‘সাধারণ মানুষ ক্ষমতাহীন হয়ে পড়ছে’

বুধবার, ২৭ জুন, ২০১৮ ১২:৫৭:৫৬ অপরাহ্ণ
0
116
 নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাধারণ মানুষ প্রতিদিন ক্ষমতাহীন হয়ে পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি।

বুধবার (২৭ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে গণসংহতি আন্দোলনের উদ্যোগে ‘রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া, নির্বাচন ও সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক অধিকার’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

সাকি বলেন, শুধুমাত্র কোনো একটি দল নিবন্ধন পেল বা পেল না, তার মধ্যেই আলোচনা সীমিত রাখতে চাই না। বরং এসব নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কীভাবে জনগণকে ক্ষমতাহীন করা হচ্ছে, সরকারকে স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, সেটা তুলে ধরতে চাইছি।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া আইনে বলা আছে যে, পরপর দুইবার নির্বাচনে অংশ না নিলে একটি দলের নিবন্ধন বাতিল হবে। এটা করা হয়েছে দলগুলোকে যে কোনো সাজানো নির্বাচনেও অংশ নিতে বাধ্য করতে অথবা নিবন্ধনহীন দলে পরিণত করার অসৎ উদ্দেশ্যে। আইনগুলো খুবই অস্পষ্ট। ফলে পুলিশ যেমন রায় দিচ্ছে বন্দুকযুদ্ধে হত্যা করার, তেমনি নির্বাচন কমিশন রায় দিচ্ছে শর্ত পূরণ না করায় নিবন্ধন দেয়া হয়নি।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, সভা পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আক্তার। আলোচনায় অংশ নেন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার (অব.) জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ, সুশাসনরে জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, ইতিহাসবিদ আহমেদ কামাল, বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড খালেকুজ্জামান, কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক প্রমুখ।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রাজনৈতিক দল নিবন্ধনের আইন যে কারণে করা হয়েছে, বর্তমানে তার বিপরীতে একে নতুন রাজনৈতিক চিন্তা ও দল নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বর্তমান আমলে এর শর্তগুলোকে এত কঠিন করা হয়েছে যে, এর লক্ষ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। তবে নির্বাচন কমিশনের নৈতিক দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোর অভিভাবক হিসেবে কাজ করা, সাহায্য করা।

বিশিষ্ট লেখক ও বুদ্ধিজীবী সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, নির্বাচন কমিশন হয়তো দলবিহীন গণতন্ত্র চাইছে বলেই নতুন কোনো রাজনৈতিক দলকে নিবন্ধন দিচ্ছে না। অধিকাংশ নিবন্ধিত দলের চাইতে গণসংহতি আন্দোলনসহ আরও কয়েকটি সক্রিয় ও প্রতিষ্ঠিত রাজনতৈকি দলকে তারা নিবন্ধন দিচ্ছে না। অথচ প্রতিদিন এ দলগুলো নানা কর্মসূচি পালন করছে।

ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, নিবন্ধন ছাড়াই জেল খাটলাম, মামলার শিকার হলাম, মুক্তিযুদ্ধ করলাম, আজকে নিবন্ধন দিয়ে আমাদের খেলো করা হচ্ছে।

বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নিবন্ধনের আইনটি করা হয়েছিল নামসর্বস্ব কর্মসূচিহীন দল যেন নির্বাচনে ব্যবহৃত না হয়।

মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ভোট মানুষ দেবে কি-না সেটা ভোটারদের প্রশ্ন। নির্বাচনে দাঁড়ানো রুদ্ধ করার এখতিয়ার নির্বাচন কমিশনকে কে দিল? এক শতাংশ ভোটার সমর্থকের স্বাক্ষর লাগার যে আইন করেছেন, রাতের বেলা সেই ভোটারের বাড়িতে যে পুলিশ বা মাস্তানরা ভয় দেখাবে না, তার নিশ্চয়তা কে দেবে?

বাসদের আহ্বায়ক খালেকুজ্জামান বলেন, রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম যাচাই করার অধিকার নির্বাচন কমিশনের থাকতেই পারে না।

গণসংহতি আন্দোলনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী সমন্বয়ক আবুল হাসান রুবেল বলেন, এ বিধানের অগণতান্ত্রিকতা সত্ত্বেও তাদের আইন ও শর্তগুলো মেনেই গণসংহতি আন্দোলন নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য আবেদন জমা দিয়েছিল। কিন্তু কোনো কারণ না দেখিয়েই, মাঠ পর্যায়ে কোনো জরিপ না করে এবং কি কি ক্রটির কারণে নিবন্ধন দেয়া হচ্ছে না, তা অবহিত না করেই গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে জানানো হচ্ছে কারা কারা নিবন্ধনের জন্য মনোনীত হচ্ছে, কাদেরকে বাতিল করা হচ্ছে।