‘রোনালদোর জন্য কেন আলাদা নিয়ম’

বুধবার, ২৭ জুন, ২০১৮ ১১:৪৫:৪৩ পূর্বাহ্ণ
0
97
খেলা ডেস্ক:

ভিএআর কি তাহলে শুধু বড় দলগুলোর জন্য? ইরান ম্যাচে দু’বার প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের মুখে কনুই চালিয়েও পার পেয়ে গেলেন পর্তুগিজ তারকা। এতেই প্রশ্ন তুলেছেন ইরান কোচ কার্লোস কুইরোজ।

কুইরোজের ভাষায়, ‘নিয়ম বলছে কাউকে কনুই দিয়ে আঘাত করার শাস্তি লাল কার্ড। কোথাও এটা বলা নেই, বিশেষ বিশেষ কারও জন্য নিয়ম অন্যরকম হবে।’

কুইরোজ কিন্তু পর্তুগীজ। ২০১০ বিশ্বকাপে পর্তুগালেরই কোচ ছিলেন। এখন ইরানের হয়ে নিজের দেশের বিপক্ষে নেমেছিলেন। কিন্তু পেশাদার কোচের দায়িত্বে যখন, তখন দেশের আবেগ সরিয়ে রেখেই নামতে হয়। কুইরোজ তাই বলছিলেন, ‘এই নিয়ে বেশি বলতে চাই না। এটা আমার নিজের দেশ এবং আমার দেশেরই এক খেলোয়াড় প্রসঙ্গে বলা। জানি এটা বলার জন্য আমার বিরুদ্ধে হয়তো যুদ্ধ ঘোষণা করা হবে। কিন্তু সত্যিটা হল, তুমি ম্যাচটা থামালে ভিআরের জন্য। এবং ওটা যে কনুই চালানো সেটা স্পষ্ট। তা হলে?’

ইরানের বিপক্ষে গোল পাননি রোনালদো। পেনাল্টি মিস করেছেন। তার পর কড়া চ্যালেঞ্জের সামনে ইরানের ডিফেন্ডার মোর্তেজা পোরালিগানজির মুখে কনুই চালিয়ে দিয়েছেন। মোর্তেজা মুখ চেপে মাটিতে পড়ে যাওয়ায় তাকে আঙুল তুলে সাবধান হতে বলেছেন। রেফারি এনরিক কাসেরেস ভিআরের মাধ্যমে দেখেও নিশ্চিত হতে পারেননি। তার পর রোনালদোকে শুধু হলুদ কার্ড দেখিয়েই ছেড়ে দেন। অথচ, ওই কনুই চালানোর ঘটনার পরই রোনালদোকে আতঙ্কিত মনে হয়েছে। কারণ, নিয়ম তিনিও জানেন। কনুই চালানোর অর্থ লাল কার্ড। ধারাভাষ্যকারদের বক্স থেকেও চিৎকার ভেসে আসছিল, ‘শিওর রেড কার্ড!’ তার পরও রোনালদো বেকসুর খালাস পাওয়ায় বিস্মিত সবাই। এতে মরক্কো বা ইরানের কোনও ফারাক নেই। এবং, এখানেই শেষ নয়। এর পর ইরানেরই আরেক ডিফেন্ডার ওমিদ এব্রাহিমির মুখেও স্পষ্ট হাত চালান রোনালদো। তারপর মাথা ঠেলে সরিয়ে দেন। রেফারি ইরানের আবেদনে সাড়া দেননি।

সেজন্যই কুইরোজ বলছিলেন, ‘ওটা পরিষ্কার কনুই চালানো। এবং লাল কার্ড। নিয়ম সবার জন্য এক। রোনালদো বা মেসির জন্য আলাদা হতে পারে না। আমাদের জানা দরকার ঠিক কিভাবে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে? কিন্তু, কেউ আমাদের জানাচ্ছে না। একটা সিস্টেম দাঁড়ানো করা হয়েছে। কিন্তু, কেউ দায়িত্ব নিচ্ছে না। যখন ভিএআর একটা সিস্টেম হিসেবে আনলো, তখন আমাদের জানা দরকার এর সিদ্ধান্তটা কে নিচ্ছে? ৩৬ বছর কোচিংয়ে আছি। তার মধ্যে কুড়ি বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলে। বারো বছর পর্তুগালের কোচ ছিলাম, গত প্রায় আট বছর ইরানের। কিন্তু, কখনও রেফারিং নিয়ে এভাবে কথা বলতে হয়নি। আগেও ভুল হয়েছে রেফারিদের। এটা ম্যাচের অঙ্গ। খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি সবাই মানুষ। ভুল করা স্বাভাবিক। কিন্তু, সেটা কমানোর জন্য একটা সিস্টেম আনা হল। এই হাই-টেক একটা বিষয়ের সঙ্গে মাঠে পাঁচ-ছ’জন যুক্ত। কিন্তু, কেউ দায়িত্ব নিচ্ছে না কেন? সুতরাং আমার মতে মিস্টার ইনফান্তিনো (ফিফা প্রেসিডেন্ট), সবাই ভিএআরে মত দিলেও ব্যাপারটা মোটেই ভাল চলছে না।’

স্পষ্ট এবং পরিষ্কার অভিযোগ। কুইরোজ আগেও বলেছিলেন, এশিয়া বা আফ্রিকার দলগুলোর জন্য ফিফার নিয়মের যা কড়াকড়ি, সেটা বড় দলগুলোর ক্ষেত্রে অন্যরকম। এটা ইরানের কোচ হওয়ার পর বুঝতে পেরেছেন। ইরান রক্ষণ টপকাতে না পেরে হতাশ রোনালদো হাত চালানোর অপরাধ যে লাল কার্ডই ছিল, সেই নিয়ে সরব আন্তর্জাতিক মিডিয়াও। তবে পর্তুগালের তারকা ক্যারেশমা বললেন, ‘ওদের (ইরানের) কোচের উপর রাগ হচ্ছে। উনি নিজে একজন পর্তুগিজ। সুতরাং পর্তুগালের লোকেদের সম্মান করবেন এটাই প্রত্যাশিত। কিন্তু, তার কথাবার্তা একদম উল্টো। কুইরোজের কথার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করছি না। কারণ, তা হলে সারারাত এখানে বসে থাকতে হবে’’

ক্যারেশমা আসলে কী বলতে চাইলেন? নিজের দেশের লোক বলে কঠিন সত্যিটা বলা যাবে না?