কোটার প্রজ্ঞাপনে আটকে আছে বিসিএসের নতুন সার্কুলার

বৃহস্পতিবার, ২৮ জুন, ২০১৮ ৫:২৩:২৩ পূর্বাহ্ণ
0
105
bdj

নিজস্ব প্রতিবেদক

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রায় দেড় মাস আগে ৪০তম বিসিএসের চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি)। কিন্তু কোটা ব্যবস্থা বাতিলের নতুন প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় সংস্থাটি সার্কুলার দিতে পারছে না।

প্রতিবছর জুনের মধ্যে বিসিএসের সার্কুলার দেয়ার রীতি থাকলেও এবার দেরি হওয়ায় চাকরিপ্রার্থীদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা। কেন না হাজার হাজার প্রার্থীর বয়স চলে যাচ্ছে। বিলম্ব করলে ওইসব প্রার্থী আবেদন করতে পারবেন না। ফলে ক্যাডার সার্ভিসের চাকরির স্বপ্ন তাদের অধরাই রয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

সার্কুলার বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসি চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন, আমরা প্রতিবছরই একটি নতুন বিসিএসের সার্কুলার দেয়ার চেষ্টা করি। সে অনুযায়ী জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ৪০তম বিসিএসের চাহিদাপত্র পাওয়া গেছে। কিন্তু আরও কিছু তথ্য-উপাত্ত প্রয়োজন। সেগুলো চাওয়া হয়েছে। ওইসব তথ্য পাওয়া মাত্র সার্কুলার জারি করা হবে।

তবে কোটা সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের জন্য সার্কুলার আটকে নেই বলে তিনি দাবি করেন।

অবশ্য পিএসসির একাধিক সূত্র জানিয়েছে, কোটার নতুন প্রজ্ঞাপনের কারণেই আটকে আছে ৪০তম বিসিএসের সার্কুলার।

এর আগে গত ১১ এপ্রিল, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে সংসদে কোটা পদ্ধতি বাতিলের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু দীর্ঘ আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও  জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত কোনো প্রজ্ঞাপন জারি করেনি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিএসসির একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, কোটার বিষয়টি নিষ্পত্তি ছাড়া বিসিএসের নতুন সার্কুলার দিলে দুই ধরনের সমস্যা হতে পারে। একটি হচ্ছে- সংক্ষুব্ধ প্রার্থীরা ফের আন্দোলনে নামতে পারে।

অপরটি কোন নীতির আলোকে প্রার্থী সুপারিশ করা হবে, সেটা সার্কুলার প্রকাশের সময়ই নির্ধারণ করতে হয়।

বর্তমানে যে ৪টি বিসিএসের কাজ চলছে, সেগুলো কোটা সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার আগেই সিদ্ধান্ত নেয়া। তাই প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর কোনো বিসিএসের সার্কুলার দিতে হলে আগেভাগেই কোটা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়া দরকার। এজন্যই পিএসসি প্রজ্ঞাপনের জন্য অপেক্ষা করছে।

পিএসসির শীর্ষ এক কর্মকর্তা জানান, তাদেরও ইচ্ছা দ্রুতই ৪০তম বিসিএসের সার্কুলার দেয়া। শুধু কোটা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রজ্ঞাপনের জন্য অপেক্ষার কারণে বিলম্ব হচ্ছে।

এদিকে কোটার কারণে এমন পরিস্থিতি হলেও খুব শিগগিরই কোটা সংক্রান্ত পরিস্থিতি নিষ্পত্তি হচ্ছে না বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। কেননা সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সংক্রান্ত কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাঠানো হলেও সেটি ফেরত আসেনি। এ কারণে কোটা পর্যালোচনার কাজও শুরু হয়নি।

অপরদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের শীর্ষপর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এটা নিয়ে কাজ করছে। সবকিছুই শেষ পর্যায়ে। কিন্তু এটা নিয়ে যে কমিটি গঠনের কথা ছিল, সেটি এখনও হয়নি। ফলে এটা চূড়ান্ত হতে সময় লাগতে পারে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে প্রধান করে কমিটি গঠনের কথা থাকলেও এ বিষয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞ খোঁজা হচ্ছে। বিকল্প খুঁজতেই সময় লেগে যাচ্ছে।

কমিটি গঠন এবং কোটা পর্যালোচনার প্রতিবেদন চূড়ান্ত করতে কমপক্ষে দুই মাস সময় লাগতে পারে বলে ওই কর্মকর্তার ধারণা।

তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, কোটার কাজটি কেবল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের না, অন্য মন্ত্রণালয়ও জড়িত। এ নিয়ে কাজ হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি আমার জানা নেই।

প্রসঙ্গত, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে দেড় মাস আগে পাঠানো ৪০তম বিসিএসের চাহিদাপত্রে দুই হাজারের বেশি পদে নিয়োগের কথা আছে। এতে প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার পদ ২২৮টি, পুলিশ ক্যাডারে সহকারী পুলিশ সুপার ৭০টি, পররাষ্ট্র ক্যাডারে সহকারী সচিব ২৫টি, আনসার ক্যাডারে ১২, মৎস্য ক্যাডারে ৩৪৪টি, নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারে সহকারী মহা-হিসাবরক্ষক ১৫টি, শিক্ষা ক্যাডারে বিভিন্ন বিষয়ের প্রভাষক পদে প্রায় ১ হাজার।

এছাড়া স্বাস্থ্য ক্যাডারের সহকারী সার্জন, সহকারী ডেন্টাল সার্জন, কৃষি ক্যাডারের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা, সহকারী বন সংরক্ষক, ভেটেরিনারি সার্জন, সহকারী প্রকৌশলী, কর ক্যাডারের সহকারী করকমিশনার, তথ্য ক্যাডার, রেলওয়ে প্রকৌশল ক্যাডারের নির্বাহী প্রকৌশলী ও সমমানের পদ, ইকোনমিক ক্যাডারের সহকারী প্রধান, রেলওয়ে পরিবহন ও ডাক ক্যাডারে সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল পদে ৫ শতাধিক কর্মকর্তা নিয়োগের চাহিদার কথা উল্লেখ রয়েছে।