ক্রেতা সমাগম বাড়লেও কমেনি সবজির দাম

শুক্রবার, ২৯ জুন, ২০১৮ ৩:১১:০৬ অপরাহ্ণ
0
88

যুগের কন্ঠ ডেস্ক:

বাজারের প্রাণ ক্রেতা। কিন্তু ঈদের ছুটির কারণে রাজধানীর সবজির বাজারগুলো ছিল ক্রেতা শুন্য। ঈদের ছুটি শেষ হওয়ায় ক্রেতাদের পদচারণায় ফের জমে উঠেছে সবজির বাজারগুলো। বাজারে ক্রেতাদের পরিমাণ বাড়লেও প্রভাব পরেনি সবজির দামে। বাজারে এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সবজি।
রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাজারে ঈদের পর সবজির সরবারাহ ভালো ছিল। কিন্তু তখন বাজারে ক্রেতাদের সমাগম ছিল না। এখন ঈদের পর জমে উঠেছে বাজার কিন্তু বাজারে তেমন সবজির সরবারাহ নেই বলে তাদের দাবি।
রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে প্রায় সব রকম সবজিরই সরবারাহ পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। তবে ক্রেতারা বলছেন, ঈদের সময় বাজার ক্রেতা শূন্য ছিল। তাই বিক্রেতারা তেমন বেচাকেনা করতে পারেনি। তারা বলছেন ক্রেতারা ঈদের সময়ের ক্ষতি পুষিয়ে নিতেই এখন বেশি বেশি দাম রাখছেন বিক্রেতারা।
রাজধানীর হাতিরপুল বাজার, কারওয়ান বাজার, মিরপুর ৬নং বাজার ও মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সবজির দামের পাশাপাশি বাজারে বেড়েছে ডিমের দাম। তবে স্থিতিশীল অবস্থায় আছে মাছ ও মাংসের দাম।
রমজানের মাস জুড়ে বাজার মনিটর করায় মোটামোটি সব ভোগ্য পণ্য ও সবজির দাম ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যই ছিল। কিন্তু ঈদের পর থেকে নেই চোখে পরার মত কোনো বাজার মনিটরং ব্যবস্থা। তাই মধ্যস্বত্বভোগীদের কারসাজিতে ফের উত্তপ্ত রাজধানীর সবজির বাজার।
রমজানের সময় প্রতি ডজন ডিম ৬৫ -৭৫ টাকা বিক্রি হলেও বর্তমানে ডজনে ২৫-৩০ টাকা বেড়ে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়।
ডিমের দাম বাড়ার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এক ব্যবসায়ী জানান, বাজারে যে পরিমান ডিমের চাহিদা আছে সে পরিমাণ সরবারাহ নেই। তাই ডিমের দাম বেড়েছে।
শুক্রবার সবজির বাজারে প্রতি কেজি চিচিঙ্গা ৫৫-৬০ টাকা, ধনেপাতা ১৫০ টাকা, কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা, পটল ৫০-৬০ টাকা, বেগুন ৫০-৬০ টাকা, টমেটো ১২০ টাকা, গাঁজর ৫০-৬০, আলু ২৫ টাকা এবং বরবটি ৬০-৬৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি পিস লাউ ৩৫-৪০ টাকা, জালি কুমড়া ৩০-৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে কেজিতে ১০ টাকা কমে প্রতি কেজি ওস্তা বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকায়। প্রতি কেজি পেঁপে ৪০ টাকায়, ঢেঁড়স ৪০ টাকায়, লতি ৬০ টাকায় এবং প্রতি হালি কাঁচা কলা বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। ঈদের আগে উর্ধমুখী থাকলেও বর্তমানে কেজিতে ২০-৩০ টাকা কমে প্রতি কেজি দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। আর প্রতি কেজি আমদানি করা রসুন বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। প্রতি কেজি আদা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়।
বাজারে প্রতি কেজি কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, বেগুন ৬০ টাকায়, পটল ৮০ টাকায়, করলা ৮০ টাকায়, সসা ৮০ টাকায়, কহি ৪০ টাকায়, গাজর ৬০ টাকায়, লেবু প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কারোয়ানবাজারের এক সবজি বিক্রেতা বলেন, আমরা খুচরা ব্যবসায়ী। দাম বাড়ানো বা কমানোর পিছনে আমাদের কোনো হাত নেই। আমরা পাইকারদের কাছ থেকে যেমন দামে কিনি ঠিক তেমন দামেই বিক্রি করি।
অপরদিকে ফের বাড়তে শুরু করেছে চালের দাম। কেজিতে ৩-৪ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি মিনিকেটে চাল বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬২ টাকায়। প্রতি কেজি বিআর-২৮ কেজিতে ২ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকা। স্বর্ণা চাল কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকায়।
বাজারে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৫২০-৫৫০ টাকায়। অপরদিকে কেজিতে ১৫ টাকা কমে প্রতি কেজি বয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৫৫ টাকায়।
মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, রুই ও কাতলা প্রতি কেজি ২৩০-৩০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। যা গত সপ্তাহে একই দামে বিক্রি হয়েছে। বড় আকারের চিংড়ি প্রতি কেজি এক হাজার টাকা, মাঝারি আকারের ৭০০ টাকা ও ছোট আকারের ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তেলাপিয়া প্রতি কেজি ১২০-১৪০ টাকা, কই ১৪০-১৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। সিলভার কাপ ১০০-১২০ টাকা, পাবদা ৪০০-৪৫০ টাকা, পাঙ্গাশ ১১০-১৩০, নলা ১২০-১৩০ টাকা ও সরপুঁটি ১৩০-১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।