দ্রুত এমপিওভুক্তি কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

বুধবার, ৪ জুলাই, ২০১৮ ৪:১৬:২৪ অপরাহ্ণ
0
97

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বেসরকারি ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) বিষয়ে দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
এমপিওভুক্তির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন,আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্বগ্রহণের পর শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়নের লক্ষ্যে সারাদেশে ১ হাজার ৬২৪টি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। অবশিষ্ট ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত করার জন্য ইতোমধ্যে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো এবং এমপিও নীতিমালা ২০১৮ জারি করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, যথাযথ নীতিমালা অনুসরণ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার) বিষয়ে দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এ লক্ষ্যে অনলাইন অ্যাপলিকেশন গ্রহণ এবং ব্যবস্থাপনা ও বিধি মতে প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের জন্য পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শেখ হাসিনা বলেন, এই নীতিমালা অনুসরণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বিষয়ে দ্রুত কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এ লক্ষ্যে অনলাইন অ্যাপ্লিকেশন গ্রহণ ও ব্যবস্থাপনা এবং বিধিমতে প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের জন্য পৃথক দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষকদের মূল বেতন সরকার দিয়ে থাকে। নিজ নিজ এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে সংসদ সদস্যদেরও সুপারিশ থাকে।
২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে কয়েকটি শর্ত দিয়ে নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করতে আলাদা বরাদ্দ রাখা হবে বলে বাজেটের আগে জানিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কিন্তু বাজেটে এমপিও নিয়ে কোনো ঘোষণা না থাকায় ফের আন্দোলনে নেমেছেন নন-এমপিও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা। গত কয়েকদিন ধরে তারা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
মঙ্গলবার সংসদে প্রশ্নোত্তরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও কার্যক্রমের সমালোচনা করে বক্তব্য দেন। এমপিওভুক্তিকে ‘খারাপ কার্যক্রম’ হিসেবে উল্লেখ করে মুহিত বলেন, “এতে শুধু কিছু শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতন দেওয়া হচ্ছে। শিক্ষার উন্নয়নের জন্য এটা কোনো ভালো কার্যক্রম নয়। উপবৃত্তিতে অর্থ দেওয়া যায়, সেটা অনেক ভালো কাজ করে। শিক্ষার উন্নয়নের জন্য যদি আমরা স্কুল ফিডিংয়ের ব্যবস্থা করতে পারি অনেক ভালো হবে। কেন আপনারা (সংসদ সদস্য) সেগুলোর দিকে নজর দেন না? বারবার এমপিওভুক্তি করতে চেষ্টা করেন।
বুধবারের অধিবেশনে জাতীয় পার্টির সাংসদ ফখরুল ইমামের এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, “কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষকতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা দেশকে উন্নত করতে চাই। উন্নত করতে ব্যাপক কাজ আমরা করছি। প্রতিটি সেক্টরে ব্যাপক কাজ হচ্ছে।”
স্বল্প খরচে শিক্ষার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষার্থীরা কত টাকা খরচ করে? তাদের সিটভাড়া হচ্ছে ২৫ টাকা। আর খাবার হচ্ছে ৩০ টাকা। এই টাকায় তারা পড়ছে। এখন তো ভালো এক কাপ চা খেতে গেলে ২০ টাকা লাগে।”
বাংলাদেশের নয় বছরের উন্নয়নে সকলে বিস্মিত বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই ৯ বছরের উন্নয়নে বিশ্ব আজ বিস্মিত এই উন্নয়নের ধারাটা এত দ্রুত গতিতে হওয়ায় অনেকে আমার কাছে ম্যাজিক কী তা জানতে চান। তবে এই ম্যাজিকটা কিছুই নয়। দেশকে ভালোবাসি, মানুষের কল্যাণে কাজ করি। সেটাই কারণ।
“জাতির পিতা যে স্বপ্ন নিয়ে দেশটাকে স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন সেটা বাস্তবায়ন করাটাকে আমার একমাত্র কর্তব্য বলে মনে করি।”
মিয়ানমারের ১১ লাখের ওপর রোহিঙ্গা নাগরিককে বাংলাদেশে স্থান দেওয়ার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “পৃথিবীর বহু উন্নত দেশ শরণার্থী আশ্রয় দিতে চায় না। আমরা সেখানে ১১ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছি। তাদের থাকা, চিকিৎসা, কাজের ব্যবস্থা সব রকমের ব্যবস্থা এত সুশৃঙ্খলভাবে করেছি এটাও বিশ্বের কাছে একটি বিস্ময়।”
রোহিঙ্গাদের ফেরাতে মিয়ানমারের সঙ্গে চুক্তির কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা আরো বলেন, “আমরা এটা নিয়ে প্রতিবেশি দেশের সঙ্গে আলোচনাও করে যাচ্ছি। মারামারি কাটাকাটি করছি না। আলোচনা করে সমস্যা সমাধান করে এদের ফেরত দিতে চেষ্টা করছি। সেকারণে সবাই এখানে আসছে দেখতে।”
প্রধানমন্ত্রী বাষ্পরুদ্ধ কন্ঠে বলেন, “পিতা-মাতা ভাই হারানোর বেদনাকে বুকে নিয়ে দু’চোখের অশ্রু সংবরন করে এগিয়ে যাচ্ছি ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা গড়ে তোলার জন্য।”