সুজনের বৈঠকে নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক

সোমবার, ২৫ জুন, ২০১৮ ১১:৫৬:২১ পূর্বাহ্ণ
0
86

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত বাজেট ২০১৮-১৯ : নাগরিক ভাবনা’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় হঠাৎ উপস্থিত রাজশাহীর কাওসার আলী।

সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তায় চলমান আমরণ অনশন আন্দোলনেই ছিলেন কাওসার। প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে এসে নিজেদের আন্দোলন সম্পর্কে কিছুটা বলার চেষ্টা করলেন তিনি।

সুজনের গোলটেবিলে উপস্থিত যে কারোর জন্য কথা বলার সুযোগ নিয়ে তিনি বলেন, আমি রাজশাহী থেকে এসেছি। এখানে আমাকে দাওয়াত দেয়া হয়নি। আমি একজন নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক। আজ ১৫ দিন ধরে রাস্তায় রোদে শুকাই, বৃষ্টিতে ভিজি অথচ আমাদের প্রতি কারও কোনো দায় নেই।

সভাপতির বক্তব্যের ঠিক আগে অনেকটা অপ্রত্যাশিতভাবেই তিনি সুযোগ নেন। তারপর বলেন, আপনারা যে গোলটেবিলে জনগণের কথা বলছেন, সেখানেতো আমাদেরও রাখতে পারতেন। বোধহয় আমরা মানুষের কাতারে পড়ি না তাই দু’টো কথা বলারও সুযোগ হয় না। প্রেস ক্লাবের সামনে বসেছিলাম, পুলিশ দিয়ে তাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমরা প্রাকৃতিক কাজ-কর্ম সারার সুযোগ পাচ্ছি না। তা হলে কিসের রাষ্ট্র? আর কিসের জন্য এই বাজেট? এ সময় কাওসারের কথায় অনুষ্ঠানস্থলে পিনপতন নীরবতা নেমে আসেন। সবাই বুদ হয়ে যান তার আবেগীয় কথাগুলোয়।

কাওসার বলেন, আমি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে একটি বেসরকারি কলেজে ঢুকেছিলাম। ভেবেছিলাম একদিন এমপিও হবে। পছন্দের পেশায় থেকে যেতে পারবো। এভাবে দেড়যুগ কেটে গেলো আশায় আশায়। অনেক শিক্ষক আছেন যাদের বয়স শেষ দিকে। তারা কীভাবে সংসার চালায়, কী করে বঞ্চনা বয়ে বেড়ায় সে খবর কি কেউ রাখেন?

দেশের প্রয়োজনে অপ্রয়োজনের কথা উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হয়, এক টাকার কাজ ১০০ টাকা দিয়ে করানো হয় অথচ অল্প কিছু টাকার জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো বছরের পর বছর বঞ্চিত হচ্ছে। আমাদের দুঃখ, কষ্ট আর বঞ্চনার কথা বলার কেউ নেই।