পশ্চিম বঙ্গের নগরিক শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রি খুলনা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের ডি ম্যান

শুক্রবার, ৬ জুলাই, ২০১৮ ৪:১৫:৫০ অপরাহ্ণ
0
153

বেল্লাল হোসেন সজল,খুলনা থেকেঃ
পশ্চিম বঙ্গের নগরিক শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রি খুলনা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের ডি ম্যান । আর এই ডি-ম্যানের চাকুরী করে একের পর এক অনিয়ম দূর্ণীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক বনে গেছেন । নিজের স্ত্রী থাকার পর তার রয়েছে সুন্দরী রক্ষীতা । সম্প্রতি বয়রা পূজা খোলা মোড়ে রক্ষিতা সুজাতার ঘরে অনৈতিক কার্যকালাপ অবস্থায় স্থানীয় যুবকরা হাতে নাতে আটক করে মারধর করে । শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রি পূজা খোলা মন্দির কমিটির সাধারন সম্পাদক থাকাকালীন মন্দিরের অর্থ নিজের পকেস্থ করার দায়ে তাকে কমিি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয় । খুলনা জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসের ডি- ম্যান শ্যামল কৃষ্ণ সেটেলমেন্ট অফিসে ভুমি সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে বিভাগের বিভিন্ন জেলার সাধারন মানুষ আসেন তাদেরকে ভোগান্তিতে ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা । পশ্চিম বঙ্গের নাগরিক পরিচয় পত্র এবং রেশন কার্ডধারী ও বাংলাদেশের ভোটার তালিকা ভুক্ত হয়ে কি ভাবে এ দির্ঘ সময় শ্যামল ও তার স্ত্রী সরকারী চাকুরীতে এখনো বহাল রয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার সহকর্মীরা ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নগরীর ছোট বয়রাস্থ পুজাখোলা মন্দির এলাকার কৃষ্ণ কান্ত মিস্ত্রি ছেলে শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রি বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের নাগরিক। বাংলাদেশে তার ভোটার আইডি নাম্বার ১৯৬৩৪৭৯৮৫১৭২৪১৮১২ এবং ভারতের নির্বাচন কমিশনের পরিচয় পত্র নম্বর টডঘ০৩৬৩০৬৯ এইটা প্রথমে ছিলো বার্তমানে তার ভারতের পশ্চিম বঙ্গের ঠিকানা পানিহাটি থেকে হস্তান্তর করে বারাসাত যাওয়ায় ভারতের নির্বাচন কমিশনের পরিচয় পত্র নম্বর জছখ২০২৮২২৩ এবং সিরিয়াল নম্বার-৪০৭। ভারতে বসবাসের ঠিকানা প্রথমে ছিলো ৩৯০ ঠাকুর নিত্য গোপাল রোড, পানিহাটি খরদহ উত্তর ২৪ পরগণা ৭০০১১৪। বর্তমানে তিনি পশ্চিমবঙ্গেও ২৪ পরগনার বারাসাত কাজী পাড়ার পাল পাকুরিয়ায় প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বীতল ভবন নির্মান করেছেন এবং সেখানে সার্বক্ষনিক তার বড় ভাই এবং সেঝ ভাই অবস্থান করেন। শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রি ভারতে নিয়মিত যাওয়ার জন্য যে পাসর্পোট ব্যাবহার করেন সে পাসপোটিও নন-গর্ভারমেন্ট এবং সরকারী চাকরীজীবী হওয়া সত্বেও তিনি পাসপোটে পেশা হিসেবে ব্যাবসায়ী উল্লেখ করেছেন । যার পাসপোর্ট নন্বর-এ এ ৩৬৯৫৯০০ । যার ব্যাবসায়ীক ঠিকানা ছিল খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে শুভ মেডিকেল হলের প্রোপাইটর । আর এই শুভ মেডিকেল হল ছিল তার স্ত্রী ভারতী রায়ের খুমেক এর নার্স থাকাকালীন চোরাই ঔষুদ বিক্রির স্পট । বর্তমানে ভারতী রায় শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত রয়েছেন । পুজা খোলায় শ্যামল ও ভারতী রায়ের নামে বে-নামে রয়েছে প্রচুর ব্যাংক ব্যালেঞ্চ ও ভু-সম্পত্তি । সম্প্রতি বয়রা বাজারের প্রত্যাশা প্লাজায় তার মৃত ছোট ভাই অনিমেষ কৃষ্ণ মিস্ত্রির ক্রয়কৃর্ত মেট্রোডিজিটাল স্টুডিওর পজিশন জনৈক ফকরুল নামক ব্যাক্তির কাছে প্রতারনা করে শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রি বিক্রি করে প্রায় ১৫লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় । তার এই প্রতারনা খেসারত দিচ্ছে তার মৃত ভাই অনিমেষের স্ত্রী ও সন্তান । প্রতারনার মাধ্যমে পজিশন বিক্রিও কথা জানা জানি হলে শ্যামল তার মৃত ভাই অনিমেষের স্ত্রী ও সন্তানকে বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিয়ে যাচ্ছ । সু-চতুর শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রী ২০১৬ সালে ডুমুরিয়ায় চাকরী করা অবস্থায় তৎকালীন ডুমুরিয়ার সেটেলমেন্ট অফিসারের স্বাক্ষর জাল করে অপকর্মের মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন । তার এ সিন্ডিকেটের কাজ ছিল একজনের জমি অফিসারের স্বাক্ষর জাল করে অন্যজনের নামে রেকর্ড করিয়ে দেয়া । এ কাজ করতে যেয়ে তিনি হাতে নাতে ধরাপরেন এবং চাকরী থেকে সাময়িক বরখাস্থ হন । কিন্তু পরবর্তী সেটেলমেন্টের তদন্ত কমিটিকে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করে চকুরীতে পূনবহাল হন । চকুরীতে পূনবহাল হলেও থেমে থাকেনি তার অপকর্মেও মাধ্যমে অর্থ উর্পাজন । তার পুত্র শুভ,স্ত্রী ভারতী রায় ও শ্যামলের ব্যাংকে কালো টাকা ও ভারতী রায়েরও দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করার প্রমান পাওয়া যাবে । শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রীর নন-গর্ভারমেন্ট এবং সরকারী চাকরীজীবী হওয়া সত্বেও তিনি পাসপোটে পেশা হিসেবে ব্যাবসায়ী উল্লেখ করার বিষয়ে কথা হয় খুলনা আঞ্চলিক পাসপোট অফিসর সহকারী পরিচালক আবু সাইদ এর সাথে । তিনি বলেন সরকারী চাকরীজীবী হয়ে নন-গর্ভারমেন্ট পাসপোর্ট ব্যাবহার আইনত দন্ডনীয় অপরাধ । এ ধরনের অপরাধে যারা জরিত তাদের উদ্দেশ্য ভিন্নতা রয়েছে বলেই তারা সরকারী চাকরীজীবী হয়ে নন-গর্ভারমেন্ট পাসপোর্ট ব্যাবহার করেন । তিনি জানান ,আমারা সু-নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ঠ ব্যাক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে ।

