ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস, বন্যার আশঙ্কা

বুধবার, ৪ জুলাই, ২০১৮ ৪:২০:৪৪ অপরাহ্ণ
0
129

যুগের কন্ঠ ডেস্ক:

গত দুইদিনের টানা বর্ষণে দেশের নদ-নদীর পানি বাড়তে শুরু করেছে। এদিকে আগামী দুই থেকে তিনদিন উজানে ভারি বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী ৭২ ঘণ্টা রাজধানীসহ দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের কিছু জেলা ও দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি থেকে প্রবল অবস্থায় বিরাজ করছে।
বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঢাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার হবে।
ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়া ও বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টি হতে পারে।
বন্যার আশঙ্কা
গত দুইদিনের টানা বর্ষণে সিলেট অঞ্চলে সুরমা, কুশিয়ারা, সোমেশ্বরীসহ কয়েকটি নদী বিপৎসীমার উপর দিয়ে বইছে। সুনামগঞ্জ শহরের নিম্নাঞ্চল এরই মধ্যে ডুবে গেছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, সিলেটের কানাইঘাটে সুরমার পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৬ সেন্টিমিটার বেড়ে বুধবার সকাল ৯টায় বিপৎসীমার ১০২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ নদীর পানি সিলেট সদরে বিপৎসীমার ৩৩ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জে ৭০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
অন্যদিকে নেত্রকোণার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে, চট্টগ্রামের দোহাজারিতে সাঙ্গুর পানি ৪০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া সিলেটের সারিঘাটে সারিগোয়াইন নদী, সিলেট ও শেরপুরে কুশিয়ারার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জাদুকাটা নদী লরেরগড় পয়েন্টে বিপৎসীমা স্পর্শ করেছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উত্তরে ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার, ঘাঘট আর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সুরমা ও কুশিয়ারাসহ বিভিন্ন নদ-নদীতে পানি আগামী দুই দিনে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধির ধারা কমে আসতে পারে।
ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির ধারা আরও তিন দিন এবং পদ্মায় আরও দুই দিন পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয় বোর্ড। তবে এসব নদ-নদী এখনও বিপৎসীমায় পৌঁছায়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের জাফলংয়ে দেশের সর্বোচ্চ ১৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে। আর জাফলংয়ের উত্তরে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে গত ২৪ ঘণ্টায় ২২৫ মিলিমিটার রেকর্ড করা হয়েছে।
পাহাড়ি ঢলে বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে ফেনীর মুহুরী নদীর পানি। এদিকে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলায় ১৯টি পয়েন্ট দিয়ে পানি প্রবেশ করে দুই উপজেলার পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কোহিনুর আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, এর আগে গত মাসে দুই দফা ভাঙনের কবলে পড়ে তীরবর্তী এলাকা।
উজানের ঢলে বৃদ্ধি পেয়েছে তিস্তা নদীর পানি। বুধবার সকাল থেকে তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে বিপদসীমার মাত্র ৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ পুর্বাভাস ও সর্তকীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম জানান, বুধবার সকাল ৬ টায় ডালিয়ার তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানি ৫২ দশমিক ৫৫ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয় (বিপদসীমা ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার)। এছাড়াও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। যে কোন সময় তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে জানান এই কর্মকর্তা। পানি বৃদ্ধির কারনে দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
এদিকে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নীলফামারীর ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলার তিস্তা চর বেস্টিত গ্রামগুলোতে পানি প্রবেশ করছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা।