রূপালী ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ, ৩৩ বছর পর ২৯ জনের কারাদণ্ড

বৃহস্পতিবার, ২৮ জুন, ২০১৮ ১২:২৬:১৮ অপরাহ্ণ
0
71
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকের ৫৩ লাখ ৭ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৩৩ বছর আগে দায়ের হওয়া একটি মামলায় ২৯ জনকে তিন বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় একই মামলার ৩৭ জন আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মীর মো. রহুল আমিন এই রায় দিয়েছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিচারিক পর্যায়ে এসে মামলায় মোট ৬৬ জন আসামি ছিল। এর মধ্যে ২৯ জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় আনা অভিযোগ প্রমাণ হওয়ায় তাদের তিন বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের আত্মসাৎ করার সমপরিমাণ অর্থ জরিমানা করা হয়েছে। বাকি ৩৭ জনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যপ্রমাণ মেলেনি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪-৮৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংক লবণ চাষিদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়ার একটি সার্কুলার জারি করেছিল। ওই সার্কুলারের পর কক্সবাজার জেলায় রূপালী ব্যাংকের রামু শাখা থেকে লবণ চাষিদের ৩০টি সমিতি আবেদনের ভিত্তিতে ৫৩ লাখ ৭ হাজার টাকা ঋণ পায়। পরে সেই ঋণ সাধারণ লবণ চাষিদের মধ্যে বণ্টনের পরিবর্তে সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও ব্যাংকের কর্মকর্তারা মিলে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা ভুয়া প্রত্যয়নপত্র দিয়ে সেই ঋণ আত্মসাতে সহায়তা করেন।

এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন ব্যুরোর তৎকালীন পরিদর্শক খন্দকার মইনুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৯৮৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্ত করে ১৯৯৪ সালের ১ মার্চ ৭০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর তৎকালীন পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ। ৭০ আসামির মধ্যে ৬০ জন ছিলেন ৩০টি সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। বাকিদের মধ্যে ছয় জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং বাকি চারজন রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন।

২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট ৬৬ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচারের আদেশ দেন আদালত। চার আসামি মারা যাওয়ায় তাদের বিচার কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়।

পরে রাষ্ট্রপক্ষ ১২৩ জন সাক্ষীর মধ্যে মাত্র পাঁচ জনকে আদালতে আনতে সক্ষম হয়। বাকিদের অধিকাংশই মারা গেছেন অথবা ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে তাদের পাওয়া যায়নি বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ।

তিনি আরো জানান, দণ্ডিতদের মধ্যে লবণ চাষিদের সমিতির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানরা আছেন।

রায় ঘোষণার সময় খালাস পাওয়া ৩৭ জন আদালতে হাজির থাকলেও দণ্ডিতরা হাজির ছিলেন না।