এ বিষয়ে শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রির সাথে হলে তিনি বলেন, কিছু কুচক্রী মহল আমার ফাসানোর জন্য এই ধরনের প্রোাগান্ডা ছড়াচ্ছে। তার কাছে নাগরিকত্বের প্রমান দেখালে তিনি বলেন,কেহ আমার ছবি নিয়ে ভারতে ভোটার তালিকা ও আদার কার্ড তৈরি করছে । ভারতের নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইটে আপনার পরিচয় পত্র দেখাচ্ছে জানালে তিনি কোন মন্তব্য না করে হঠাৎ উত্তেজিত কন্ঠে বলেন ,আমার উপর মহলে হাত আছে । এ সব লিখে কোন কিছুই করতে পারবেন না আমাকে যান লেখেন । পশ্চিমবঙ্গ সরকার রেশন কার্ডে উল্লেখ আছে শ্যামল কৃষ্ণ মিস্ত্রি -পিতা , কৃষ্ণ কান্ত মিস্ত্রি,গ্রাম ,পাল পাকুরিয়া,বারাসাত,উত্তর ২৪ পরগুনা,রেশন অঞ্চল-১৯,কার্ড নং-এল-আর=৭ যার ক্রমিক নং-৮৫১৯৪২

উল্লেখ,বাংলাদেশ নাগরিকত্ব আইন-২০১৬ অনুযায়ি সুপ্রিমকোর্টে বিচারক, জাতীয় সংসদের সদস্য, সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ব্যক্তি, সশস্ত্র বাহিনী বা প্রজাতন্ত্রের কোনো বেসামরিক পদে নিয়োজিত ব্যক্তিরা দ্বৈত নাগরিকত্ব গ্রহণ করতে পারবেন না। আর দ্বৈত নাগরিকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জাতীয় সংসদের সদস্যপদে নির্বাচন, রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন, বিচারকসহ প্রজাতন্ত্রের কোনো কাজে নিয়োগলাভ বা কোনো রাজনৈতিক সংগঠন করতে পারবেন না। পাশাপাশি মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য প্রদান বা তথ্য গোপন করে এ আইনের অধীনে নাগরিকত্বসংক্রান্ত অপরাধের জন্য অপরাধী অনধিক পাঁচ বছরের কারাদন্ড বা অনধিক এক লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডে দন্ডিত হবেন।