গাইবান্ধার নলডাঙ্গা-বামনডাঙ্গা সড়কের বেহাল দশার কারণে লক্ষাধীক মানুষ ভোগান্তিতে

বৃহস্পতিবার, ২৮ জুন, ২০১৮ ১২:৫১:৪৭ অপরাহ্ণ
0
172

ফেরদৌস জুয়েল (গাইবান্ধা):

গাইবান্ধার নলডাঙ্গা-বামনডাঙ্গা সড়কের বেহাল দশার কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ফলে যাতায়াতে সময় ও ভাড়া দুটোই বেশি লাগছে। এ ছাড়া এই সড়কে চলাচলের কারণে প্রায়ই যানবাহন নষ্ট হচ্ছে। যানবাহন মেরামত করতে ধরে সেদিন গাড়ী চালাতে না পারার কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন চালকরা।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির অসংখ্যস্থানের কার্পেটিং (পিচ) উঠে গেছে দীর্ঘদিন আগেই। অনেকস্থানেই ইটের খোয়া উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্তের। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সেসব গর্তে জমে থাকছে পানি। বিশেষ করে নলডাঙ্গায় খাদ্য গোডাউনের সামনের সড়কের অবস্থা একেবারেই বেহাল। ফলে এই পথ দিয়ে ব্যাটারিচালিত রিকসা-ভ্যান ও অটোরিকসা চলাচল করছে হেলে দুলে।

এতে করে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বৃদ্ধ ও অসুস্থ্য মানুষদের। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলা শহর থেকে পলাশবাড়ী হয়ে রংপুর বিভাগীয় শহরে যেতে সময় বেশি লাগে। কিন্তু গাইবান্ধা-লক্ষ্মীপুর-সুন্দরগঞ্জ সড়কের ধোপাডাঙ্গা থেকে নলডাঙ্গা-বামনডাঙ্গা সড়ক হয়ে রংপুরে যেতে যাতায়াতে সময় কম লাগে। এ ছাড়া এ পথে মহাসড়কের তুলনায় যানবাহন কম চলাচলের কারণে সড়কটি অত্যন্ত নিরাপদ অনেকের কাছে। আর তাই এই সড়কটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের কাছে। কিন্তু সড়কটির বেহাল দশার কারণে অনেকেই আর এই পথ দিয়ে চলাচল করেন না।

আর তাই অন্য পথ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন জনগণ। শুধু তাই নয় সড়কটি ভালো থাকার সময় আশেপাশে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ফলে এখন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ক্রেতা কম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও।

 

অপরদিকে রংপুর-সুন্দরগঞ্জ সড়কের ও বামনডাঙ্গা মোড়ে জাতীয় পার্টির অফিসের সামনে সড়কটি নিচু থাকায় সেখানে পানি জমে থাকে। ফলে যাতায়াতকারী মানুষরা পড়েন বিপাকে।নলডাঙ্গা থেকে বামনডাঙ্গা যাতায়াতকারী ব্যাটারী চালিত অটোরিকসার চালক আহম্মদ আলী বলেন, সড়কটার এতোটাই বেহাল অবস্থা যে ১০ মিনিটের রাস্তা যেতে ২০ মিনিটেরও বেশি সময় লাগে।

 

প্রায়ই বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে আবার সেটি মেরামত করতে গিয়ে অতিরিক্ত টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে। তাই ভাড়াও নিতে হচ্ছে বেশি। কিন্তু রাস্তাটি ভালো থাকলে ভাড়া কম নেওয়া যেতো। এ ছাড়া সড়কটির বেহাল দশার কারণে মানুষ এই পথ দিয়ে চলাচল করে কম। আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছি। এসব বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবুল মনছুর বলেন, প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি বর্তমানে ১২ ফুট প্রশস্ত আছে।

সড়কটি ২০১৭ সালে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা, অবকাঠামো মেরামত/সংস্কার প্রকল্পের আওতায় দুইপাশে আরও ৩ ফুট করে মোট ৬ ফুট প্রশস্তকরণের প্রস্তাবনা অনুমোদন হয়েছে। দরপত্র আহবানের প্রক্রিয়া চলছে। প্রক্রিয়া শেষে কাজ শুরু করা হবে।