সু চিকে অভ্যুত্থানের হুমকি মিয়ানমারের সেনাপ্রধানের

বুধবার, ২৭ জুন, ২০১৮ ১১:২০:২৫ পূর্বাহ্ণ
0
100
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

রাখাইনে রোহিঙ্গা নিধন নিয়ে আন্তর্জাতিক চাপ সামলাতে অং সান সু চি যে ভূমিকা নিচ্ছেন তা যে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী পছন্দ করছে না- এটা এখন একরকম ‘ওপেন সিক্রেট’।

কিন্তু থাইল্যান্ডের অন্যতম শীর্ষ দৈনিক ব্যাংকক পোষ্টে গত শনিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রাখাইনে হত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত এবং রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আনার ইস্যুতে সু চি এবং সেনাবাহিনীর সম্পর্ক ‘বিপজ্জনক মোড়’ নিয়েছে।

বিবিসির সাবেক সাংবাদিক ল্যারি জ্যাগানের লেখা এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইনে হত্যা এবং নির্যাতনের তদন্তসহ রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে আনা নিয়ে জাতিসংঘের সাথে যে বোঝাপড়া সু চির সরকার করেছেন তা নিয়ে সেনাবাহিনী সন্দিহান।

বিশেষ করে তদন্ত কমিটিতে একজন বিদেশী বিশেষজ্ঞ রাখার বিষয় নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর ‘রেডলাইন’
ব্যাংকক পোস্টের প্রতিবেদনে সেনাপ্রধানের ঘনিষ্ঠ একজন সাবেক সিনিয়র সেনা কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘এটা (তদন্তে বিদেশীকে রাখা) সেনাবাহিনী কোনোভাবেই গ্রহণ করবে না। এই ‘রেড-লাইন’ অতিক্রম করা যাবে না।’

শীর্ষ সেনা কমান্ডের সাথে সম্পর্কিত একাধিক সূত্র উল্লেখ করে লেখা হয়েছে- ‘সু চি এবং জেনারেল মিন অং লেইেনের মধ্যে এক বৈঠকে অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ছিলেন, তিনি এমনকি অভ্যুত্থানেরও হুমকি দেন। সেনা প্রধান  সু চিকে বলেন, আপনি যদি সরকার চালাতে না পারেন, সেনাবাহিনী ক্ষমতা ফিরিয়ে নেবে।’

তবে জ্যাগান তার প্রতিবেদনে লিখেছেন – সেনাপ্রধান কি পুরো দেশের ক্ষমতা নেওয়া কথা বলেছেন নাকি শুধু রাখাইনের কথা বলেছেন, তা স্পষ্ট নয়।

মিয়ানমারের সংবিধান অনুযায়ী, সেনাবাহিনী যদি মনে করে দেশে বা দেশের কোনো অঞ্চলে নিরাপত্তার হুমকি তৈরি হয়েছে, তাহলে তারা পুরো দেশের বা ঐ নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রশাসন চালানোর অধিকার নিয়ে নিতে পারবে।

ব্যাংকক পোস্ট বলছে, ঐ বৈঠকটি হঠাৎ করে শেষ হওয়ার পর – সু চির বেসামরিক প্রশাসন এবং সেনাপ্রধান পাল্টাপাল্টি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হন।

রাজধানী নেপিডো’তে সম্ভাব্য গণ্ডগোলের জন্য অনেক বড় বড় শহরে থেকে সেনাবাহিনীকে গুটিয়ে আনা হয়। রাখাইন ছাড়া অন্যান্য সীমান্তে অভিযানে রাশ টানা হয়।

একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা, যিনি সেনাবাহিনীর উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করেন, তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ‘…সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হবে’।

তবে, ব্যাংকক পোস্টে এও লেখা হয়েছে যে, সুইস কূটনীতিক ক্রিস্টিন বার্গনার, যিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত হিসাবে গত সপ্তাহে মিয়ানমার সফরে গিয়েছিলেন, তিনি উত্তেজনা প্রশমনে করার চেষ্টা করেছেন।

তার সাথে দীর্ঘ বৈঠকের পর সেনাপ্রধান রাখাইনে হত্যা-নির্যাতন তদন্তে একজন বিদেশীকে অন্তর্ভুক্ত করতে সম্মত হন।

সেনা অভ্যুত্থানের হুমকি প্রসঙ্গে মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে, সু চির মুখপাত্র জ থে বলেন, এমন হুমকির কোনো ঘটনাই ঘটেনি। তবে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো ওই প্রতিবেদন নিয়ে মুখ খোলা হয়নি।

সেনাবাহিনী এবং সু চির বেসামরিক প্রশাসনের মধ্যে এই টানাপড়েনের মধ্যে গত মঙ্গলবার মিয়ানমার সেনাবাহিনী মং মং সো নামে একজন মেজর জেনারেলকে বরখাস্ত করেছে। তিনি রাখাইনে সেনা কমান্ডার ছিলেন।

ওদিকে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সেনাপ্রধান মিন অং লিয়ান এবং ১২ জন সেনা কর্মকর্তার নাম করে বলা হয়েছে- রাখাইনে এরাই পরিকল্পনা করে সহিংসতা পরিচালনা করেছেন।

এই প্রথম কোনো প্রতিবেদনে সরাসরি নাম ধরে মিয়ানমারের সেনা কর্মকর্তাদের অভিযুক্ত করা হলো।

অ্যামনেস্টি দাবি, এই সেনা কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক আদালতে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।

সূত্র: বিবিসি বাংলা