাতিল করা হচ্ছে। যদিও প্রেক্ষাগৃহ ভাড়া নেয়া থেকে শুরু করে অন্যান্য আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি নেয়া হয়ে গিয়েছিল বলে রামকৃষ্ণ মিশনের দাবি।

এখানেই বিষয়টি খুব ‘সরল’ বলে মনে করছে না ভারতের রাজনৈতিক মহল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও কিছু দিনের মধ্যেই শিকাগো যাওয়ার কথা।  সেখানে বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতার ১২৫ বছর উপলক্ষেই মোদি অন্য একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে। সেখানকার কোনো একটি ‘হিন্দু’ সংগঠনের নামে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। তাই প্রধানমন্ত্রীর সফরের গুরুত্ব ‘বাড়াতে’ মুখ্যমন্ত্রীর এই সফর বাতিল করা হল বলে মনে করা হচ্ছে। মমতা সেখানে গেলে তাঁর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হতে পারে বলেও অভিযোগ পাওয়া গিয়েছিল।

একই ভাবে যাত্রার কয়েক ঘণ্টা আগে মুখ্যমন্ত্রীর চীন সফর বাতিল হওয়ার পেছনেও ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রালয়ের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। রাজনৈতিক মহলে অনেকের ধারণা, মমতার সফর নিয়ে চীন যতটা উৎসাহী ছিল, নরেন্দ্র মোদির দপ্তর সেভাবে উৎসাহী ছিল না। বিষয়টি ব্যাখ্যা করে এক নেতার মন্তব্য, ‘মুখ্যমন্ত্রীকে যেতে বলেছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ২ এপ্রিল মমতা তার সফর চূড়ান্ত করে দিল্লিকে জানিয়ে দেন। কিন্তু আড়াই মাস কেটে গিয়ে যাত্রার চার ঘণ্টা আগেও তিনি জানতে পারলেন না, কার সঙ্গে দেখা করবেন ওখানে। এটা কি খুব স্বাভাবিক?’

ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রলায়ের সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার আরও জানায়, আসল কারণ হল চীনা প্রোটোকল। ভারতীয় বিধিমালায় প্রধানমন্ত্রী সেদেশের রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি গেলে রাষ্ট্রীয় স্তরে চীনা প্রতিনিধিরা দেখা করেন। কিন্তু কোনো প্রাদেশিক নেতা চীনে গেলে তাঁর সঙ্গে প্রাদেশিক নেতাই দেখা করবেন। রাষ্ট্রীয় স্তরের কেউ দেখা করবেন না। এই প্রোটোকল ভাঙতে চীন কখনও রাজি হয় না।

চীনের পক্ষ থেকে কলকাতায় লিখিত ভাবে বলা হয়েছিল, বেইজিংয়ে মমতার সঙ্গে সেই দেশের কোনো ‘সিনিয়র’ রাজনৈতিক নেতা দেখা করবেন। দেখা করবেন কুনমিংয়ের মেয়রও। কিন্তু দলের কোন ‘সিনিয়র’ নেতা দেখা করবেন, তা স্পষ্ট  জানানো হল না কেন, সেই প্রশ্ন এখনও তোলা হচ্ছে।

শিকাগোর ক্ষেত্রে সর্বশেষ পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। নবান্নের খবর, দিন কয়েক আগে রামকৃষ্ণ মিশনের তরফে ফের জানানো হয়েছে, মমতার ২৬ অগস্টের অনুষ্ঠান ‘পিছিয়ে’ দেওয়া হয়েছে, একেবারে বাতিল হয়নি। অভিযোগ, শিকাগোয় একটি ভুঁইফোড় সংগঠন তৈরি করে স্থানীয় বেশ কিছু অনাবাসী ভারতীয় সেখানকার রামকৃষ্ণ মিশন, বেদান্ত সোসাইটিকে হুমকি দিতে শুরু করেছেন, মমতা সেখানে গেলেই তাকে কালো পতাকা দেখিয়ে গো-ব্যাক স্লোগান তোলা হবে। বিক্ষোভ দেখানো হতে পারে বিমানবন্দরেই।

যদিও মমতা আপাতত এ নিয়ে নতুন করে কিছু ভাবছেন না বলেই জানা গেছে। তিনি শিকাগো না গেলেও ওই সময় অন্য কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরের তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন।