লাইভে প্রধানমন্ত্রীকে কটূক্তির অভিযোগেই রাশেদকে গ্রেপ্তার

রবিবার, ১ জুলাই, ২০১৮ ১:০৩:৫৩ অপরাহ্ণ
0
102

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক রাশেদ খানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দুপুরে মিরপুর ১৪ নম্বরের ভাষানটেক বাজার এলাকার মজুমদার রোডের ১২ নম্বর বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক লাইভে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তি করার কারণেই সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের এক যুগ্ম আহ্বায়ককে গ্রেপ্তার করা হয়। শাহবাগ থানায় ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক আল নাহিয়ান খান জয়ের দায়ের করা তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিবি।
রাশেদ খানের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার মুরারীদহ গ্রামে। তার বাবার নাম সবাই বিশ্বাস। রাশেদের আত্মীয় ও বন্ধুরা অভিযোগ করেন, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাশেদকে ধরে নিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময় রাশেদের সঙ্গে থাকা মাহফুজ খান নামের অপর একজনকেও ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে তাদের অভিযোগ।
পরে বেলা দেড়টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপকমিশনার মাসুদুর রহমান জানিয়েছেন, আল নাহিয়ান খান জয় নামের এক ব্যক্তির শাহবাগ থানায় আইসিটি আইনের ৫৭ ধারায় করা মামলায় তাকে (রাশেদ খান) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে এই মামলার এজাহারনামীয় একমাত্র অভিযুক্ত। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারপরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।
মামলার বাদী আল নাহিয়ান খান জয় ছাত্রলীগের সদ্য সাবেক কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জুন বুধবার রাত ৮টা ৮ মিনিটে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতা রাশেদ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে যান। লাইভের এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রাশেদ বলেন, ‘মনে হচ্ছে এটা তার বাপের দেশ, সে একাই দেশের মালিক, ইচ্ছামতো যা ইচ্ছা তাই বলবে আমরা কোনো কথা বলতে পারবো না।’ এজাহারে বাদি ছাত্রলীগ নেতা নাহিয়ান উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এই ধরনের বক্তব্য সুস্পষ্ট মানহানী ঘটায়। রাশেদ বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে।
জানা গেছে— আল-নাহিয়ান খান জয় মামলার সময় রাশেদের লাইভে ধারণ করা বক্তব্য ও বিভিন্ন সময়ে ফেসবুকে ছড়ানো গুজবের স্ক্রিনশট পুলিশের কাছে জমা দিয়েছেন।
মামলার বিষয়ে আল-নাহিয়ান খান জয় জানান, পুলিশ সদর দপ্তরের অনুমতি নিয়ে ১ জুলাই রাতে তিনি শাহবাগ থানায় রাশেদের বিরুদ্ধে এই মামলা করেন।
এর আগে সকালে ফেসবুক লাইভে এসে গোয়েন্দা পুলিশ তার পিছু নিয়েছে বলে জানান রাশেদ। এই সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ভাসানটেক মজুমদারের মোড় এলাকায় ডিবি আমাকে ধাওয়া দিয়েছে। আমি একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। সবাই আমাকে বাঁচান।
রাশেদের বন্ধু দীন ইয়ামিন বলেন, রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনি, রাশেদ ও মাহফুজ ভাষানটেকের মজুমদার মোড়ে রাশেদের আত্মীয়ের বাসার সামনে ছিলেন। এ সময় পুলিশের পোশাক পরে ও সাদাপোশাকে কয়েকজন তাদের সামনে আসেন এবং তাদের পরিচয় জিজ্ঞাসা করতে থাকেন। পুলিশের সঙ্গে ওই এলাকার কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতাও ছিলেন। একপর্যায়ে তাদের গতিবিধি সন্দেহ হলে রাশেদ পাশের বাসার ছাদে আশ্রয় নেন। এ সময় সেখান থেকে তাকে খুঁজে বের করে আটক করা হয়। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই রাশেদের মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।
দীন ইয়ামিন বলেন, রাশেদের সঙ্গে থাকা মাহফুজ খানকেও তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
রাশেদের বড় বোন রূপালী বেগমও রাশেদের আটক হওয়ার খবর জানিয়ে কান্নাকাটি করতে থাকেন। তিনি বলেন, ‘আমি আমার ভাইকে ফেরত চাই।’
ঘটনার পর রাশেদ খানের স্ত্রী রাবেয়া আলো বলেন, ‘রাশেদকে ডিবি পুলিশ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তুলে নিয়ে গেছে বাসা থেকে। এ সময় তাঁকে অনেক মেরেছে।’ এই বলে কান্না করতে থাকেন তিনি। রাবেয়া আলো আরো জানান, তিনি এখন থানায় জিডি করতে যাচ্ছেন।
সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ ব্যানারে কয়েক মাস ধরে আন্দোলন করে আসছে একদল শিক্ষার্থী। তাদের আন্দোলনের মুখে প্রধানমন্ত্রী কোটা বাতিলের ‘ঘোষণা’ দিলেও সরকারি প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ।
শনিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে পিটুনির শিকার হন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকারীরা। ক্যাম্পাসের গ্রন্থাগারের সামনে এই হামলার জন্য ছাত্রলীগকে দায়ী করেছেন তারা; হামলার সময় সংগঠনটির কয়েকজন নেতাকে ঘটনাস্থলে দেখা গেছে।
তবে হামলায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে সরকার সমর্থক সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, আন্দোলনকারীদের ‘অভ্যন্তরীণ কোন্দলে’ হামলার ঘটনা ঘটেছে।